রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯


শিলং-চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ গাইড (ভিডিও)




ফটো নিউজ ২৪ : 22/08/2019


-->

আসিফ সুফিয়ান –ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মেঘালয়, আমাদের সিলেটের কাছে অবস্থিত এই রাজ্য মহাকায় পাথরের শরীর নিয়ে সবুজ চোখ থেকে অব্যাহতভাবে অশ্রু ঝরায় যা আমাদের জন্য শুভ আবার মাঝে মাঝে ক্ষতির কারণও হয়ে দাড়ায়।

মেঘালয়ের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির অনেকটাই খাসিয়া কেন্দ্রিক এবং সমৃদ্ধ। ভারতের এই রাজ্যটিকে এক কথায় খাসিয়াদের আস্তানা বলা চলে যদিও সেখানে আরোও অনেক উপজাতিরা বাস করে।

খাসিয়ারা প্রধানত খ্রীষ্টান ধর্ম এর সমর্থক তাই মেঘালয় রাজ্যে প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে শুয়োরের মাংসের দোকান দেখা যায়। তাই ঘুড়তে গেলে হারাম-হালালের ব্যাপারটা নিজ কর্তব্যে জেনে নেবেন,এছাড়া এরা প্রচুর পান-সুপাড়ি খায়(কোয়াই) সাথে খাস পাতা বিড়িতো আছেই।

আদি ইতিহাস বলে রাজা জয়ন্ত রায়ের মেয়ে জৈইন্তির সাথে খাসিয়া প্রধানের বিয়ে হয় এরপর থেকে খাসিয়াদের প্রাধান্যবিস্তার হয় জৈইন্তিয়া রাজ্যে।

কালের ক্রমাগত পরিবর্তনে খাসিয়ারা দু’দেশে (ভারত-বাংলাদেশে) মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়েছে, যদিও তাদের দু’দেশে পারাপারে কোনো বাধা ধরা নিয়ম নেই। এক সময় জৈইন্তিয়া রাজা সিলেটে থাকলেও এখন তার বংশধর আর এখানে নেই তবে রাজার বাড়ি/চিহ্ন সিলেটে এখনও আছে।

শিলং: শিলং মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী। বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্ত থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত শিলংয়ের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৬ ফুট। পাহাড়, পাহাড়ি ঝরনা, আর পাহাড়ি লেক মিলে শিলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।

এছাড়া খাসিয়া ও স্থানীয়দের জীবন-যাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শিলংকে দিয়েছে বাড়তি রূপ। শিলংকে এক সময় ‘প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড’ বলা হতো। সে কারণে এক সময় বিলেত থেকে প্রচুর পর্যটক শিলংয়ে অবকাশ যাপন করতে আসতেন।

 

শিলং শহরে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। প্রথমেই আসতে পারেন ওয়ার্ড লেক। এই লেকের চারপাশে আছে নানা প্রজাতির ফুলসহ গাছগাছালি। চাইলে লেকে নৌকায় বেড়ানো যাবে। পা-চালিত নৌকা ভাড় নেয়া যাবে ঘণ্টা হিসেবে।

লেডি হায়দারি নামে শহরের মাঝখানে আরও একটি পার্ক আছে। নানা প্রজাতির উদ্ভিদ দিয়ে সাজানো এই পার্কটিও সুন্দর। হেরিটেজ, উইলিয়ামসন, ডন ভসকো নামে জাদুঘর আছে। এছাড়া বিমান বাহিনীরও জাদুঘর আছে। সময় থাকলে জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

শিলং শহরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত দুটি বাড়ি এখনও আছে। এখানে বসেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেশ কিছু সাহিত্য রচনা করেছেন। এছাড়া শিলং শহরের মধ্যেই আছে মদিনা মসজিদ। নান্দনিক নির্মাণ শৈলীর এই মসজিদ ঘুরে দেখতে পারেন। এটি এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ।

শিলং শহর থেকে একটু বের হলেই আছে বিশপ অ্যান্ড ব্যাডন ঝরনার ভিউ পয়েন্টে। এই পয়েন্ট থেকে দূরে পাহাড় দেখা যায়, আর সেই পাহাড়ের মাঝ দিয়েই ঝরনার পানি পড়ছে। আর ঐ পাহাড়ের চূড়াতেই গড়ে উঠেছে শহর। দূর থেকে অপরূপ দেখতে! শিলং শহর থেকে কিছুটা দূরেই আছে উমিয়াম বরাপানি লেক।

সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই লেক উপর থেকে দেখতে দারুণ। এই লেক ঘিরে মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড গড়ে তুলেছে ওয়াটার স্পোর্টস কমপ্লেক্স। নানা প্রজাতির ফুলগাছ দিয়ে সাজানো এটি। শিশুদের জন্য আছে লেখাধুলার ব্যবস্থা। অর্চিড নামে রিসোর্টও আছে। সব মিলিয়ে অবকাশ যাপনের জন্য এ কমপ্লেক্স নানাভাবে সাজানো।

লেকে বেড়ানোর জন্য আছে ছোট-বড় চার ধরনের বোট। রিভার বাস, ক্রুজিং বোট, অ্যানাকোন্ডা ও স্পিড বোট। ৫ থেকে ১০ মিনিট বেড়ানোর জন্য এসব বোটের ভাড়া প্রতিজন ৭৫ থেকে ৪০০ রুপি।

শিলং পিকটি শিলং শহরের কাছেই। এই পিক থেকে পাখির চোখে দেখা যায় শিলং শহর। এখান থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে এলিফ্যান্ট ফলস বা হাতি ঝরনা। এই ঝরনার পানি প্রবাহিত হয় তিনটি স্তরে। দূর থেকে দেখতে অনেকটা হাতির সুরের মতো বাঁকানো মনে হয়। সেজন্যই হয়তো এর নাম হাতি ঝরনা। এসব ছাড়াও শিলং শহর ও এর আশপাশে বেড়াতে পারেন। এখানকার সব কিছুই ভালো লাগার মতো।

চেরাপুঞ্জি : মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে চেরাপুঞ্জির দূরত্ব প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৪৮৬৯ ফুট। এটি পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার অংশ। চেরাপুঞ্জির আগের নাম ছিলো ‘সোহরা’। স্থানীয় ভাষায় সোহরা অর্থ চূড়া। কারণ এলাকাটির অবস্থান পাহাড়ের চূড়ায়।

পরে নাম রাখা হয় চেরাপুঞ্জি। চেরাপুঞ্জি অর্থ কমলালেবুর দ্বীপ। কারণ এখানে কমলালেবুর চাষ বেশি হয়। কমলা ছাড়া এখানে পান-সুপারিও চাষ হয়। অবশ্য চেরাপুঞ্জি বেশি পরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের অঞ্চল হিসেবে। চেরাপুঞ্জি একসময় মেঘালয়ের রাজধানী ছিল। ১৮৬৪ সালে চেরাপুঞ্জি থেকে শিলংয়ে রাজধানী স্থানান্তর করা হয়।

শিলং থেকে চেরাপুঞ্জির উদ্দেশে রওনা হলে প্রথমেই পড়বে মকডক সেতু। দুই পাহাড়ের মাঝে ঝুলন্ত এ সেতু। আর চারপাশে উঁচু-উঁচু সবুজ পাহাড়। সে পাহাড়ের মাথায় সাদামেঘ উড়ছে। যেনো ইচ্ছে হলেই সে মেঘ ধরা যায়। দৃশ্যগুলো সত্যিই চোখ জুড়ানোর মতো! তারপর আসতে পারেন মজমাই নংথাইমাই ইকো-পার্কে। ২০০৪ সালে উদ্বোধন হয় পার্কটি। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ পার্কটি মূলত সেভেন সিস্টার ঝরনারই পাহাড়।

পাহাড়ের মাঝ দিয়েই সেভেন সিস্টার ঝরনার পানি গড়িয়ে নিচে পড়ছে। অবশ্য পার্ক থেকে ঝরনাগুলো দেখা যায় না। সেজন্য এ ঝরনা দেখতে হয় অন্য পাহাড় থেকে। তবে পার্কের কোণায় দাঁড়িয়ে আশপাশের পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা তুলোর মতো সাদামেঘ, আর নিচে দুই পাহাড়ের মাঝের ভাঁজ দেখতে অন্যরকম।

