বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২০


ভোগান্তি বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে!




ফটো নিউজ ২৪ : 14/04/2020


-->

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার নানা উদ্যোগ নিলেও বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিদিনই প্রি-পেইড মিটারের ব্যালান্স শূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। আর সেজন্য মহামারীর মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত গ্রাহক বিদ্যুতের বিল জমা দিতে ঢাকার ভেন্ডিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন।

নগরবাসীদের অভিযোগ, বিতরণ সংস্থা চাইলে আগে থেকে সব গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু এই মহামারীর সংকটেও তারা সে ব্যবস্থা না করে তারা গ্রাহকদের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

তবে বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, জরুরি মুহূর্তে ব্যালেন্স শূন্য হয়ে গেলে অভিযোগ জানাতে ওয়েবসাইটে বেশ কয়েকটি নম্বর দেওয়া আছে। এছাড়া বেশ কিছু পস (পয়েন্ট অব সেলস) মেশিন বসানো হয়েছে। সে দুটি উপায় ব্যবহার না করে বেশিরভাগ গ্রাহক ভেন্ডিং স্টেশনে ভিড় করছেন।

উত্তরার আজমপুরের বাসিন্দা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরান হোসাইন বলেন, রোববার সকালে তার এলাকার অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রিচার্জ স্টেশনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তারা বিল পরিশোধ করেছেন।

“করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে এমনটি কাম্য ছিল না। সংযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন না হয় সেরকম একটা ব্যবস্থা অবশ্যই করা যেত। তারা ইচ্ছে করেই কাজটি করেনি, যারা এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই কাজটি করেছে।”

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বাসার অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ করেছেন রাজধানীবাসী। এই পরিস্থিতির মধ্যেও বিদ্যুতের বিল দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জনসমাগমে অবস্থান করতে গিয়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন অনেক গ্রাহক।

গত সোমবার পুরান ঢাকার আজিমপুরে ডিপিডিসির একটি রিচার্জ সেন্টার থেকে ফেইসবুক লাইভে আসেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার। সেখানে দেখা যায়, শত শত মানুষ গায়ে গায়ে লেগে অন্তত তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থেকে প্রি-পেইড মিটারের বিল দিতে।

ডিপিডিসির গ্রাহক এই এলাকার বাসিন্দা আকরামুল মোমেন বলেন, রোববার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বাড়ির মালিক রিচার্জ বুথে গিয়ে দেখেন, শত শত মানুষ বিল দিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি সেখানে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর চলে আসেন।

“পরে আমি কার্ড নিয়ে বের হয়ে পরিচিত তিনটি ভেন্ডিং স্টেশনে গিয়ে দেখি সব জায়গায় লম্বা লাইন। পরে একটি ভেন্ডরের কাছে প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বিল দিতে পেরেছি।”

“লক ডাউন ও সামাজিক দূরত্বের এই সময়ে এমন পরিস্থিতি সত্যিই অনাকঙ্খিত। প্রি-পেইড কার্ডের মধ্যে থাকা জরুরি নাম্বারে ফোন দিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। যার কাছ থেকে রিচার্জ করিয়েছি তিনি এক হাজার টাকার বেশি রিচার্জ করাতে রাজি হননি। কারণ তার কাছে ব্যালেন্স কমে গিয়েছিল।”

তবে এই ক্ষেত্রে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে বেশ কিছু ফোন নম্বর দেওয়া হলেও সেগুলোতে ফোন করা হয়নি বলে স্বীকার করেন মোমেন।

প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন মোহাম্মদপুর মোহাম্মদীয় হাউজিংয়ের বাসিন্দা সাজিদুল হক। তিনিও বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিপিডিসি প্রকাশিত বেশ কিছু নাম্বারে ফোন না দিয়ে ভেন্ডর ও কার্ডের মধ্যে ছাপানো নম্বরে ফোন দিয়েছিলেন।

