রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯


রহমতের মাস থেকে কতটুকু ‘রহমত’ অর্জন করতে পারলাম?




ফটো নিউজ ২৪ : 04/06/2019


-->

হিজরি বা চন্দ্র সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় মাসের নাম ‘মাহে রামাযান’।

এ মাসের মাহাত্ম্য সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনেক বক্তব্য ও বাণী রয়েছে। তাই এ মাসকে মুসলিম উম্মাহ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে থাকেন।

মাহে রামাযানে উম্মতে মুহাম্মদী এর উপর রোজাকে ফরজ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো” (সূরা বাকারা- ১৮৩)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস (মাহে রামাযান) পাবে, তবে সে যেন তাতে সিয়াম সাধনা করে” (সূরা বাকারা -১৮৫)। এ মাসে মহাপবিত্র আল-কুরআন নাজিল করা হয়েছে। যেমনটি আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “রমাদ্বান এমন একটি মাস যার মধ্যে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে” (সূরা বাকারা- ১৮৫)। অন্য আয়াতে আল্লাহ আরো বলেন, “আমি একে (কুরআন) নাযিল করেছি শবে-কদরে” (সূরা কদর- ১)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি রামাদ্বানে ১টি নফল আমল করল, সে যেন অন্য মাসের ১টি ফরজ আমল করল। আর যে এ মাসে ১টি ফরজ আমল করল, সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আমল করল” (সহি ইবনে খুজাইমা)। সকল নেক আমলের প্রতিদান আল্লাহ তা’আলা প্রদান করবেন। কিন্তু রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তাঁর কুদরতি হাতে প্রদান করবেন, সুবহান আল্লাহ। আল্লাহ তা‘আলা হাদিসে কুদসিতে বলেন, “মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম, তা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব” (মুসলিম)। এরূপ আরো অসংখ্য কুরআনের আয়াত ও হাদিসের বাণী ‘রোজা’ এর ফজিলত বর্ণনায় রয়েছে।

মুসলিম উম্মাহ দীর্ঘ এগারোটি মাস পবিত্র মাহে রামাযানের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। হাটি হাটি পা পা মাহে রামাযানে বিদায়ের পথে। মুমিনের মনের গহীনের শব্দ বিহীন কান্না হচ্ছে। ঈমানদান রমাদ্বানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করতে থাকে। হায়! রহমতের মাস থেকে কতটুকু ‘রহমত’ অর্জন করতে পারলাম? মাগফিরাতের মাস থেকে কতটুকু ‘মাগফিরাত’ আয়ত্ব করতে পারলাম? নাজাতের মাস থেকে কতটুকু ‘নাজাত’ লাভ করতে পারলাম? লাইলাতুল কদর থেকে কতটুকু ‘বরকত’ নিতে করতে পারলাম? এ এক বিয়োগ বেদনা। এ এক চাপা কান্না।

সাহাবীয়ে রাসূল হযরত কাব বিন উজরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, “একবার নবীজী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের ১ম, ২য় ও ৩য় সিঁড়িতে পর পর পা রাখলেন ও ৩বার ‘আমিন’ বললেন।

উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা আজ এমন কিছু শুনলাম, যা এর আগে কোনো সময়ে শুনিনি। তখন নবীজী বললেন, ফিরিস্তা জিবরাইল আমার কাছে আগমন করেছিলেন। যখন আমি ১ম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তির যে রমাদ্বান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ হল না। তখন আমি আমিন বললাম। যখন ২য় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য যার সামনে আমি নবীর আপনার নাম উচ্চারণ করা হল, কিন্তু সে আপনার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করল না। তখন আমি আমিন বললাম। আর যখন আমি ৩য় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস ওই ব্যক্তির যে বৃদ্ধ পিতা-মাতা উভয়কে বা তাদের একজনকে হায়াতে পেল, অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি আমিন বললাম” (মুসতাদরাকে হাকেম)।

আমরা মুসলমান। আর মুসলমানদের প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিবস, সপ্তাহ, মাস ও বছর কিভাবে অতিবাহিত হয়েছে সেই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে। তাই আমাদের দায়িত্বশীলতার সাথে সচেতন হয়ে সকল কাজ শরয়ী পদ্ধিতিতে সম্পাদন করতে হবে। আমাদের সকল কাজের পেছনে আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তুষ্টি মূল উদ্দেশ্য থাকতে হবে।

হে মহিয়ান গরিয়ান আল্লাহ তা‘আলা আপনি মুসলিম উম্মাহ কে মাফ করে দিন, কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক চলার তাওফিক দিন, একে অপরের ভাই হয়ে এ সমাজে বসবাসের তাওফিক দিন, মাহে রমাদ্বানের পরিপূর্ণ বরকত আমাদেরকে নসীব করুন, কুরআনের শাফায়াত আমাদের নসীব করুন, বাকি এগারো মাস রমাদ্বানের ন্যায় বেশি বেশি আমল করার তাওফিক দিন, আমিন।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com