তারপর আসতে পারেন মজমাই গুহা। প্রায় গোলাকার আঁকাবাঁকা পাহাড়ি এ গুহাটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। গুহাটির কোথাও চিকন, কোথাও মোটা। অ্যাডভেঞ্চারময় এই গুহার একমুখ দিয়ে প্রবেশ করে বের হতে হয় অন্যমুখ দিয়ে। সময় লাগে প্রায় ১০ মিনিট। গুহার পরেই আছে সেভেন সিস্টার ঝরনার ভিউ পয়েন্ট। এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সাত ঝরনা। এক পাহাড়ে পাশাপাশি সাত ঝরনা সত্যিই দারুণ! এর চারপাশের সবুজ পাহাড় আর সাদামেঘের মেলবন্ধন যেনো মায়াময় দ্বীপেরই হাতছানি দেয়।

সেভেন সিস্টারের পর দেখতে পারেন টপভিউ। ভিউতে দাঁড়িয়ে দূর থেকে বাংলাদেশ দেখা যায়। এখানে একটি খাঁড়া পাহাড় আছে। যা অন্য পাহাড়গুলো থেকে আলাদা। এরপর থ্যাংখ্যারং পার্কেও বেড়িয়ে আসতে পারেন। বন বিভাগের এই পার্কে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। এখান থেকেও বাংলাদেশ দেখার সুযোগ রয়েছে। এ পার্ক থেকেও দূরে একটি ঝরনা দেখা যায়। তারপর রয়েছে রামকৃষ্ণ মিশন।

১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মিশনে আছে বিদ্যালয়, মন্দির এবং আদিবাসী সাংস্কৃতিক জাদুঘর। দুই গ্যলারির এই জাদুঘরে আছে খাসিয়া, মণিপুরিসহ স্থানীয় আদিবাসীদের পোশাক, গহনা, থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, কৃষি সরঞ্জাম, অস্ত্রসহ তাদের জীবন-যাপনের বিভিন্ন নিদর্শন। আরও আছে স্থানীয়দের উৎসব-পার্বণ, পোশাক-আশাকসহ বিভিন্ন আলোকচিত্র।

চেরপুঞ্জির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো নোহকালিকাই ঝরনা। ১১৭০ ফুট উচ্চতার এ ঝরনা ভারতের বৃহত্তম ঝরনাগুলোর অন্যতম। খাঁড়া পাহাড় থেকে সোজাসুজি পড়ছে এ ঝরনার পানি। তাই পানি পড়ার স্থানটি দেখতে নীল রঙের পুকুরের মতো।

শ্নোনেংপেডেং গ্রামঃ  মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি বর্ডার থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অসম্ভব সুন্দর শ্নোনেংপেডেং গ্রাম। এখানে ঘন সবুজ স্বচ্ছ পানির পাথুরে খরস্রোতা নদী উমংগট বয়ে চলছে আপন গতিতে। এই নদীতেই বিভিন্ন ধরনের রোমাঞ্চকর এ্যাক্টিভিটি হয়ে থাকে। স্নোরকেলিং, রাফটিং, কায়াকিং, বোটিং-এর মতো জনপ্রিয় রোমাঞ্চকর এ্যাক্টিভিটি। রাতে এখানে তাঁবুতে রাত কাটাতে পারেন। ক্যাম্পফায়ার আর বারবিকিউ করারও সুযোগ আছে।

বলা হয়ে থাকে এশিয়ার সবচেয়ে স্বচ্ছ পানির নদী এই উমংগট। এই নদীর পাড়ে বসে অনেক রাত পর্যন্ত বয়ে চলা জল আর পাথরের কলকল শব্দ, ঝিঁঝিঁপোকা, জোনাকি, নিশাচর পাখির অপূর্ব সংগীত আর সবুজের অন্ধকার আপনাকে এক স্বর্গীয় অনভূতিতে ভরিয়ে দেবে।

নৌকা নিয়ে জলপ্রপাতের কাছাকাছি গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন। ঘুম ভাঙানি পাখির ডাকে বিছানার অলসতা ভেঙে চোখ মেলেই দেখতে পাবেন ভোরের স্বর্গীয় রূপ। উমংগট নদীর উপরে ২টি ঝুলন্ত ব্রিজেও হেঁটে আসতে পারেন। এই নদীর পানি এতোই স্বচ্ছ যে, মনে হবে নৌকা শূন্যে ভাসছে।

