বুধবার , ২৮ জুলাই ২০২১
  • প্রচ্ছদ » ফিচার » মিয়ানমারে সেনা সরকার আসার পর থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া


মিয়ানমারে সেনা সরকার আসার পর থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া




ফটো নিউজ ২৪ : 12/07/2021


-->

মিয়ানমারে সামরিক সরকার আসার পর বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত গতি হারিয়েছে। গত ৫ মাসে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তৎপরতায় ধীরগতির কথা উল্লেখ করেন।

রবিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মিয়ানমারে সেনা সরকার আসার পর থেকে রোহিঙ্গা বিষয়ে প্রকাশ্য কোনও কাজ হচ্ছে না। তবে জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সামিটে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। একইসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রোহিঙ্গা বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

অবশ্য বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত আছে।’

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ থমকে গেছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অং সান সুচি’র নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। এ সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পূর্বনির্ধারিত ৪ ফেব্রুয়ারির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি স্থগিত হয়। গত ৫ মাসেও ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠানের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এদিকে সুচি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর যে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা কিছুটা ভাটা পড়েছে।

জুন মাসে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একদিকে এ সংকটের সমাধান চাওয়ার কথা বলছে, অপরদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করে চলেছে। এ দ্বৈতনীতি হতাশাজনক।’

এদিকে গত ২৩ জুন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নবম মস্কো সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নিজে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সহায়তার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে প্রায় চার বছর আগে মিয়ানমারের ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিককে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হলে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দেয়। এরা বাংলাদেশ ও গোটা অঞ্চলের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু, এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আশ্রয় দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

এর আগে ১৮ জুন মিয়ানমারের জনগণের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়। তবে ওই প্রস্তাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনও পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়নি। তাতে বলা হয়নি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্থায়ীভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে স্বভূমিতে ফেরত যাওয়ার জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও।

এ কারণে গত ২০ জুন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অসন্তোষ প্রকাশ করে।

জাতিসংঘের ওই প্রস্তাব পাসের সপ্তাহখানেক আগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। ১৫ জুন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি: সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের অবস্থা’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল আলোচনায় দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল মোমেন এ পর্যন্ত কার্যকর কোনও সমাধান না হওয়ায় আক্ষেপও প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ আহ্বানের প্রতিফলন মিয়ানমার ইস্যুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসে দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com