বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২০


ঢাকার রাস্তায় বেড়েছে মানুষ ও যানবাহনের চাপ




ফটো নিউজ ২৪ : 06/05/2020


-->

কাওরান বাজার-ফটোনিউজ২৪ (ডালিম)

মরণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ভয়ের চেয়ে চাকরি হারানোর ভয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভীত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু হয়েছে। খুলেছে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

চাকরি বাঁচাতে আবার মানুষ ছুটে আসছে ঢাকায়। যারা বাসায় অবস্থান করছিলেন তারা এখন অবলীলায় রাস্তায় নেমেছেন। ফলে রাজধানী ঢাকা আবার সচল হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নগরীর প্রতিটি সড়কে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও যানবাহনের চলাচল বহুগুণে বেড়েছে। যানবাহনের চাপের কারণে গতকাল ঢাকার কোনো কোনো ট্রাফিক সিগন্যালে মৃদু যানজটও লক্ষ্য করা গেছে।

লকডাউন শিথিল করায় ঢাকার রাস্তায় গত কয়েকদিন ধরে প্রাইভেট কার, পিকআপ ভ্যান, সিএনজি, রিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল ব্যাপকহারে বেড়েছে। ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকগুলোও এখন প্রধান সড়কে অবলীলায় চলাচল করছে। দিনের বেলায় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা এখন আর মানা হচ্ছে না। রাত-দিন অবাধেই রাস্তা দাপিয়ে ৫ টনের ট্রাক চলছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি সিগন্যালে যানবাহনের মৃদু যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকেও এই সিগন্যালে যানবাহনের চাপ থাকায় ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। কোনো কোনো রাস্তায় ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটে। গণপরিবহন চলাচল শুরু করলেই ঢাকা আবার পুরোদমে সচল হয়ে উঠবে। গত কয়েকদিন মোহাম্মদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল পর্যন্ত কয়েকটি বিআরটিসির দোতলা বাস চলাচল করতে দেখা যায়। তবে সেগুলোতে যাত্রী অপেক্ষাকৃত অনেক কম ছিল। রাস্তাঘাটে চলাফেরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শিথিলতার কারণে এখন অনেকেই রাস্তায় নেমেছে।

ট্রাফিক সার্জেন্ট সাজ্জাদ জানান, গত এক সপ্তাহে রাস্তার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ব্যাপকহারে প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বেড়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের উপস্থিতিও বেড়েছে। এখন আমরা আর কাউকে থামাই না। বাইরে বের হওয়ার কারণও জানতে চাই না।

গত দুদিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখী মানুষের চাপ আরো বেড়েছে। সবগুলো ফেরিঘাটেই দেখা গেছে মানুষের ভিড়। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। হেঁটেই ঢাকায় ঢুকছেন তারা। বেশিরভাগ মানুষ বলছেন, ‘অফিস থেকে ফোন এসেছিল। তাড়াতাড়ি জয়েন্ট করতে বলেছে।’ গার্মেন্ট শ্রমিকদের চাপ সবচেয়ে বেশি। গুলশান, বনানী, মহাখালী, কারওয়ানবাজার, সেগুনবাগিচা এলাকার বেসরকারি অনেক অফিস খুলেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লোকজন অফিস করে বলেও জানা গেছে। পাড়া-মহল্লাসহ প্রধান সড়কের পাশের ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল খুলেছে।

বাসা থেকে লোকজন বের হওয়ায় এবং বাইরের জেলা থেকে ঢাকায় ফেরায় রাজধানীর বাজারগুলোতেও মানুষের ভিড় বেড়েছে। গতকাল কারওয়ানবাজার এলাকায় অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি মানুষের চলাচল দেখা যায়। একই সঙ্গে সব রাস্তাঘাটে হকার, ফলমূল ও সবজি বিক্রেতাদের পণ্য নিয়ে বসতে দেখা গেছে। মোহাম্মদপুর এলাকার ফল বিক্রেতা জুলহাস জানায়, ‘ঘরে বসে থেকে জমানো টাকা খাওয়ার পর ধারও করেছি। এখন আর পারি না। তাই আবার রাস্তায় নেমেছি। সন্তানদের খাবার দিতে না পারলে করোনার ভয়ে ঘরে থাকার যায় না।’

কারওয়ানবাজার এলাকার এক সবজি বিক্রেতা জানান, ‘করোনার ভয় করলে না খাইয়া মরতে হবে। আগে পুলিশ বাধা দিত। এখন আর কিছু বলে না।’ তাদের অনেকেই বলছেন, আগামী ১০ মে থেকে শপিংমল ও মার্কেটগুলো খুলবে। তখন মানুষ ও যানবাহনের চাপে আর লগডাউন থাকবে না। ১৬ এপ্রিল থেকে সাধারণ ছুটি আরো শিথিল হবে। গণপরিবহনও চলাচল শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকা সচল হবে।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com