মঙ্গলবার , ৭ জুলাই ২০২০


ক্রেডিট কার্ড: জরিমানায় ছাড় পেলেও সুদ আরোপে গ্রাহকের ছাড় দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো




ফটো নিউজ ২৪ : 13/04/2020


-->

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে নির্ধারিত তারিখে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে ব্যর্থতার জন্য ‘লেট ফি’তে ছাড় দিলেও তাতে সুদ আরোপে গ্রাহকের ছাড় দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো। অতি সংক্রামক এই ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় চলমান লকডাউনের মধ্যে নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এদিকে অচলাবস্থার মধ্যে ব্যাংকের অনেক শাখাও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ৪ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারে নির্ধারিত তারিখে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ না করলে জুন পর্যন্ত সময়ে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো জরিমানা বা বাড়তি চার্জ না নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের বলেছিলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে দেশের মানুষ এখন জীবন বাঁচাতে ঘরবন্দি।… এ অবস্থায় ক্রেডিট কার্ডের জরিমানা বা বাড়তি চার্জ দেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

প্রতিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধের নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা নির্ধারিত আছে। কোনো গ্রাহক ওই সময়ের মধ্যে ন্যূনতম বিল পরিশোধ না করলে তাকে নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। এছাড়া অপরিশোধিত বিলের ওপর নির্ধারিত হারে সুদ আরোপ করা হয়।

এদিকে অন্যান্য সময়ের মতো এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ক্রেডিট কার্ডের বিলের পরিমাণ এবং তা পরিশোধের শেষ তারিখ জানিয়ে ব্যাংকের এসএমএস পেয়ে অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ‘লেট ফি’ বা জরিমানা ছাড় পাওয়ার এসএমএস পেয়েছেন ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা।

তবে নির্ধারিত তারিখে বিল পরিশোধ করতে না পারলে সুদ দিতে হবে কি না, সে বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশায় আছেন অনেকে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কৃষ্ণ কান্ত দত্ত বলেন, তার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংকের দুটো ক্রেডিট কার্ড আছে।

“ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক আমার ৪ এপ্রিলের লেট ফি বা জরিমানা মাফ করে দিয়েছে বলে এসএমএসে জানিয়েছে। আর সিটি ব্যাংক থেকে আমাকে জানিয়েছে, ৩১ মে পর্যন্ত লেট ফি বা জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে।”

একই তথ্য জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড-ইবিএলের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের কাছে।

এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকটির কল সেন্টারে ফোন করা হলে সেখানকার কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস প্রতিনিধি মোল্যা আব্দুল কাদের বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের বিলের ‘লেট ফি’ মওকুফ করা হয়েছে। তবে বিল পরিশোধের নির্ধারিত তারিখের পর থেকে বিলের ওপর সুদ আরোপ করা হবে।

ওই ব্যাংকের লেট ফি ও সুদ কীভাবে নির্ধারিত হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকায় লেনদেন করলে প্রতি মাসে যে বিল আসে তা অথবা ন্যূনতম অ্যামাউন্ট যেটা পরিশোধের জন্য এসএমএসে জানিয়ে দেওয়া হয় সেটা নির্ধারিত তারিখে পরিশোধ না করলে লেট ফি হিসেবে ৮০৫ টাকা কেটে নেওয়া হয়। এরপরে প্রতিদিন বকেয়া বিলের ওপর প্রতি হাজারে ৮০ পয়সার মতো করে সুদ আরোপ হতে থাকে। পরবর্তী মাসের বিল পরিশোধের তারিখেও তা দেওয়া না হলে বিগত মাসের সুদ আসলের সঙ্গে যোগ হয়ে পুরোটার উপর সুদ হতে থাকবে।

সুদ চলমান রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ইবিএলের কার্ডস ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রধান আহসান উল্লাহ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদশে ব্যাংকের নির্দেশনার সাথে সাথে জরিমানা মওকুফের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে সুদ চলমান আছে।”

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও বকেয়া বিলের ওপর সুদ আরোপের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “প্রায় সব ব্যাংক জরিমানা মওকুফের বিষয়টি বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু সুদ চলমান আছে। সুদ তো চলমান থাকবেই, এটা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর সার্কুলারে সুদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।”

তবে গ্রাহকরা বলছেন, সুদ আরোপ করা হলে তো লাভ হল না। তাহলে সুদ এড়াতে তো নির্ধারিত তারিখেই টাকা পরিশোধ করতে হবে।

সুদ দিতে হলে তা বাড়তি আরেক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন হাসান নামের একজন ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক।

তিনি বলেন, “ঢাকায় যেভাবে ভাইরাস সংক্রমণ হচ্ছে তাতে ঘর থেকে বেরোতেই ভয় লাগছে, কার কাছ থেকে সংক্রমিত হয়ে পড়ি। পাঁচ দিন আগে বাজার করেছি, সেগুলো দিয়ে আরও অন্তত পাঁচ দিন যাবে।

“ব্যাংকে গিয়ে বাড়ি ভাড়া দিতে হবে বলে বাড়িওয়ালাকে অনেক অনুরোধ করে রাজি করিয়েছি অবস্থা ঠিক হলে দেব বলে। নিতান্ত দায়ে না পড়লে ঘর থেকে বেরোব না। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের বিলের জন্য সুদ দিতে হলে তো সমস্যা। তাহলে আর কী ছাড় দেওয়া হল? নির্ধারিত তারিখের মধ্যে যদি বিল দিতেই হয় তাহলে তো লেট ফি মওকুফের প্রশ্নই আসে না।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সার্কুলারে তাহলে কী লাভ হল সেই প্রশ্ন তুলেছেন জেসন সাব্বির ঢালী নামে ইবিএলের আরেক ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক।

তিনি শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমিও ভেবেছিলাম বিল পরিশোধ না করলে ৩১ মে-এর পর যে কোনো সময় শুধু বিলের টাকা পরিশোধ করলেই হবে। কিন্তু এক বন্ধু সুদের বিষয়টি জানানোর পর বিকাশে অ্যাকাউন্ট খুলে গতকাল ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করেছি।

“আমার সাত হাজার টাকা বিলের জন্য বিকাশকে ৭০ টাকা দিতে হয়েছে। তাহলে যাদের ৫০-৬০ হাজার টাকা বিল তারা এভাবে দিতে গেলে কত টাকা লাগবে? আল্টিমেটলি লাভের লাভ তো কিছুই হল না। উল্টো বিভ্রান্ত হয়ে অনেককে বাড়তি সুদ গুণতে হবে।”

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে আগামী জুন পর্যন্ত কেউ ব্যাংক ঋণের কিস্তি না দিলে তাকে খেলাপি না করার বিষয়েও গত ১৯ মার্চ সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কিছু বিভাগ ছাড়া সব বন্ধ রাখা হয়। অনেক শাখাও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ সময়ে খোলা রাখা শাখা থেকে নগদ জমা, উত্তোলন, পে-অর্ডার ইস্যুসহ সীমিত আকারে কিছু লেনদেন চলছে। যে কারণে অনেক ইচ্ছা বা টাকা থাকলেও তার নির্ধারিত শাখায় গিয়ে হয়তো ক্রেডিট কার্ড বা অন্য যে কোনো বিল পরিশোধ করতে পারছেন না।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com