বৃহস্পতিবার , ৯ ডিসেম্বর ২০২১


কাবুলের রাস্তায় ভিক্ষা করছেন নারীরা




ফটো নিউজ ২৪ : 09/10/2021


-->

কোনও দেশের ভেঙে পড়া হয়ত এমন: হাজারো নারী একটি সারিতে দাঁড়িয়ে আছে, এবং আরেকটি সারিতে হাজারো পুরুষ। তীব্র গরমে সবাই একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিচ্ছে সামানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। কারণ নিউ কাবুল ব্যাংক হঠাৎ করে চালু হয়েছে এবং তাদের সঞ্চয় তোলার সুযোগ দিচ্ছে।

শৃঙ্খলা বজায় রাখার ন্যূনতম যে ব্যবস্থা সেটির মধ্যে রয়েছে কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা উপস্থিত আছে। কয়েকজন যোদ্ধা তাদের কালাশানিকভ রাইফেলে হাত বুলাচ্ছে মসৃণভাবে। ধীর গতিতে মানুষের সামনে আগানোর চেষ্টার দিকে নজর রাখছে তারা।

নিউ কাবুল ব্যাংকের বাইরের এই দৃশ্য কট্টর ইসলামপন্থী তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কেটে যাওয়ার সাত সপ্তাহের একটি খণ্ড চিত্র। ব্যাংকের পাশের রাস্তায় মানুষের কাছে কোনও টাকা নেই, তবে আছে অনেক আগ্নেয়াস্ত্র। কয়েক ঘণ্টা না খেয়ে মানুষের বাড়ছে ক্ষুধা এবং ক্ষোভ। সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর এক সদস্য জানান, গত ৫ দিন ধরে ব্যাংকের সামনে সারিতেই তিনি ঘুমাচ্ছেন।

নারীদের কর্মস্থলের বদলে বাড়িতে থাকতে বলেছে তালেবন। কিন্তু ব্যাংকের সারিতে দাঁড়াতে কিংবা রাস্তায় ভিক্ষা করছেন নারীরা। প্রকাশ্যে তারা তালেবানের নির্দেশ অমান্য করছেন।

৫০ বছর বয়সী শিক্ষিকা মালালাই পপোজাই। তিনি জানান, তার পরিবার বাধ্য হয়েছে গত মাসে টিভি ও ফ্রিজ বিক্রি করে দিতে। এরপরও সকালের নাস্তায় তাদের পরিবার শুধু রুটি ও চিনি ছাড়া চা পান করেছে। চিনি কেনার মতো টাকা নেই তাদের। তিনি বলেন, সকাল ৭টা থেকে এখানে আছি আমি। আমরা এখানে প্রতিদিন আসি। তালেবান আসার পর আমার কোনও টাকা পাই। এখন বাড়িতে আমার তিন সন্তান অপেক্ষা করছে মা তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসবে।

আফগানিস্তানে বেশিরভাগ নারী উপার্জিত পরিবারের অবস্থা প্রায় পপোজাইয়ের মতো। তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে হয়ত তারা কেউ ছিলেন শিক্ষিকা বা নার্স। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ন্যাটো দুই দশকে যে শত কোটি ডলার ব্যয় করেছে তার ফলশ্রুতি এই মধ্যবিত্ত আফগান নারী সমাজের উদ্ভব হয়েছে।

নীল রঙের হিজাব পরিহিত সেবা নামের ২০ বছর বয়সী মেয়ে কাজ করতে জার্মানির অর্থায়নকৃত একটি এনজিওতে। তিনি বলেন, বিশ্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আফগানিস্তান ও নারীদের সহযোগিতা করবে। কিন্তু তারা আমাদের দুর্ভোগে রেখে চলে গেছে।

সেবার মতো কয়েক ডজন নারী জানিয়েছেন ১৫ আগস্ট তালেবান ক্ষমতা দখলের পর তাদের জীবন কতটা বদলে গেছে। তারা নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করছে। অনেকেই নিজে ও পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। নারীদের কষ্টার্জিত অধিকার খর্ব করা হয়েছে। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করা প্রজন্ম এখন দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছে। যারা পালাতে পারেনি তাদের মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কা বেপরোয়া মনোভাব আরও বাড়ছে।

ছয় সন্তানের মা ও একজন বিধবা আরিয়া সিদ্দিকী তালেবানের ক্ষমতা দখলের আগে তাখার প্রদেশের একজন নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন। তিনি জানান, তার তাঁবুতে ১৭ জন মানুষ রয়েছেন। সর্বশেষ খাবার হিসেবে তিন সদস্যের একটি পরিবার পেয়েছে দুই টুকরো রুটি। তাও আবার চারদিন আগে। তাখারে গ্রামের বাড়িতে গেলে আগের পেশার জন্য তালেবান তাকে হত্যা করবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

তার কথায়, ‘এখানে কোনও খাবার, কোনও সাহায্য পাওয়া যাচ্ছেন, কিছুই নেই এখানে।’

তালেবানের এক মুখপাত্র আনামুল্লাহ সামানগনি জানান, তালেবান কোরানের কঠোর ব্যাখ্যা দ্বারা দেশ পরিচালনায় অটল। কিন্তু এবার ১৯৯৬-২০০১ সালের তুলনায় ভিন্ন হবে। বিশ্বের উচিত তালেবান সম্পর্কে মনোভাব পরিবর্তন করা।

তিনি বলেন, আমরা একুশ শতকে বাস করছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পশ্চিমাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়। সূত্র: গ্লোব অ্যান্ড মেইল


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com