রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » অপরাধ » বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ
    রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিমের পরিবার


বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিমের পরিবার




ফটো নিউজ ২৪ : 11/11/2021


-->

রাজধানীর বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ জনকে বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) খালাস দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিমের পরিবার। অন্যদিকে রায়ে সংক্ষুব্ধ রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস প্রদান করেন।

সাফাত ছাড়া অপর আসামিরা হলেন, সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম, সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মেদ জানান, ‘এই মামলার রায়ের পর একজন ভিকটিমের মায়ের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনি রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। আমি উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

রায় সম্পর্কে ফারুক আহাম্মদ জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে মামলাটি মিথ্যা নয়। মিথ্যা হলে ট্রাইব্যুনাল ভিকটিম বাদীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের নির্দেশ দিতেন। মূলত সঠিক তদন্ত না হওয়ায় আজ এমন রায় হলো। যার কারণে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা করেছেন।

ঘটনার অনেক দিন পর মেডিক্যাল হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিকভাবে ধর্ষণের আলামত আসবে না। তাই এ মামলায় পারিপার্শ্বিক সাক্ষী ও আসামিদের স্বীকারোক্তিই ভরসা ছিল।

এদিকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছি। অভিযোগ প্রমাণে আমাদের কোনও গাফিলতি ছিল না। তারপরও আদালত আসামিদের খালাসের আদেশ দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ।

এর আগে, গত ১২ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিচারক অসুস্থ থাকায় পরবর্তী রায় ঘোষণার জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। কিন্তু ওই দিন সিনিয়র আইনজীবী বাসেত মজুমদার মারা যাওয়ায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

গত ৩ অক্টোবর মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষ হয়। গত ২২ আগস্ট একই আদালতে আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

২০১৭ সালের ৬ মে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই বছর ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ওই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে সাফাত তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দুজনকে আমন্ত্রণ জানালে তারা সম্মত হন। আমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে তাদের বলা হয়েছিল, বড় একটি অনুষ্ঠান হবে, অনেক লোকজন থাকবে। ঘটনার রাতে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাদের দুজনকে বনানীর ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা অন্য কোনও লোকজন দেখতে পাননি। কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন না দেখে তারা চলে যেতে চাইলেও আসামিরা তাদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। তাকে মারধর করে। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে হোটেলের একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় সাফাত তার গাড়িচালককে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে বলেন। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধরও করেন।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com