শ্নোনেংপেডেং-এ বিভিন্ন ধরনের এক্টিভিটিজ করতে পারবেন। সেগুলোর আলাদা আলাদা খরচ পরবে। ২০০ রুপি থেকে ৩০০০ রুপি পর্যন্ত। তবে দামাদামি করলে কিছুটা কমানো সম্ভব। নদীর ঘাট থেকে নৌকা রিজার্ভ করে ভেসে বেড়াতে পারেন সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে। একটি নৌকায় ৫-৬ জন ওঠা যায়। নৌকা অবশ্য ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া নিতে হবে। তবে লাইফ জ্যাকেট নিতে ভুলবেন না।

শ্নোনেংপেডেং-এর রূপ রস মন ভরে উপভোগ করা শেষে করে চলে যেতে পারেন এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাউলিনং। আমাদের সিলেটের খুব কাছেই মাউলিনং ভিলেজ। যা এই মেঘালয়েই অবস্থিত এবং এই গ্রাম এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম। এই গ্রাম পরিষ্কার কিন্তু সরকার করেনি, করেছে গ্রামবাসী। তারা তাদের গ্রাম সবসময় পরিষ্কার করে রাখে।

এাছাড়া নান প্রজাতির ফুল গাছ লাগিয়ে সুন্দর সুন্দর বাড়ি তৈরি করে একটি পর্যটক বান্ধব গ্রাম তৈরি করেছে। শুধু এই পরিচ্ছন্নতা দেখার জন্যই হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক এখানে ভিড় জমায়। কত সুন্দর সুন্দর বাড়ি, কত পরিষ্কার রাস্তা! কোথাও কোনো আবর্জনা চোখে পড়বে না-দেখেই মন ভরে যাবে। এখনো কত কিছুই শেখার বাকি আছে আমাদের, এখনো কত কিছুই করার বাকি। এই গ্রামে না গেলে বুঝতেই পারবেন না।

ক্রাং ঝরনা : মাওলিং গ্রাম দেখে আসতে পারেন এই এলাকার আরেক আকর্ষণ ক্রাং ঝরনা। সবুজ দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে নদীর মতো বয়ে চলা পানি গড়িয়ে পড়ছে নিচে। যেখানে পড়ছে সে স্থানটি পুকুরের মতো হয়ে গেছে। আর এ দৃশ্য দেখবেন আরও উঁচু আরেক পাহাড় থেকে। বিশ্বাস নিয়ে বলছি- এ দৃশ্য ভালো না লেগে পারবে না। ক্রাং ঝরনা দেখা হলে আসবেন সোনাংপেডাং গ্রামে। এ গ্রামের আকর্ষণ উমংগট নদীর উপর ঝুলন্ত সেতু। এছাড়া এ গ্রামের বাড়ি-ঘরও সুন্দর লাগবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য : শিলং বা চেরাপুঞ্জির যেসব দর্শনীয় স্থান আছে, তার প্রায় সবই মেঘালয়ের সরকারি ট্যুারিজম সংস্থার আওতায়। সেজন্য সব স্থানেই প্রবেশ মূল্য দিতে হবে ১০ থেকে ২০ রুপি। এছাড়া স্টিল ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করলে তার জন্যও দিতে হবে ২০ থেকে ৫০ রুপি।

