বুধবার , ১৯ জুন ২০১৯
পরবর্তী


নিজের মতো একটু সময় কাটান মেঘালয় রাজ্যে




ফটো নিউজ ২৪ : 25/05/2019


-->

শহরের কর্মক্লান্ত মানুষগুলো একটু ছুটি পেলেই বেড়িয়ে পড়তে চান। নিজেদের মতো একটু সময় কাটাতে চান আপনজনের সঙ্গে। ঈদ দরজায় কড়া নাড়ছে।

ঈদের ছুটির আনন্দ কয়েকগুণ বাড়াতে সবাই কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেই পরিকল্পনা একটু সহজ করে দিতেই এই লেখা।

দেশের বাইরে খুব কাছে ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির ঘন সবুজের গভীরতা থেকে। তেমনি একটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যময় স্থান শ্নোনেংপেডেং।এই জায়গাটি খুব একটা পরিচিতি না পেলেও এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি বর্ডার থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অসম্ভব সুন্দর এই গ্রাম।

এখানে ঘন সবুজ স্বচ্ছ পানির পাথুরে খরস্রোতা নদী উমংগট বয়ে চলছে আপন গতিতে। এই নদীতেই বিভিন্ন ধরনের রোমাঞ্চকর এ্যাক্টিভিটি হয়ে থাকে। স্নোরকেলিং, রাফটিং, কায়াকিং, বোটিং-এর মতো জনপ্রিয় রোমাঞ্চকর এ্যাক্টিভিটি। রাতে এখানে তাঁবুতে রাত কাটাতে পারেন। ক্যাম্পফায়ার আর বারবিকিউ করারও সুযোগ আছে।

বলা হয়ে থাকে এশিয়ার সবচেয়ে স্বচ্ছ পানির নদী এই উমংগট। এই নদীর পাড়ে বসে অনেক রাত পর্যন্ত বয়ে চলা জল আর পাথরের কলকল শব্দ, ঝিঁঝিঁপোকা, জোনাকি, নিশাচর পাখির অপূর্ব সংগীত আর সবুজের অন্ধকার আপনাকে এক স্বর্গীয় অনভূতিতে ভরিয়ে দেবে।

নৌকা নিয়ে জলপ্রপাতের কাছাকাছি গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন। ঘুম ভাঙানি পাখির ডাকে বিছানার অলসতা ভেঙে চোখ মেলেই দেখতে পাবেন ভোরের স্বর্গীয় রূপ। উমংগট নদীর উপরে ২টি ঝুলন্ত ব্রিজেও হেঁটে আসতে পারেন। এই নদীর পানি এতোই স্বচ্ছ যে, মনে হবে নৌকা শূন্যে ভাসছে।

শ্নোনেংপেডেং-এ বিভিন্ন ধরনের এক্টিভিটিজ করতে পারবেন। সেগুলোর আলাদা আলাদা খরচ পরবে। ২০০ রুপি থেকে ৩০০০ রুপি পর্যন্ত। তবে দামাদামি করলে কিছুটা কমানো সম্ভব। নদীর ঘাট থেকে নৌকা রিজার্ভ করে ভেসে বেড়াতে পারেন সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে।

একটি নৌকায় ৫-৬ জন ওঠা যায়। নৌকা অবশ্য ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া নিতে হবে। তবে লাইফ জ্যাকেট নিতে ভুলবেন না। শ্নোনেংপেডেং-এর রূপ রস মন ভরে উপভোগ করা শেষে করে চলে যেতে পারেন এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাউলিনং।

আমাদের সিলেটের খুব কাছেই মাউলিনং ভিলেজ। যা এই মেঘালয়েই অবস্থিত এবং এই গ্রাম এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম। এই গ্রাম পরিষ্কার কিন্তু সরকার করেনি, করেছে গ্রামবাসী। তারা তাদের গ্রাম সবসময় পরিষ্কার করে রাখে।

এাছাড়া নান প্রজাতির ফুল গাছ লাগিয়ে সুন্দর সুন্দর বাড়ি তৈরি করে একটি পর্যটক বান্ধব গ্রাম তৈরি করেছে। শুধু এই পরিচ্ছন্নতা দেখার জন্যই হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক এখানে ভিড় জমায়। কত সুন্দর সুন্দর বাড়ি, কত পরিষ্কার রাস্তা! কোথাও কোনো আবর্জনা চোখে পড়বে না-দেখেই মন ভরে যাবে। এখনো কত কিছুই শেখার বাকি আছে আমাদের, এখনো কত কিছুই করার বাকি। এই গ্রামে না গেলে বুঝতেই পারবেন না।


কীভাবে যাবেন: এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে যেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে তামাবিল-ডাউকি পোর্টের ভিসা নিতে হবে। আর যাদের ভিসা আছে কিন্তু অন্য পোর্ট দিয়ে তারা ৩০০ টাকা ফি দিয়ে ইন্ডিয়ার ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার থেকে তামাবিল-ডাউকি পোর্ট এন্ড্রোস করে নিবেন। সিলেট থেকে ডাউকি বর্ডার ক্রস করে জিপ ভাড়া করে নিতে হবে। যাবার সময় লিভিং রুট ব্রিজ দেখে যেতে পারবেন। খুব কম খরচেই এখান থেকে ঘুরে আসা যায়।

কোথায় থাকবেন: এখানে রাতে থাকার ও ভালো ব্যাবস্থা আছে। ১০০০-২০০০ রূপি দিয়ে বেশ আরাম আয়েশে থাকতে পারবেন। ইচ্ছে করলে এখানে হোম স্টেও করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা কম পরবে। যারা শ্নোনেংপেডাং-এ থাকতে চান তারা তাঁবুতে বা কটেজে দু’ভাবেই থাকতে পারবেন।

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]