বৃহস্পতিবার , ১৫ এপ্রিল ২০২১


বড় বাড়ি আর দামি গাড়ির মালিকদের আয়ের উৎসর সন্ধানে নেমেছে এনবিআর




ফটো নিউজ ২৪ : 30/03/2021


-->

অভিজাত এলাকার বড় বড় বাড়ি আর দামি গাড়ির মালিকদের আয়ের উৎসর সন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ করতে ১১ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সম্প্রতি এক বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘দামি গাড়ি ব্যবহারকারীদের অর্থের উৎস দেখা হবে। করজাল বড় করতে গাড়ি-বাড়ির মালিকদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে কিছু কাজ আমরা এরই মধ্যে করে ফেলেছি। মূলত দেখা হবে, গাড়ির মালিক কারা? এই মালিকরা রিটার্ন দাখিল করেন কি না। রিটার্নে গাড়ির তথ্য উল্লেখ করেছেন কি না। দামি গাড়ি ব্যবহারকারীদের অর্থের উৎস কী—এসব এনবিআর দেখবে।’ একই বৈঠকে বাড়ির মালিকদের সম্পর্কে চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার অনুযায়ী মালিকদের চিহ্নিত করা হবে। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মেলানো হবে। বড় বাড়ির মালিকদেরও আয়ের উৎস সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, একটি নির্দিষ্ট এলাকার বড় বড় বাড়ি চিহ্নিত করে ওই বাড়ির মালিকের আয়ের উৎস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বের করে তথ্য জানা হবে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) কর্মকর্তারা ওই সব মালিকের ব্যাংকের লেনদেন এবং রিটার্নে দেওয়া তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবেন। একইভাবে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকের আয়-ব্যয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাবে সামঞ্জস্য পাওয়া না গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় আরো বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।

এনবিআর করনীতি শাখার সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাড়ির মালিকদের অনেকে প্রভাবশালী। অনেকে প্রভাবশালী না হলেও সমাজের প্রভাবশালীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। হিসাবমতো রাজস্ব আদায়ে এনবিআর কর্মকর্তারা হাজির হলে রাজস্ব ফাঁকিবাজ বাড়ির মালিকরা প্রভাবশালীদের তদবির সুপারিশ করিয়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম থামিয়ে দিয়ে থাকেন। এবার এ বিষয়ে এনবিআর কঠোরভাবে কাজ করছে।’

করোনাকালীন অর্থনৈতিক সংকটে গত অর্থবছরের শেষ হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজস্ব ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা ছিল। এমন পরিস্থিতিতেও ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার্য করা হয়। সর্বশেষ হিসাবে এনবিআরের ঘাটতি ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে তিন লাখ ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থবছরের শেষ হিসাবে ঘাটতি এড়াতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব, এমন সব খাতের তালিকা করে আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এসব খাতের মধ্যে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে প্রথম এনবিআর বাড়ির মালিকদের রাজস্ব পরিশোধের তথ্য দেখতে অভিযানে নামে। সে সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের আভিজাত এলাকার এক লাখ ১১ হাজার ২০০ বাড়ির মালিকের রাজস্ব পরিশোধের তথ্য খতিয়ে দেখে বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়। করযোগ্য আয় থাকলেও ৩৮ হাজার ৭০০ বাড়ির মালিকের টিআইএন (সে সময়ে ইটিআইএন চালু হয়নি) পাওয়া যায়নি। টিআইএন না থাকা বাড়ির মালিকদের ২৯ হাজারই বাড়িভাড়ার সনদ দেখাতে ব্যর্থ হন। যাঁদের টিআইএন ছিল কিন্তু বাড়িভাড়ার রসিদ ছিল না, তাঁদের সংখ্যা ৩৬ হাজার। এসব বাড়ির মালিক তাঁদের প্রকৃত আয় গোপন করতেই বাড়িভাড়ার তথ্যে অনিয়ম করেছেন বলেও এনবিআরের তদন্তে নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে গত বছর বিআরটিএ থেকে ৮৯১ বিলাসবহুল গড়ির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েও বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়। এনবিআরের তদন্তে দেখা যায়, এসব গাড়ির প্রায় অর্ধেকই ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে নিবন্ধন নিয়েছে। এই কাজে বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। এসব গাড়ির কোনো তথ্যই রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি এক হাজার কোটি টাকার বেশি। বিলাসী গাড়ির মধ্যে আছে অডি, জাগুয়ার, বিএমডাব্লিউসহ বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি। এনবিআর সূত্র জানায়, এই খাতে শুল্ক-কর মিলিয়ে ধার্য করা আছে সর্বোচ্চ ৮২২ শতাংশ। গাড়ি নিবন্ধনের সময় বা গাড়ি নিবন্ধন নবায়নের সময়ে রাজস্ব পরিশোধের বিধান আছে। আবার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্নেও ব্যবহৃত গাড়ির তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। কোটি টাকা দামের এসব গাড়ি ব্যবহারকারীদের প্রত্যেকেই সম্পদশালী। রাজস্ব ফাঁকি এবং নিজের প্রকৃত আয় গোপন করতেই এসব গাড়ির তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোটি টাকা দামের গাড়ি বা বাড়ির মালিক হন, তিনি অবশ্যই সুপারট্যাক্স গ্রুপের করদাতা। এই ব্যক্তির জন্য নিয়মিত করের সঙ্গে সারচার্জও দিতে হবে। রিটার্নে গাড়ি ও বাড়ির প্রকৃত তথ্য উল্লেখ না করার অর্থই হলো নিজের আয়ের উৎস গোপন করা এবং কর ফাঁকি দেওয়া। এ বিষয়ে এনবিআরকে কঠোর হতে হবে।’


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com