শিলং যাওয়ার জন্য মেঘালয়ের ডাউকি বর্ডার সহজ মাধ্যম। সিলেটের তামাবিল বর্ডার পার হলেই ডাউকি বর্ডার। ডাউকি থেকে ট্যাক্সি পাওয়া যায় শিংল বা চেরাপুঞ্জির। ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপিতে এ ট্যাক্সিতে ৪ জন শিলং বা চেরাপুঞ্জি যেতে পারবেন বা বেড়াতে পারবেন। অথবা মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের বাসেও ঘুরতে পারবেন চেরাপুঞ্জি বা শিলংয়ের দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন সকালে শিলংয়ের পুলিশ বাজার থেকে মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের প্যাকেজ বাস ছাড়ে চেরাপুঞ্জির উদ্দেশে। খরচ প্রতিজন ৩৫০ রুপি। এ বাস আপনাকে পুরো চেরাপুঞ্জি ঘুরিয়ে আনবে। চাইলে মেঘালয় ট্যুরিজমের প্যাকেজ বাসে করে শিলং ও এর আশপাশটাও দেখতে পারবেন। এছাড়া ট্যাক্সিতেও ঘুরতে পারেন শিলং, চেরাপুঞ্জি বা ডাউকির আশপাশ, সোনাংপেডাং, ক্রাং ঝরনা, মাওলিং গ্রাম ও লিভিং রুট ব্রিজ এলাকা। সারা দিনের জন্য ট্যাক্সি ভাড়া ১ হাজার ৫০০ রুপি থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপি পড়বে। ট্যাক্সিতে চারজন আরাম করে ঘুরতে পারবেন।

থাকার জন্য শিলং পুলিশ বাজার ও লাইতুমখারা অনেক হোটেল আছে। ভাড়া ডবল রুম ১০০০ রুপি থেকে ৭০০০ রুপি পর্যন্ত। এছাড়াও কমবেশি মানের হোটেল আছে। সিঙ্গেল বা ডবল রুমে চাইলে আলাদা ম্যাট নিয়ে বাড়তি লোকও থাকতে পারবেন। ম্যাটের জন্য বাড়তি কিছু রুপি দিতে হবে। অবশ্য ম্যাট নিয়ে এক রুমে একজনই অতিরিক্ত থাকতে পারবেন। এছাড়া সোনাংপেডাং, ক্রাং ঝরনা, মাওলিং গ্রাম ও লিভিং রুট ব্রিজের গ্রামগুলোতে চমৎকার সব গেস্টহাউস বা কটেজ আছে।

হোটেলে থাকার জন্য পাসপোর্টের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবির প্রয়োজন হবে। ডলার ভাঙ্গানোর জন্য পুলিশ বাজারে অনেক মানি এক্সচেঞ্জ আছে।

খাওয়ার জন্য পুলিশ বাজার ও লাইতুমখারায় হোটেল আছে। বাঙালি হোটেলও পাবেন অনেক। ১০০ রুপি থেকে ৩০০ রুপিতে ভাত-মাছ-মাংস-রুটি সবই পাবেন। একই দামে খাবার পাবেন দর্শনীয় স্থানগুলোর পাশে থাকা রেস্টুরেন্টগুলোতেও।

শিলং শহর পুলিশ বাজারকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তাই সব কেনাকাটা করা যাবে এ বাজারেই। এক দামের দোকান ছাড়া দামাদামি করে কেনার সুযোগও আছে। শিলংয়ের একমাত্র বাহন ট্যাক্সি। তাই কাছাকাছি কোথাও গেলেও ট্যাক্সিতে যেতে হবে। চারজন মিলে কাছাকাছি ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ রুপি। মোটামুটি রাত ৮ টার পর শিলংয়ের দোকান, রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। তাই খাবার বা কেনাকাটা রাত আটটার আগেই করতে হবে।

জীপ ড্রাইভার – ক্লুর -৭৬২৮০৭৩০৮৮

শিলং থাকার হোটেল :

শিলং হোটেল লামলিন- ০৩৬৪২৫০৩২৯৮

হোটেল প্যাগাসাস ক্রাউন, পুলিশ বাজার। মোবাইল : ৯৪৩৬৩০৪৯৮৪
হোটেল অ্যাম্বাসি, পুলিশ বাজার। মোবাইল : ৯৪০২১৩২৬১৩
হোটেল অ্যাসেম্বেলি, পুলিশ বাজার। মোবাইল : ০৯৮৬৩০২০৯৯
হোটেল সেন্টার পয়েন্ট, পুলিশ বাজার। মোবাইল : ৯১৮৫৭৫০১৬৯০৩
হলিডে ইন, লাইতুমখারা। ফোন : ০৩৬৪ ২৫০৪৮৮৬
হোটেল ইয়ালানা, লাইতুমখারা। মোবাইল : ৮৫৭৫০ ৪১৪১৫
মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডে, ফোন : ৭৯৩০০১


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com