মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান ডিইউজের


গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান ডিইউজের




ফটো নিউজ ২৪ : 13/05/2020


-->

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মরত সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ অনুদান প্রদান ও তাদের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। আজ বুধবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নির্বাহী পরিষদের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শহর ও মফস্বল অঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহ করছে। ইতিমধ্যে তিনজন সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের পেশা, তবুও দুঃখজনকভাবে আজ তাদের অনেককে বিনা বেতনে কাজ করতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক এই পরিস্থিতিতেও করোনা আক্রান্ত সাংবাদিকদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি। এই অবস্থায় সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থাসহ অন্য বিষয়গুলো কার্যকর করতে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ভার্চ্যুয়াল এই সভায় অন্যদের মধ্যে সহসভাপতি শাহীন হাসনাত, বাছির জামাল, রাশেদুল হক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজু, কোষাধ্যক্ষ গাজী আনোয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দিদারুল আলম, প্রচার সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসাইন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল কালাম, জনকল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, দপ্তর সম্পাদক ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর অংশ নেন।

সভার প্রস্তাবনায় বলা হয়, এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং দৈনিক পত্রিকার শতাধিক সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

কয়েকজন এরই মধ্যে সুস্থও হয়ে উঠলে অনেকেই চিকিৎসাধীন। করোনাকালে সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল অনেক ক্ষেত্রেই সেটা নিশ্চিত করা যায়নি। কিছু সংবাদমাধ্যম কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ করে দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই তা করতে পারেনি। তেমনি মাঠের কাজে নিয়োজিতদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাকও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উভয় ক্ষেত্রেই বিনিয়োগেরও প্রয়োজন। করোনার কারণে সংবাদমাধ্যম শিল্পে যে মহাআর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে সেটাও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।

সভার আরেক প্রস্তাবনায় বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের জন্য ইতিমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের এই সংকটকালীন সময় দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন-পুলিশ ও প্রজাতন্ত্রের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রয়োজনমতো ঝুঁকি ভাতা পাবেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যু হলে তার পরিবার পদমর্যাদা অনুসারে এককালীন বিশেষ অর্থ সহায়তা পাবেন। থাকবে বীমার ব্যবস্থাও। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রের আনুকূল্য পাবেন এটা অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু সাংবাদিক কিংবা গণমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করোনা পরিস্থিতিতে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা নেই। নেই প্রণোদনা। নেই তাদের পেশাগত নিরাপত্তা। সাংবাদিকদের জন্য নেই আর্থিক, সামাজিক, নিরাপত্তা। মানুষের কাছে দেশের বিদেশের সর্বশেষ খবর তৈরি করে পাঠক-শ্রোতাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেন যে মিডিয়া কর্মীদের ব্যাপারের সরকারের এই উদাসিনতা অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজের নানা অসঙ্গতি যারা তুলে ধরে সুন্দর একটি সমাজ গড়ে তুলতে যারা কাজ করে যাচ্ছেন সেই সাংবাদিকদের প্রতি অবজ্ঞা শুধু অমানবিকই নয় লজ্জারও।

সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ স্তম্ভের মর্যাদা আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবী এখনো অপূর্ণই রয়ে গেলো।

সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেগুলো হলো-

১. গণমাধ্যমে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে,পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সংবাদকর্মীদের বকেয়াসহ চলতি মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা প্রদান করতে হবে।

২. করোনাকালে চাকরিচ্যূতদের চাকরিতে পূর্ণবহাল করতে হবে।

৩.করোনা মহামারির সময়ে প্রত্যেক গণমাধ্যম মালিককে কর্মরত সংবাদকর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. কোনও সংবাদকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গণমাধ্যম মালিককে বহন করতে হবে। পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত সংবাদকর্মীর পরিবারের দেখভাল করতে হবে।

৫. করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনও সংবাদকর্মী মৃত্যুবরণ করলে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রয়াত সংবাদকর্মীর পরিবারকে নগদে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৬. করোনাকালে সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ আর্থিক অনুদান, ঝুঁকি ভাতা ও চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

৭. সাংবাদিকদের জন্য বীমার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. দেশের এই দূর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে তথ্য প্রবাহ সচল রাখতে গণমাধ্যমের সংকটের কথা বিবেচনা করে গণমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অনুদান দিতে হবে।

৯. বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর কর‍তে হবে। বিশেষ করে গত চার বছর ধরে যে সব সংবাদপত্রে মোবাইল ফোন কোম্পানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে অঘোষিত নিষধাজ্ঞা চলে আসছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিওসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা।

১০. সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন, রেডিওসহ সব গণমাধ্যমে বেসরকারি খাতের বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল দ্রুত পরিশোষের ব্যবস্থা করতে হবে।

১১. গণমাধ্যমের সব কর দুই বছরের জন্য স্থগিত করতে হবে এবং টেলিভিশনের জন্য স্যাটেলাইট ফি ৬ মাসের জন্য স্থগিত রাখতে হবে।

১২.বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট মওকুফ করতে হবে।

১৩. সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে মিডিয়ার স্বাধীনতা বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

১৪. প্রবীণ সাংবাদিক, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, ফটোসাংবাদিক শহিদুল ইসলাম কাজলসহ গ্রেফতারকৃত সকল লেখক সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজি, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

১৫. বন্ধ মিডিয়া খুলে দিতে হবে।

১৬. পক্ষপাতহীনভাবে বেকার সাংবাদিকদের তালিকা করে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

১৭. বয়স্ক, অসচ্ছল, সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য রেশন কার্ড বরাদ্দ দেয়া হোক। এ তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব মেনে নেয়া হবে না ।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com