মঙ্গলবার , ৭ জানুয়ারী ২০২০


তিন বছর ধরে ঝুলে আছে মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে




ফটো নিউজ ২৪ : 07/01/2020


-->

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্থলভাগের পাশাপাশি সাগরেও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সাগরে কী পরিমাণ তেল গ্যাস আছে তা নিয়ে জরিপ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ২০১৫ সালে মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করতে প্রথমবারের মতো দরপত্র আহ্বান করার তিন বছর পরও চুক্তি করতে পারছে না পেট্রোবাংলা।

সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র কেনার আগে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা দ্বিতীয় মাত্রার ভূকম্পন জরিপের ফলাফল চেয়ে থাকে। এজন্য দরপত্র আহ্বানের আগে একটি মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করা হয়। এতে উঠে আসে সেখানে সম্ভাব্য সম্পদ মজুদের তথ্য। এরপর বিনিয়োগকারী ওই তথ্যের ভিত্তিতে তৃতীয় মাত্রার জরিপ করে কূপ খনন করে থাকে।

এজন্যই ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভের জন্য দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। স্লামবার্জার নামে একটি বহুজাতিক কোম্পানি নির্বাচিতও হয়। এরপর তিন বছর পার হয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি পেট্রোবাংলা। যতবারই চুক্তি খসড়া জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে ততবারই নানা কারণ দেখিয়ে ফাইল ফেরত পাঠানো হয়েছে।

গত বছরের ৭ মে পেট্রোবাংলা টিজিএস-স্লামবার্জারকে চিঠিও দেয়। চিঠিতে স্লামবার্জারকে অ্যাওয়ার্ড নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিনিধিকে চুক্তির জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। স্লামবার্জার চাইলে এখন সুবিধাজনক কোনও সময়ে পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তি সই করার কথা। কিন্তু এরপর আর চুক্তি করতে পারেনি পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে পেট্রোবাংলার বোর্ডের অনুমোদন দিয়ে পাঠানো হয়েছে। পেট্রোবাংলা এমনভাবে খসড়া চূড়ান্ত করেছে যাতে করে কোনও কিছুই বাদ না পড়ে। যাতে দ্রুত চুক্তি অনুমোদন করে দিতে পারে জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু এখন পযন্ত তার কোনও অগ্রগতি নেই।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আমাদের সাগরে কী পরিমাণ তেল-গ্যাস রয়েছে তার সঠিক কোনও ধারণা নেই কারও কাছে। প্রাথমিক একটি ধারণা পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো তার ভিত্তিতে আগ্রহ দেখাতে পারতো। কিন্তু আমাদের এখানের কোন ব্লকে কি আছে না আছে তা কেউ জানে না। ফলে বারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও আগ্রহী বড় কোনও কোম্পানিকে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণেই মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে খুবই জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, সাগরে জরিপ কাজ অথবা সাগরে অনুসন্ধান কাজ কোনোটি সঠিকভাবে করা হচ্ছে না। নিজেদের দিক ঠিক করে চুক্তি করা গেলে আমদানি করা এলএনজির আর প্রয়োজন হতো না আমাদের। তিনি বলেন, আর এলএনজি আমদানি না হলে একদিকে গ্যাসের দামও বাড়তো না আর এখন বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর এই চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়তো না।

বর্তমানে কেবল স্থলভাগ থেকে দৈনিক দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এদিকে দেশের মোট গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার মিলিয়ন ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে ঘাটতি থাকছে এক হাজার মিলিয়ন মিলিয়ন ঘনফুট।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com