সোমবার , ১৭ মে ২০২১


স্বাধীনতা সংগ্রামের চাইতেও দেশ গড়া বেশ কঠিন




ফটো নিউজ ২৪ : 08/01/2021


-->

‘স্বাধীনতা সংগ্রামের চাইতেও দেশ গড়া বেশ কঠিন। দেশ গড়ার সংগ্রামে আরো বেশি আত্মত্যাগ, আরো বেশি ধৈর্য, আরো বেশি পরিশ্রম দরকার। আমরা যদি একটু কষ্ট করি, একটু বেশি পরিশ্রম করি, সবাই সৎপথে থেকে সাধ্যমতো নিজের দায়িত্ব পালন করি, সবচেয়ে বড় কথা, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি- তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি ইনশাআল্লাহ কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা আবার সোনার বাংলায় পরিণত হবে।’ ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে এভাবেই দেশ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর ৪৮ বছর পর জাতির পিতার সেই আহ্বানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারই উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেছেন, আমরা অনেক দূর এগিয়েছি সত্য। আরো বহু দূর যেতে হবে। হতে পারে সে গন্তব্য পথ মসৃণ, হতে পারে বন্ধুর। বাঙালি বীরের জাতি। পথ যত কঠিনই হোক, আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে। আমরা যদি পরিশ্রম, সততা, দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে সফলকাম হবই- ইনশাআল্লাহ।

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ৩০ মিনিটের ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও রেডিও সরাসরি সম্প্রচার করে। ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে অভিনন্দন ও খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০২১ সালের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ করোনায় মৃতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

সরকার দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনায় গত বছর আমরা গভীর সংকট অতিক্রম করেছি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও উপর্যুপরি বন্যা অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সেসব ধকল আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে কাটিয়ে উঠেছি। কিন্তু করোনা সংকট থেকে বিশ্ব এখনো মুক্ত হয়নি। আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অনেক কম। এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। আমরা দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ টিকা দেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে আমরা বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশে^র বুকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিই। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সে প্রচেষ্টায় ছেদ পড়েছিল। ২০০৯ সালে আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাই। গত ১২ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০২০ সালের প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশ বশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালে হবে উচ্চ আয়ের সমৃদ্ধশালী-মর্যাদাশীল দেশ। আমরা ২০২১ সালের আগেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পথনকশা তৈরি করেছি।

তিনি বলেন, চলতি মেয়াদে ১ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দারিদ্র্যের হার ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসবে। উন্নয়নের অগ্রাধিকারে থাকা ১০টি উদ্যোগ বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের অর্থনীতি সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে। বিজয়ের মাসে পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান বসানো হয়েছে। এতে দেশের দক্ষিণাঞ্চল সারাদেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছর যানচলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে রেললাইন বসানো হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেলের ৬২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

টানা এক যুগ সরকার পরিচালনার কথা তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গত এক যুগে আমরা কী করেছি, তা মূল্যায়নের ভার আপনাদের। ২০০৯ সালের আগে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। আমরা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছি। ১৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সব ঘর আলোকিত হবে।
বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশে^ ধান উৎপাদনে চতুর্থ থেকে তৃতীয় স্থান উন্নীত হয়েছি। মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। অব্যাহত নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার কারণে এ বিপ্লব সাধিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সব গ্রামে পাকা সড়ক নির্মাণ করেছি। পল্লী এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৫৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ৩ লাখ ৭৬ হাজার ব্রিজ-কালভার্ট, ১ হাজার ৬৮৫টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ৯৩৬টি সাইক্লোন সেন্টার এবং ২৪৯টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছি। ৪৫৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। আরো ৬৬১ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতের কাজ চলছে। ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হবে। ৪২৮টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। যমুনা নদীর ওপর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিমানবহরে ১২টি নতুন অত্যাধুনিক বোয়িং এবং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ সংযোজিত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। মানুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৬ বছরে উন্নীত হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ নেই। অনলাইন ও টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। নতুন বছরে বই দেয়া হয়েছে। সব ধরনের উপবৃত্তির পাশাপাশি মুজিববর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ১ হাজার টাকা করে কিট অ্যালাউন্স দেয়া হবে। ১৮ হাজার ৪৩৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ ৫০ হাজার।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আজ চোখে পড়ার মতো। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতার এ বৈদেশিক নীতি মেনে আমরা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে এই মুহূর্তে শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভাষানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার বসবাস উপযোগী উন্নত মানের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে শুধু স্ব-ইচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাঠানো হচ্ছে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

উন্নয়নের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কিছু অসাধু মানুষ নানা কৌশলে জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক আর যত শক্তিশালীই হোক, তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে না এবং হবে না। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে। আইনের শাসন সমুন্নত রেখে মানুষের নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতে আমরা সব কিছু করব। আমরা কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদের উত্থান প্রতিহত করেছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষে সারা দেশে ১ কোটি ১৫ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৬৫ হাজার ৭২৬টি ঘর তৈরির কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৪ হাজার গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ইউনেস্কো সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে জাতির পিতার নামে একটি পুরস্কার চালু করেছে। আগামী ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ না থাকলে আমরা সাড়ম্বরে এ অনুষ্ঠান উদযাপন করব, ইনশাআল্লাহ। একই সঙ্গে চলতে থাকবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা। বাংলাদেশের মানুষের সৌভাগ্য এবং আওয়ামী লীগের জন্য গর্বের বিষয় যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। ১৯৯৭ সালে রজতজয়ন্তী উদ্যাপনকালেও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল বা গোষ্ঠী স্বাধীনতার এ মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখার তাগিদ অনুভব করবে না।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com