রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » ঐশী খানের ‘করোনাভাইরাসমুক্ত’ সনদ ভুল হয়েছিল ল্যাব থেকে!


ঐশী খানের ‘করোনাভাইরাসমুক্ত’ সনদ ভুল হয়েছিল ল্যাব থেকে!




ফটো নিউজ ২৪ : 27/07/2020


-->

সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খানের নমুনা পরীক্ষার পর প্রথমে ‘ভুল করে’ করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার বলেছে, তিন ঘণ্টার মধ্যে ওই ভুল সংশোধন করে করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ লেখা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামসুজ্জামান সোমবার এ কথা বলেন ।

করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ লেখা সেই প্রতিবেদন নিয়ে ঐশী রোববার দুপুরে লন্ডনের ফ্লাইট ধরতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে তথ্য যাচাইয়ে সত্যতা না মেলায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ওই ভুল রিপোর্ট দেওয়ার কারণে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঐশী খান, যা তার বাবা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান নিজে গিয়ে দিয়ে এসেছেন।

ইংল্যাণ্ডের কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ঐশী গত ২০ ফেব্রুয়ারি দেশে আসার পর করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আটকা পড়েন। আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তার ফেরা বিলম্বিত হয়।

এখন আবার ফ্লাইট চালু হওয়ায় রোববার দুপুরে বিমানের একটি ফ্লাইটে তার লন্ডনে ফেরার কথা ছিল।

বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে বিদেশযাত্রায় এখন কোভিড-১৯ পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’ সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় গত ২৪ জুলাই মহাখালীতে ডিএনসিসি আইশোলেশন সেন্টারে গিয়ে তিনি নমুনা দেন। ২৫ জুলাই কেরোনাভাইরাসমুক্ত সনদ পাওয়ার পর তা নিয়ে তিনি রোববার বিমানবন্দরে যান।

কিন্তু বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ পাসপোর্ট নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে তাদের সার্ভারে ঐশীর রিপোর্ট যাচাই করে দেখতে পায় তার দেওয়া সনদের সঙ্গে সার্ভারের প্রতিবেদনের মিল নেই। ঐশীর সনদে করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ লেখা থাকলেও সার্ভারে তার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’, অর্থাৎ তিনি এ ভাইরাসে আক্রান্ত।

ফলে সাবেক নৌমন্ত্রীর মেয়ের বিদেশে যাওয়া আটকে যায় এবং বিষয়টি রোববার সংবাদমাধ্যমে বড় খবরের জন্ম দেয়।

ডিএনসিসি আইশোলেশন সেন্টারে ঐশীর নুমনা সংগ্রহ করার পর তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে। সেখান থেকেই তার পরীক্ষার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল আইশোলেশন সেন্টারে, যা নিয়ে তিনি বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।

ইনস্টিটিউটের পরীক্ষায় ঐশীর করোনাভাইরাস ধরা পড়লেও প্রথমে ভুল করে ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট চলে গিয়েছিল জানিয়ে সরকারি এ সংস্থার পরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান সোমবার বলেন, পরে তারা সঠিক প্রতিদবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) পাঠিয়েছিলেন।

তিনি জানান, প্রতিদিনের রিপোর্টগুলো তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন এবং ডিএনসিসির বুথের ইমেইলে পাঠিয়ে দেন। বিদেশগামী যাত্রীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ওই রিপোর্ট ইমেইল করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় এমআইএসের সার্ভারে ওই রিপোর্ট আপলোড করা হয়।

যাত্রীরা ডিএনসিসির আইসোলেশন সেন্টার থেকে তাদের রিপোর্ট নিয়ে নেন। ইনস্টিটিউট সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে রিপোর্ট দেয় না।

“স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতিতে আমাদের নমুনা পরীক্ষা শেষ করতে দেরি হচ্ছিল। অনেক কাজ জমে গিয়েছিল। এর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আমাদের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ভুল করে ঐশী খানের রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ হিসেবে রেকর্ড করেন।

“পরে ওই শিটের ভিত্তিতে আমরা রিপোর্ট জেনারেট করি। আমাদের একজন অফিসার তাতে সাইন করে দেন। সেটা ইমেইল করে দেওয়া হয় ইমিগ্রেশন আর ডিএনসিসির বুথে।”

অধ্যাপক শামসুজ্জামান জানান, দ্বিতীয়বার সবগুলো রিপোর্ট এমআইএসের সাইটে আপলোড করার সময় ‘ভুলটি’ ধরা পড়ে।

“ভুল সংশোধন করে দ্বিতীয়বার আমরা ডিএনসিসির বুথ, ইমিগ্রেশনের ইমেইল পাঠাই। অন্যদিনের মত রাতে এমআইএসের সার্ভারে আপলোডও করা হয়। এটা সবার কাছে আছে।”

তিনি বলেন, প্রথম যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল, সেটাই ঐশী খান ডিএনসিসির বুথ থেকে সন্ধ্যার দিকে সংগ্রহ করেন।

“সে কারণে উনার সাথে ওই নেগেটিভ রিপোর্ট ছিল। আমরা দ্বিতীয় মেইলে সংশোধিত রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম রাত সাড়ে ৯টায়। সেটার কপি উনার কাছে ছিল না। এ কারণে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে দুই তথ্য মেলেনি।”

কোন পর্যায়ে কীভাবে ওই ‘ভুল’ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, “খতিয়ে দেখে আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এদিকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ‘ভুল রিপোর্ট’ দেওয়ার ঘটনায় সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঐশী খান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মো. আক্কাস আলী জানান, শাজাহান খান নিজে গিয়ে মেয়ের লিখিত অভিযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের কাছে দিয়ে আসেন। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনও অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে ঐশী বলেছেন, করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ তার মধ্যে ছিল না।

“রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় পরিবারের সকল সদস্যের সঙ্গে স্বাভাবিক চলাফেরা করেছি। আমার পিতা সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাতবারের নির্বাচিত এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খানের সঙ্গে একই গাড়িতে বাসা হতে বিমানবন্দরে যাতায়াত করেছি, যার ফলে আমার পিতাও করোনা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে আমিসহ পরিবার দুশ্চিন্তায় আছি।

“তাছাড়া আমার এই রিপোর্ট নিয়ে ইতোমধ্যে আমার বাবা সম্পর্কে বিভিন্ন মিডিয়াতে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার হওয়াও আমার পিতার সম্মানহানি হয়েছে, যা অমার্জনীয় অপরাধ।”

এই ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের তদন্ত করে চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুরোধ করেছেন ঐশী খান।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com