বৃহস্পতিবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১


এখনও বহুদূরের পথ অলিম্পিক




ফটো নিউজ ২৪ : 23/07/2021


-->

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস হবে কিনা সংশয় ছিল। কিন্তু করোনার প্রভাবের মধ্যেও গত এপ্রিলে দেশব্যাপী এই ক্রীড়াযজ্ঞ শেষ পর্যন্ত হয়েছে। ২৯টি ডিসিপ্লিনে ৫ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছেন। নতুন প্রতিভার সঙ্গে রেকর্ডও হয়েছে প্রচুর। ভারোত্তোলন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও সাইক্লিংসহ অন্য ডিসিপ্লিনে উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের আবির্ভাব কম হয়নি। কিন্তু দেশের প্রতিযোগিতায় রেকর্ডের ছড়াছড়ি হলেও বাইরে যে পারফরম্যান্স ঠিক উল্টোটি! এক দক্ষিণ এশিয়ান গেমস (এসএ) গেমসে পদক জিততে অনেক সময় গলদঘর্ম হতে হয়। সেখানে এশিয়ান গেমস কিংবা অলিম্পিকের মতো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় পদক জেতা তো দূর আকাশের তারা ছোঁয়ার মতো!

একটি উদহারণ না দিলেই নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তীর এই সময়ে এসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন ক্রীড়াবিদ সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে! আর বাকিরা অংশ নিয়েছেন ‘সৌজন্যতায়’, অর্থাৎ ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে।

এর মধ্যে দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অংশ নিয়ে বলার মতো কিছু করতে পারেননি। আর অন্যজন দেশসেরা আর্চার রোমান সানা। আজ (শুক্রবার) থেকে শুরু হওয়া টোকিও অলিম্পিক গেমসে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন ভালো কিছুর সূচনায়।

আদতে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের কাছে অলিম্পিক এখনও বহুদূরের পথ। আধুনিক অলিম্পিকের জনক ফ্রান্সের ব্যারন পিয়েরে ডু কুবার্তিনের সেই আপ্তবাক্য আবারও লিখতে হয়- ‘অংশগ্রহণই বড় কথা, জয় বড় নয়।’ এই বাণী এখনও বাংলাদেশের বেলাতে বেশ যায়।

অলিম্পিকের মতো বিশ্ব সেরা ক্রীড়াযজ্ঞে অংশ নিতে গেলে যেমন প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার সেভাবে যে সবকিছু হয় না। দেখা গেছে অ্যাথলেটিকস, সাঁতারসহ অন্য ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদরা নামকাওয়াস্তে প্রস্তুতি নিয়েই সেখানে অংশ নিচ্ছেন।

না আছে তাদের দেশে ভালো প্রস্তুতি, না আছে বিদেশে। যদিও ইদানিং অলিম্পিকের বৃত্তি নিয়ে খেলোয়াড়রা বাইরে উচ্চতর প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন। কিন্তু আদতে সেভাবে ভালো ফলও হচ্ছে না। আর হবেই বা কীভাবে? অলিম্পিকের মতো গেমসে পদক পেতে হলে একজন ক্রীড়াবিদকে যেভাবে তৈরি করতে হয়, সেটা হচ্ছে না।

ভারোত্তোলনের উদাহরণ দিলেই পরিস্কার হবে সবকিছু। প্রায় সারা বছর ভারোত্তোলকরা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তাদের নিজস্ব এক চিলতে জায়গায় অনুশীলন করে থাকেন। কিন্তু সেখানে না আছে ভালো পরিবেশ, না আছে ঠিকমতো অনুশীলন করার মতো যন্ত্রপাতি। গরমে তো জেরবার অবস্থা হয়ে দাঁড়ায়।

তাই তো এসএ গেমসে টানা দুটি সোনা জেতা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত পরিতাপের সুরেই বলে থাকেন, ‘এই অঞ্চলের বাইরে গিয়ে আমরা সাফল্য যে বয়ে আনবো, তার জন্য তো সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। উন্নতমানের কোচের পাশাপাশি অনুশীলনের ভালো ভেন্যুও দরকার। ভারোত্তোলকদের ভালো সুবিধাদিও দিতে হবে। শুধু ভারোত্তোলনই নয়, যে কোনও ডিসিপ্লিনে ভালো করতে হলে তাদের পেছনে যে বিনিয়োগটা করার দরকার, সেটা কি সবাই করছে?’

হতাশার পিঠে আনন্দের খবর হলেন রোমান সানা। আর্চারিতে ভালো করছেন। অলিম্পিকে তাকে নিয়ে আশা কম নয়। আর্চারি ফেডারেশন রোমানদের পেছনে উন্নতমানের বিদেশি কোচ ও আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি অন্য দিকও দেখছে। সারা বছরই থাকছেন তারা অনুশীলনে। সেই ফলও পাচ্ছে ফেডারেশন।

আর্চারির এই পথচলা হতে পারে বাংলাদেশের অলিম্পিক যাত্রার নকশা। বড় মঞ্চে ভালো করতে হলে দেশের খেলাধুলার খোলনলচে পাল্টে ফেলা ছাড়া বিকল্প আছে কি?


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com