শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১


রাস্তায় পচা চামড়ার স্তূপ




ফটো নিউজ ২৪ : 23/07/2021


-->

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে কোরবানির পশুর চামড়া আসতে শুরু করেছে রাজধানীর অদূরে পোস্তায়। একদিকে চকবাজার অপরদিকে লালবাগ এলাকায় পৌঁছালেই নাকে আসে পচা চামড়ার গন্ধ। সামনে এগুতে থাকলে এ গন্ধ আরও প্রকট হয়। গত বছরের তুলনায় এবার চামড়ার সরবরাহ বেশি হলেও ছাগলের চামড়া ও গরুর মাথার চামড়া বিক্রি করা যায়নি। ফলে দূর থেকে যারা বিক্রির উদ্দেশ্যে ছাগলের চামড়া বয়ে এনেছেন, তারা তা বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে গেছেন। অন্যদিকে এ বছর পোস্তায় কোনও ব্যবসায়ী আসেননি গরুর মাথার চামড়া কেনার জন্য। এ ঘটনা এবারই প্রথম। ফলে বিক্রির জন্য মূল চামড়া থেকে মাথার চামড়া আলাদা করে রাখলেও তা বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে রেখেছেন। ফলে পোস্তার রাস্তা এখন ছাগল ও গরুর মাথার চামড়ায় সয়লাব।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর পোস্তায় সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলা দায়। হাঁটাও সম্ভব নয়। কারণ স্তূপ হওয়া পচা চামড়ার উপর দিয়ে যানবাহন চালানো সম্ভব নয়, অপরদিকে তা পেরিয়ে হাঁটাও দুষ্কর। স্থানীয়রা এর মধ্য দিয়েই চলাফেরা করছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর চামড়ার দাম কিছুটা বেশি। প্রতি পিস চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে কিনেছেন তারা। এ বছর সর্বোচ্চ ৭ শ এবং সর্বনিম্ন ১০০ টাকা দিয়ে ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া কিনেছেন। এর উপর এই চামড়ায় মাখাচ্ছেন লবণ। এতে আরও যুক্ত হচ্ছে ৩ শ টাকা। এর পরই এগুলো পোস্তার আড়তে সংরক্ষিত করে রাখা হবে কয়েক দিন বা মাসখানেক। এর পরেই তা ফুট হিসেবে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করবেন তারা।

জানতে চাইলে ক্ষুদ্র আড়ৎদার শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, রাজধানীতে কোরবানি হওয়া পশুর চামড়া সবই এসে গেছে। শুক্রবার (২৩ জুলাই) আসছে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের চামড়া। এগুলোই কিনছি। দাম গত বছরের তুলনায় এক দেড় শ টাকা বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বছর সর্বোচ্চ ৬ শ টাকা দিয়ে প্রতি পিস চামড়া কেনা হলেও এ বছর তা কিনতে হচ্ছে ৭ শ থেকে সাড়ে ৭ শ টাকা দিয়ে। লবণ মাখায় আরও খরচ হচ্ছে ৩ শ টাকা। ফলে প্রতি পিস চামড়ার দাম গড়ে এক হাজার টাকার কম-বেশি পড়ছে। এগুলোই কিছু দিন পরে ট্যানারি মালিকদের কাছে ফুট হিসেবে বিক্রি করা হবে। আশা করছি এ বছর ব্যবসা ভালো হবে।

আরেক ব্যবসায়ী শামুদ্দিন জানিয়েছেন, অন্য বছর ছাগলের চামড়া এখানে বেচা-কেনা হলেও এ বছর ছাগলের কোনও চামড়া বেচা-কেনা হয়নি। কারণ কোনও ব্যবসায়ী এখন আর ছাগলের চামড়া কিনতে চান না। লেবাররাও এখন আর ছাগলের চামড়ায় লবণ মাখাতে রাজি হন না। কারণ দাম কম। তিনি জানিয়েছেন, এ বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস ছাগলের চামড়া কিনেছেন ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা দিয়ে। এর সঙ্গে লবণ মাখাতে খরচ হয় আরও ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এতে একটি ছাগলের চামড়ার দাম পড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু লবণ মাখানো একটি ছাগলের চামড়া ৩০ টাকার বেশি দিয়ে কেউ কিনতে রাজি না হওয়ায় তা ফেলে দিয়ে চলে গেছেন। তবে যারা গরুর চামড়ার সঙ্গে ছাগলের চামড়া এনেছেন, তাদের গরুর চামড়া যে ব্যবসায়ী কিনেছেন তাকে তা ফ্রি দিয়ে চলে গেছেন।

পোস্তার সব রাস্তায় মাথার চামড়া কেনো পড়ে আছে‑ জানতে চাইলে আড়ৎদার সাব্বির মিয়া জানিয়েছেন, অন্য বছর মাথার চামড়া কেনার লোক থাকলেও এ বছর মাথার চামড়া কেনার কোনও লোক নেই। ফলে আমরা যারা পুরো চামড়া কিনেছি, তারা মূল চামড়া থেকে মাথার চামড়া আলাদা করে রাখলেও তা বিক্রি করতে না পেরে পচন ধরার আগেই তা ফেলে দিয়েছি। এ ছাড়া আর উপায় কি? কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, যারা মাথার চামড়ার ব্যবসা করতেন তারা অনেকেই মারা গেছেন। অনেকেরই পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। অনেকের পুঁজি বাকি হিসেবে পড়ে আছে। বর্তমানে ক্যাশ টাকা নাই। তাই এ বছর আর কেউ এ ব্যবসা করছে না।

অন্যান্য বছর বিক্রির জন্য চামড়া নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর অদূরে লালবাগের পোস্তায় এবং আমিনবাজার ব্রিজের ওপারে। রাজধানীতে যে সব মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া সংগ্রহ করেছেন তারা অনেকেই নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চামড়া বেচার জন্য সেখানে নিয়ে যাচ্ছেন। করোনা ও ব্যবসা মন্দার বিষয়টি মাথায় রেখে যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ী সকাল থেকে রাজধানীর মহল্লা ঘুরে চামড়া কিনেছেন তারাও তাদের চামড়া বিক্রির জন্য পোস্তা ও আমিন বাজার ছুটছেন। রাজধানীতে পোস্তা হচ্ছে কাঁচা চামড়া কেনার সবচেয়ে বড় বাজার। এখানে কাঁচা চামড়া বিক্রি হয় সারা বছর। তবে কোরবানির ঈদের দিন বিকেলের পর থেকে রাজধানীর অদূরে আমিন বাজার ব্রিজের গোড়ায়ও বসে কাঁচা চামড়ার অস্থায়ী বাজার। এ বাজার চলে কোরবানির ঈদের পরের দিন পর্যন্ত।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনার কারণে বাংলাদেশে এক কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছে, তবে তার আগের বছর কোরবানির সময় এক কোটি ৬ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকায় এ বছর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সূত্র- বাংলাট্রিবিউন।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com