সোমবার , ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পাবলিক ট্রায়াল শুরু হয়েছে: পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক


মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পাবলিক ট্রায়াল শুরু হয়েছে: পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক




ফটো নিউজ ২৪ : 29/12/2019


-->

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পাবলিক ট্রায়াল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।

তিনি আরও বলেন, ‘‘পাবলিক ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে। এখন এই সমস্যা তাদের (মিয়ানমারকে) দীর্ঘদিন ভোগাবে। আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের শুনানিতে দুইশ’ বারের বেশি ‘মিয়ানমারে গণহত্যা’ শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে এবং মানুষ সেটি শুনেছে।’’

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) রোহিঙ্গা সমস্যা এবং দায়বদ্ধতা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একইসঙ্গে একই বিষয় নিয়ে মামলা চলছে। পাশাপশি আজেন্টিনাতেও মামলা চলছে, যা সামগ্রিক বিচারিক প্রক্রিয়াকে দৃঢ় করবে।’

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন তদন্তে জাতিসংঘের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেসটিগেশন মেকানিজম কাজ শুরু করেছে। ১৩৪টি দেশ এটি শুধু সমর্থনই করেনি, এর সঙ্গে এটি কার্যকর করার জন্য অর্থ সরবরাহের বিষয়েও একমত হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে অনেকে বলে থাকে- আমি তোমার সঙ্গে আছি, কিন্তু যখন অর্থ দেয় তখন বোঝা যায় প্রতিশ্রুতি কতটুকু শক্তিশালী।’

রোহিঙ্গা সমস্যঅর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার বিবাদ নয়, বরং এটি মিয়ানমার এবং তাদের অধিবাসীদের মধ্যে সমস্যা। এই সমস্যা অনেক আগে সমাধান হওয়া উচিত ছিল কিন্তু তারা এটি করেনি।’

বাংলাদেশের প্রস্তুতি

২০১৩ সালে রোহিঙ্গা বিষয়ে কাজ করার জন্য কেবিনেটের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে কেবিনেটে যাই। কেবিনেটের কাছে আমরা তিনটি প্রস্তাব চাই। প্রথমটি হচ্ছে- ওই সময়ে বাংলাদেশে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছে তার একটি শুমারি, দ্বিতীয়টি হচ্ছে- রোহিঙ্গা সম্পর্কিত কার্যকলাপে সমন্বয়কারী কমিটি গঠন যা পরবর্তীতে জাতীয় টাস্কফোর্স নামে পরিচিত পায় এবং তৃতীয় হচ্ছে- কূটনৈতিক প্রয়াস বাড়ানো, যাতে করে রাখাইনে কী হচ্ছে সেটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে, ওই সময়ে মিয়ানমারে দায়িত্বরত আমাদের দেশের রাষ্ট্রদূত সুফিয়ুর রহমান মিয়ানমারের উদ্দেশ্য ধরতে পেরেছিলেন এবং আমাদের রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে তার পাঠানো একটি রিপোর্ট আমি সবসময় কাছে রাখি, যেখানে তিনি বলেছিলেন- মিয়ানমার রাখাইনে বড় আকারের কিছু করতে যাচ্ছে এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বৈশ্বিক রূপ নিতে যাচ্ছে। জেনে আশ্চর্য হবেন, উনি সেই সময়ে বলেছিলেন- সম্ভবত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ যথেষ্ঠ হবে না এবং বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ফেরামের কাছে নিতে হবে।’

 

মানবিক সহায়তা বনাম মানবাধিকার

২০১৭ সালের আগষ্টে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করার সময়ে সরকারের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে মানবিক সহায়তা দিয়ে বিষয়টি শুরু করি। কিন্তু আমরা তখন বুঝে গেছি- এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ঘটেছে। কিন্তু মানবিক সহায়তা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন এক জিনিস না।সেসময় অনেক সংস্থা দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলতেই রাজি ছিল না।’

তিনি আরও জানান, সেই সময়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন ছিল। একদিকে জাতিসংঘ বলেছে- যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, আমরা সরকারের সঙ্গে আছি কিন্তু যে মুহূর্তে দায়বদ্ধতার বিষয়টি আসবে আমরা সরকারের সঙ্গে থাকবো না।

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার ও মানবিক দুটি ভিন্ন বিষয় এবং এটি একসঙ্গে কখনও যায় না। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম- আমরা শুধু মানবিক সহায়তার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়েও কাজ করবো। মানবাধিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এখন দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে এসেছে।’

দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে বাংলাদেশ ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম খোঁজ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গিয়েছি, তখন বলেছি- আমরা ২১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি এবং পাচঁটি চুক্তি করেছি। এর কোনোটিই মিয়ানমার মানেনি বলেই আমরা এখানে এসেছি।’

কাঁটাতারের বেড়া

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি দেওয়া হচ্ছে রাতের বেলায় ক্যাম্পের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের জন্য, রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত দুই বছরে আমরা এটি করিনি এবং এখন করছি, তার কারণ- ক্যাম্পে রাতের বেলায় যেকোনও লোকের আসা-যাওয়া বন্ধ করতে চাই।’

উদ্বাস্তুরা সবসময় সবদেশে নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একই পরিস্থিতি রয়েছে আফগানিস্থান, পাকিস্থান ও জার্মানিতে।’

মোবাইল নেটওয়ার্কের ক্ষমতা কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হয়েছে নিরাপত্তার খাতিরে।’

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে আশ্রয় দিয়ে এই অঞ্চলকে বাংলাদেশ স্থিতিশীল করেছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা তাদের এক সপ্তাহের রেশন দিয়ে বলতে পারতাম- তোমরা অন্য জায়গায় চলে যাও এবং সেটি হলে এই অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তো।’

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে অন্তবর্তীকালিন আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মামলার প্রমাণাদি বিবেচনা করা হলে এটি একটি শক্তিশালী মামলা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে রাজনৈতিক উপাদান বিবেচনা করা হতে পারে।’

শুনানির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অং সান সুচির শেষ মন্তব্য ছিল- মামলাটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, মামলা হলে তার জন্য এটি মোকাবিলা করা কঠিন হবে।’


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com