রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০


ভ্যাকসিন আসবে আগামী বছর




ফটো নিউজ ২৪ : 22/03/2020


-->

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস নিছক সাধারণ কোন ফ্লু ভাইরাস নয়। জিনের গঠন বদলে প্রতিনিয়ত এই ভাইরাস নিজের চরিত্রে বদলে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

তবে আশার আলো এটাই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, ইজরায়েল এমনকি ভারতেও এই মারণ ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার উপায় আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানী-গবেষকরা। কাজও এগোচ্ছে তরতরিয়ে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে মানবদেহে করোনা প্রতিষেধক টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে।

এবার অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সফল হয়েছেন। ২০২১ সালের মধ্যে এটি ব্যবহারের জন্য বাজারে আসতে পারে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। চলতি বছরের জুনেই এটা মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে।

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, দোহার্টি ইনস্টিটিউট এবং সিএসআইআরও’র গবেষকরা সম্মিলিতভাবে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে জানুয়ারি মাস থেকে কাজ করে আসছিলেন। অবশেষে তারা সফলতার মুখ দেখলেন।

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. কিথ চ্যাপেল বলেছেন, ‘ভ্যাকসিনটি ‘অসাধারণ ভাল’ ফলাফল দেখাচ্ছে ,তবে আমাদের এখনও অনেক পথ যেতে হবে। আমরা যতটা সম্ভব নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রাণীদেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচ্ছি।’

ড. চ্যাপেল বলেছিলেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হবে। গবেষকরা এই প্রোগ্রামটির জন্য স্বাস্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী সন্ধান করছেন। তাদের উপরে এটার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে। এ জন্য অতিরিক্ত এক কোটি ৭০ লাখ ডলার বরাদ্ধ রেখেছেন।

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল ইয়ং বলেছিলেন যে, ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলির পাশাপাশি ওষুধটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের কার্যক্রমও চলবে। সুতরাং ভ্যাকসিনটি অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি বাজারে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

সময়ের প্রয়োজনীতায় কখনও কখনও র‌্যাডিক্যাল আইডিয়ার প্রয়োজন হয়, বলছিলেন তিনি।

অধ্যাপক ইয়ং আরও বলেছেন, তারা আশা করছেন ২০২১ সালের মাঝামাঝি ভ্যাকসিনটি বাজারে পাওয়া যায়। হাতে ১২ মাস সময় আছে, এর মাঝে যতটা সম্ভভ আমরা এটাকে আরও নিঁখুত করার চেষ্টা করবো।

বিগত দিনে অন্যান্য ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনগুলি তৈরিতে কয়েক বছর, এমনকি কয়েক দশকও সময় লেগেছিল জানিয়ে অধ্যাপক ইয়ং বলেছেন, অনেকেই ১৮ মাসের মধ্যে একটি ভ্যাকসিন বাজারে আনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করছেন। এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে লক্ষণীয় হবে, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে যেন কোন ক্ষতি ডেকে না আনে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এত দ্রুততম সময়ে কোন ভ্যাকসিন তৈরি আগে কখনও হয়নি। তবে করোনার ভয়াবহতায় কারণে দ্রুততম সময়ে এটার ভ্যাকসিন অবশ্যই দরকার।’

কুইন্সল্যান্ড সরকার ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এক কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ফেডারাল সরকার এবং পল রামজি ফাউন্ডেশন প্রত্যেকে ৩০ লাখ ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে উৎপত্তির পর বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে, একই সঙ্গে তিন লাখের কোটা পার হয়েছে মোট আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মধ্যে ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com