সোমবার , ২ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » ফিচার » রোম সংবিধি তৈরিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল


রোম সংবিধি তৈরিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল




ফটো নিউজ ২৪ : 30/11/2019


-->

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) মিয়ানমার স্বীকৃতি না দিলেও রাখাইনে গণহত্যার তদন্ত করছে তারা। এর পেছনে কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার পথ সুগম করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সেই ভূমিকার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অবদান অনেক বেশি, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ক্ষেত্রে।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট করেন এবং ১৯৯৮ সালে রোম স্ট্যাটিউট বা সংবিধি সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘রোম সংবিধির অনেক ধারা সরাসরি আমাদের ১৯৭৩ সালের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট থেকে হুবহ তুলে নেওয়া হয়েছে। ২৫ বছর পরে তারা এটি বুঝতে পেরেছে।’

উল্লেখ্য, এই রোম সংবিধির অধীনে আইসিসি গঠন করা হয়েছে।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেকে আমাদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ন্যুরেমবার্গ বা টোকিও ট্রাইব্যুনাল ছিল ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনাল। যে প্রক্রিয়ায় সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয়েছে, ওই একই প্রক্রিয়ায় ন্যুরেমবার্গ বা টোকিও ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে যাদের বিচার করা হয়েছে, তাদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এমনকি আপিলের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এই সুবিধা ন্যুরেমবার্গ, টোকিও, রুয়ান্ডা বা অন্য ট্রাইব্যুনালে ছিল না। যুদ্ধাপরাধীদের আর কত সুবিধা দেবেন? যদি সঠিক প্রক্রিয়া বলে কিছু থাকে, তবে সেটি আমরা করে দেখালাম।’

বর্ষীয়ান এই অধ্যাপকের মতে, বাংলাদেশ শুধু আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেনি, এর প্রয়োগ কীভাবে করতে হয়, তাও বিশ্বকে দেখিয়েছে।

তবে অধ্যাপক মিজানুর রহমান এ-ও বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে অনেকে বিষয়টি স্বীকার করছে না, কিন্তু ভবিষ্যতে এটি সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ কাউসার আহমেদও প্রায় একই কথা বলেন। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন, আইনের ব্যবহার এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা—প্রতিটি বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কাউসার আহমেদ বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোয় যে ফল বেরিয়ে আসে, সেটিও আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেয় এবং পরবর্তীতে উভয় দেশের সম্মতিতে তারা ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পাঠায়।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই উদ্যোগের কারণে ইটলস ট্রাইব্যুনাল প্রথমবারের মতো এ ধরনের মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করলো। শুধু বিচারকাজ সম্পন্ন নয়, এ রায়ে নতুন দুটি ধারণাও দেওয়া হয়েছে। এর আগে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা অন্য কোনও দেশের ছিল না বলে তিনি জানান।

কাউসার আহমেদ বলেন, গ্রে এরিয়া এবং ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে মহীসোপানের অধিকার বিষয়ে কোর্টের রায়ে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, যা আগে কোনও আইনে বা রায়ে বলা হয়নি। কোনও উদ্যোগ নেওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক আইনকে যে তা প্রভাবিত করে, সেটি বাংলাদেশ করে দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশেরই অন্য দেশের সঙ্গে হাজার হাজার বিষয় নিয়ে বিরোধ আছে এবং তারা সেগুলো কূটনৈতিক চ্যানেলে সমাধান করার চেষ্টা করে। কিন্তু আদালতে যায় হাতেগোনা কয়েকটি বিষয়, যেগুলো তারা সমাধান করতে পারে না।’

তার মতে, কোনও রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে চায় না, কিন্তু বাংলাদেশ তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছে এবং আদালতে মামলা করেছে।
কাউসার আহমেদ বলেন, ‘জাতিসংঘের অনেক রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশ প্রস্তাবক ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে এককভাবে রেজ্যুলেশনগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই রেজ্যুলেশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে বলে দাবি করেন তিনি।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com