ঢাকার বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসির রয়েছে চার লাখ প্রি-পেইড মিটার। এর মধ্যে এক লাখ স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার। বাকি তিন লাখ নন স্মার্ট মিটারের গ্রাহকদেরকেই রিচার্জ করার জন্য ভেন্ডর, পজ মেশিন ও এজেন্টদের কাছে ধর্না দিতে হচ্ছে।

ঢাকায় ডেসকোর প্রায় তিনলাখ প্রি-পেইড মিটারের মধ্যে দুই লাখ ২৫ হাজার মিটারই স্মার্ট প্রিপেইড মিটার। যতদিন লকডাউন পরিস্থিতি চলবে ততদিন এসব মিটারে বিল সংক্রান্ত সমস্যা হবে না বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। বাকি যে ৭০ হাজার নন স্মার্ট মিটার রয়েছে এর গ্রাহকরাই কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানায় ডেসকো।

ডেসকোর প্রকৌশলী একেএম মহিউদ্দিন বলেন, এগুলোতেই গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সমস্যায় পড়ছেন। আমাদের অফিস বন্ধ থাকলেও পস (পয়েন্ট অব সেলস) স্টেশনগুলো খোলা থাকছে।

“আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া অভিযোগ নম্বর খোলা আছে, পস স্টেশনের ঠিকানাগুলো দেওয়া আছে। কিন্তু লোকজন এসব না দেখে কেবল রিচার্জ স্টেশনগুলোতেই ভিড় করছে। ফলে আপতদৃষ্টিতে একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ সরাসারি আমাদেরকে ফোন করলেও আমরা ডোর টু ডোর সমাধান করে দিচ্ছি। কিন্তু অনেকেই বিষয়টি করছে না।”

তিনি জানান, ডেসকোর নিজস্ব ১০টি রিচার্জ স্টেশন চালু আছে। এর বাইরে থার্ড পার্টির মাধ্যমে ২১টি ভেন্ডিং স্টেশন চালু রয়েছে ।

ডেসকোর ২ লাখ ৯১ হাজার প্রি-প্রেইড মিটারের মধ্যে দুই লাখ ২০ হাজারই স্মার্ট মিটার। এসব মিটারে হলিডে সুবিধা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বন্ধকালীন সময়ে। ফলে কারও টাকা শেষ হয়ে গেলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না।

আর ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক এটিএম হারুন অর রশিদ বলেন, “গ্রাহকদের মধ্যে আর সেবাদাতাদের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়ার সমস্যা হচ্ছে। সেকারণে অনেক গ্রাহককে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

“তবে আমাদের কাছে ফোন দিয়েছে কিন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি এমন কোনো উদাহরণ নেই। একটা একটা ক্রাইসিস মুহূর্ত। সবাই কিন্তু ঘরে, আমরা কিন্তু মাঠে আছি, কাজ করছি। অনেক জায়গায় ভেন্ডর হয়তো উপস্থিত থাকতে পারছেন না। কিন্তু আমাদের অনেকগুলো টেলিফোন নম্বর দেওয়া আছে। সেগুলোতে ফোন করলেই সমাধান মিলবে।

“বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রি-পেইড গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে প্রতিটি গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অগ্রিম পাঁচ হাজার টাকা লোড করে দিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আগে এই টাকা কেটে নেওয়া হবে। অচিরেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে কারোর আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।”

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (মানবসম্পদ) জয়ন্ত কুমার সিকদার (০১৭৩০৩৩৫০২৫) ও নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) এটিএম হারুন অর রশিদ (০১৭৩০৩৩৫০৭৯) এবং ডেসকোর প্রকৌশলী একেএম মহিউদ্দিন (০১৭১৩০২৪০৫৮) ও প্রকৌশলী জাকির হোসেন (০১৭১৩০৯০৫৯০) এর নম্বর আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে আরও কিছু কর্মকর্তা ও পস মেশিন এজেন্টের নাম্বার।

 

সূত্র-


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com