শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্ফোরণের আগে পুরো মসজিদটি মিথেন গ্যাসের চেম্বারে পরিণত হয়েছিল


বিস্ফোরণের আগে পুরো মসজিদটি মিথেন গ্যাসের চেম্বারে পরিণত হয়েছিল




ফটো নিউজ ২৪ : 06/09/2020


-->

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে চারটি সংস্থা।

রবিবারও দিনভর মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন স্থাপনা, আলামতসহ বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্তদলের সদস্যরা তাদের তদন্তকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা বলছেন, আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে ১৭টি বিষয়কে আমরা প্রাধান্য দিয়ে তদন্তকাজ চালাই। তবে মসজিদে আগুন লাগা ও বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে গ্যাস জমে যাওয়ার ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়েই তাঁরা তদন্ত করছেন বলে জানান।

তবে নাশকতার বিষয়টিকেও তাঁরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তাঁরা জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, এখানে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি এবং এ থেকে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেনি।

তদন্তকারী সংস্থার কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণের আগে পুরো মসজিদটি মিথেন গ্যাসের চেম্বারে পরিণত হয়েছিল। এই গ্যাস মূলত মাটির নিচ থেকে উদগিরণ হয়ে ধীরে ধীরে মসজিদে জমা হয়েছে। পুরো মসজিদটি থাই গ্লাসে আটকানো বিধায় সেগুলো বাইরে নির্গত হতে পারেনি এবং এর ঘনত্বও ছিল বেশি।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, মিথেন গ্যাসের কণা প্রচুর লাফালাফি করে। যে কারণে মসজিদের ভেতরে মানুষগুলোর নাকমুখ দিয়ে গ্যাস প্রবেশ করে তারা একেকজন অজানা গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় যেই মাত্র লাইন চেঞ্জ করেছে, তখনই ন্যানো সেকেন্ডেরও কম সময়ে স্পার্ক হয়ে বিস্ফোরণসহ আগুন ধরে গেছে মসজিদে। আর এই আগুন মসজিদের ভেতরে নামাজরত প্রতিটি মুসল্লিকে প্রায় সমানভাবে অগ্নিদগ্ধ করেছে। কেননা তাদের নাকেমুখে, শ্বাসনালিতেও মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি ছিল। যে কারণে সবারই শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

ইলেকট্রনিক সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইসাব) সহসভাপতি মো. মঞ্জুর আলম তাঁদের পর্যবেক্ষণ শেষে বলেন, মসজিদে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার মূল কারণ হচ্ছে নির্গত গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি, যেখানে মিথেন গ্যাসের আধিক্য ছিল। গ্যাস জমতে জমতে মসজিদটি একসময় বিশাল গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, যেটা আঁচ করতে পারেননি মুসল্লিরা। এই গ্যাস শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মুসল্লিদেরও নাকে-মুখে ও পেটে প্রবেশ করেছিল। বৈদ্যুতিক লাইন চেঞ্জ করতে গিয়ে ন্যানো সেকেন্ডেরও কম সময়ে স্পার্ক হলে পুরো ঘরে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগে যায়। আগুন সব মুসল্লিকেই প্রায় সমানভাবে দগ্ধ করে এবং প্রত্যেকেরই ইনহেলিশন বার্ন হয়।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের হেডকোয়ার্টারের মো. নূর হাসান কালের কণ্ঠকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতরে আগুন লাগেনি মন্তব্য করে বলেন, জমে যাওয়া গ্যাস থেকেই মসজিদের ভেতরে আগুন লেগেছে। আর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় যখন মুয়াজ্জিন ম্যানুয়ালি লাইন পরিবর্তন করেছেন, তখনই চোখের পলকে স্পার্ক থেকে পুরো মসজিদে আগুন লেগে যায়।

তিনি বলেন, তার পরও আমরা আগুন লাগার পেছনে কোনো ধরনের নাশকতা আছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখছি। তিনি বলেন, মসজিদের ভেতরে এভাবে বৈদ্যুতিক বোর্ড লাগানো ঠিক হয়নি। আবার সেই বোর্ড খোলা রাখাও নিরাপদ ছিল না।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com