শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড


ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড




ফটো নিউজ ২৪ : 04/08/2019


-->

বাংলাদেশ, মরক্কো, সোমালিয়া, আলজেরিয়া ও সুদানের ৭৫ অভিবাসন প্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করেছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরের ভূমধ্যসাগর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে তাদের মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে বন্দিশালায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে লিবীয় কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলা সত্ত্বেও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে তিনটি অভিবাসী বন্দিশালা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরের উপকূল থেকে ৭৫ অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করে লিবিয়ার কোস্টগার্ড। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও আছে মরক্কো, সোমালিয়া, আলজেরিয়া ও সুদানের নাগরিক। অভিবাসীবাহী নৌকাটি ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল বলে জানান লিবীয় কোস্টগার্ডের মুখপাত্র আয়ুব গাসিম।

অভিবাসীদের উদ্ধারের পর মানবিক সহায়তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে বন্দিশালায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তাদের সবাই লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাউয়িয়ার বন্দিশালায় আটক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত ২৬ জুলাই ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে দেড়শ’র বেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। উদ্ধার করা হয় আরো ১৫০ জনকে। ঐ নৌকাডুবিকে ভূমধ্যসাগরে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে আখ্যা দেয় জাতিসংঘ।

ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোতে পাড়ি জমাতে লিবিয়াকে ব্যবহার করে থাকে এশিয়া ও আফ্রিকার অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়তই আটক হচ্ছে হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী। যার চাপ পড়ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার ওপর। এর জেরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি ও পশ্চিমের দুটি অভিবাসী বন্দিশালা বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছে লিবিয়ার সরকার।

লিবীয় পার্লামেন্টের অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক কমিটির সদস্য সালেহ ফেহেইমা বলেন, আমরা রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে বাস করছি। পূর্ব ও পশ্চিমে আমাদের দুটি সরকার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও যুদ্ধের কারণে আমাদের দক্ষিণাঞ্চল খোলা রয়েছে। এই সুযোগে অভিবাসী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যা সামাল দেওয়া আমাদের দুই সরকারের সক্ষমতার বাইরে। আমাদের দেশে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সরকার ছাড়া এই অভিবাসন সংকট থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।

লিবীয় পার্লামেন্টের সদস্য মোহাম্মদ আমির বলেন, অভিবাসীদের ঠেকাতে লিবীয় সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। লিবিয়ার পাশাপাশি এতে ইউরোপেরও দায় রয়েছে। উদ্ধার করা অভিবাসীদের আমাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি, খাবার ও মানবিক সহায়তা দিতে হছে, যেটা যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার জন্য একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, এখনো ভূমধ্যসাগরেই ভাসছে ইতালি প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ১২০ জন অভিবাসীবাহী একটি উদ্ধারকারী জাহাজ। গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগর থেকে তাদের উদ্ধার করে বার্সেলোনা ভিত্তিক সংগঠন ওপেন আর্মস।

উদ্ধার করা ১২১ জনের মধ্য থেকে গর্ভবতী এক নারীকে গ্রহণ করলেও বাকী সবাইকে কোন মতেই ইতালিতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতালির জলসীমায় প্রবেশ করলে উদ্ধারকারী জাহাজটি জব্দের পাশাপাশি ৫০ হাজার ইউরো জরিমানা করারও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানায় ওপেন আর্মস।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com