সোমবার , ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » খেলা » ভারত অধিনায়কের এমন আচরণ মানতে পারছেন না অনেকেই


ভারত অধিনায়কের এমন আচরণ মানতে পারছেন না অনেকেই




ফটো নিউজ ২৪ : 14/01/2022


-->

বিরাট কোহলি কতটা ভালো ব্যাটসম্যান, এ নিয়ে সংশয় কখনোই ছিল না। তবে মাঠে বিরাট কোহলির আচরণ নিয়ে ক্রিকেটদুনিয়া সব সময়ই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। কারও চোখে সেটি তাঁর আগ্রাসী ক্রিকেটের পরিচায়ক, তাই সেটি সমর্থনযোগ্য। আবার কেউ বলেন, কোহলির ব্যাট তাঁকে ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে দিলেও এমন আচরণ তাঁকে মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে দেবে না।

সেই বিতর্ক আরও বেশি করে উসকে গেল গতকাল কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে। রিভিউর সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে মাঠের স্টাম্প মাইকে এসে যাচ্ছেতাই বলে যান কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে জেতাতে স্বাগতিকদের সম্প্রচারমাধ্যম সুপারস্পোর্ট অন্যায় করছে, এমনই ছিল কোহলির অভিযোগের সুর! তবে ভারত অধিনায়কের এমন আচরণ মানতে পারছেন না ভারত ও ভারতের বাইরের অনেকেই।

ভারতের সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীরের চোখে, কোহলির এমন ‘অপরিপক্ব’ আচরণ তাঁকে কখনো কারও ‘আদর্শ’ হয়ে উঠতে দেবে না। আর দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান ড্যারিল কালিনানের বিরক্তি, কোহলি বহুদিন ধরে এমন অযাচিত আচরণ করেও পার পেয়ে আসছেন!

কেপটাউনে গতকাল তৃতীয় দিনে ভারতের দেওয়া ২১২ রানের লক্ষ্যে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১তম ওভারে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডিন এলগারকে মাঠের আম্পায়ার এলবিডব্লু দিলেও রিভিউতে দেখা যায়, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলটি স্টাম্পের ওপর দিয়েই যেত। কিন্তু রিভিউর সেই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি কোহলি।

কিছুক্ষণ পর স্টাম্পের কাছে যান, স্টাম্পে মাইক লাগানো থাকে জেনেই স্টাম্পের সামনে মুখ নিয়ে বলতে থাকেন, ‘তোমাদের দল যখন বল উজ্জ্বল করে, সেদিকেও নজর দিয়ো। শুধু প্রতিপক্ষের দিকে তাকালে চলবে না। সব সময়ই অন্যকে আটকানোর ধান্দা!’ ২০১৮ সালের মার্চে কেপটাউনেই অস্ট্রেলিয়ার বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে টিভি ক্যামেরায়। সেদিকেই ইঙ্গিত করে খোঁচাটা মেরেছেন কোহলি।


শুধু কোহলিই নন, ভারতের পুরো দলই যে রিভিউতে এলবিডব্লু না দেওয়াকে বাঁকা চোখে দেখছে, সেটির প্রমাণ হয়ে আসে এই সিরিজে ভারতের সহ-অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের কথা। তিনি বলে বসেন, আফ্রিকার পুরো দেশই নাকি ভারতের ১১ জনের বিপক্ষে খেলছে!

কিন্তু রিভিউর সিদ্ধান্তটা তো এসেছে হক-আইয়ের মাধ্যমে, যেটি কিনা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। সেটির নিজস্ব আলাদা ক্যামেরাও আছে। এমন একটা প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে কোহলিদের বিষোদগার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গৌতম গম্ভীর। স্টার স্পোর্টসে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন কোহলিকে, ‘খুব খারাপ হলো। কোহলি যেটা করেছে, এভাবে স্টাম্প মাইকের সামনে গিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো…খুবই শিশুতোষ কাজ হলো। একজন আন্তর্জাতিক মঞ্চের অধিনায়কের কাছ থেকে, ভারতের অধিনায়কের কাছ থেকে এমনটা আশা করা যায় না।’

সিদ্ধান্ত পক্ষে না যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ডিন এলগার এমন করেননি জানিয়ে গম্ভীর বললেন, ‘আপনি যা-ই বলুন না কেন, যতই বলুন ও কলজেটা হাতে নিয়ে খেলে…এমন প্রতিক্রিয়া আসলেই বাড়াবাড়ি। এভাবে করে কেউ অন্য কারও আদর্শ হতে পারে না। কোনো উঠতি ক্রিকেটার এমন কিছু দেখতে চাইবে না, বিশেষ করে ভারতের অধিনায়কের কাছ থেকে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান ড্যারিল কালিনানও ক্রিকইনফোতে বেশ বিরক্তি জানিয়েছেন কোহলির এমন আচরণে। ‘এটাই তো সব সময়ের কোহলি, অস্পর্শনীয়। যা মন চাইবে তা-ই করবে সে। বাকি ক্রিকেট বিশ্ব সব সময় কোহলির সামনে নতজানু। ভারতের পাওয়ার হাউস সে। বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু বছরের পর বছর এমনটাই হয়ে আসছে। ভারত আর ভারতের হয়ে খেলা যেকোনো ক্রিকেটারের সামনে সবার নিচু হয়ে থাকার আরেকটা উদাহরণ। ওদের কেউ ছুঁতেও পারবে না। সবাই হয়তো এখন তাই হেসেই উড়িয়ে দেবে ব্যাপারটাকে (কোহলির গতকালের প্রতিক্রিয়া)’—ক্রিকইনফোতে বলেছেন কালিনান।

কোহলির আগ্রাসী আচরণ মেনে নিয়েও কালিনান বলছেন, ‘আমি কোহলিকে পছন্দ করি। ওর ক্রিকেট পছন্দ করি। যেভাবে খেলে, সেটি ভালো লাগে। কিন্তু একটা সীমা থাকা দরকার, যেখানে কেউ বলবে, “এটা পার করলে তোমাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।” বিশ্বাসই হচ্ছে না ওরা এমন কিছু করার কথা ভাবতেও পারে। অপ্রত্যাশিত এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বিরাট অনেক দিন ধরেই পার পেয়ে আসছে। কিন্তু ও তো কোহলিই (এ কারণেই কেউ কিছু বলে না)। এই ব্যাপারটাই আমার পছন্দ নয়।’


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com