শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯


বাংলাদেশের রিজার্ভ চু‌রির মামলা: এ পর্যন্ত খরচ তিন কোটি টাকা




ফটো নিউজ ২৪ : 03/02/2019


-->

বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরানোর আশায় নিউ ইয়র্কের আদালতে মামলা করার জন্য ইতোমধ্যে তিন কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রা‌জি হাসান রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “মামলার বিষ‌য়ে এক‌টি টিম কাজ কর‌ছে। এছাড়া যুক্তরা‌ষ্ট্রের ল ফা‌র্মের স‌ঙ্গে আমা‌দের চু‌ক্তি হ‌য়ে‌ছে।

তাদের ঘণ্টা হি‌সে‌বে অর্থ প‌রি‌শো‌ধ করা হ‌বে।”

ওই ফার্মকে ঘণ্টায় কত অর্থ টাকা প‌রি‌শোধ কর‌তে হ‌বে তা না জানালেও সাংবাদিকদের প্রশ্নে রা‌জি হাসান বলেন, রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারের জন্য মামলা করাসহ বি‌ভিন্ন কাজে এ পর্যন্ত তিন কো‌টি টাকা খরচ হ‌য়ে‌ছে।

 

চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ক্ষতিপূরণ আদায়সহ মামলা নিষ্প‌ত্তিতে তিন বছরের মত সময় লাগতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে ধারণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। ত‌বে এই সময় কমতে বা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধারের জন্য মামলা চালাতে গিয়ে তার চেয়ে বে‌শি খরচ হয়ে যাবে কি না- এই প্রশ্নে রা‌জি হাসান ব‌লেন, “সরকা‌রের সিন্ধান্ত অনুসা‌রে মামলা করা হ‌য়ে‌ছে। এখা‌নে খরচ মুখ্য বিষয় নয়। আমা‌দের লক্ষ্য চু‌রি হওয়া পু‌রো অর্থ ফেরত আনা “

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপিন্সের রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকে।

 

ওই অর্থ স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধারের বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মেলেনি।

রিজার্ভ চুরির তিন বছরের মাথায় ওই অর্থ উদ্ধারের আশায় নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলা পরিচলানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ল ফার্ম কোজেন ও’কনরকে।

এই মামলা করার জন্য আজমালুল হোসেন কিউসিসহ চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। সেখান থেকে ফিরে রোববার এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন তারা।

বিএফআইইউ প্রধান রা‌জি হাসান ছাড়াও বিএফআইইউর পরামর্শক দেবপ্রসাব দেবনাথ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম উপ‌স্থিত ছি‌লেন সংবাদ সম্মেলনে।

আজমালুল হোসেন জানান, মামলার ১০৩ পৃষ্ঠার এজাহারে ১৫ জন ব্যক্তি ও সাতটি প্রতিষ্ঠানকে এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে রাখা হয়েছে বিবাদীর তালিকায়।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) এবং ওই ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ডজনখানেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে মামলার এজাহারে।

 

কয়েক বছর ধরে ‘জটিল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে’ আসামিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার বিআইবিএম মিলানায়তনে এক অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “এসব (চুরি যাওয়া) ডলার ফিলিপিন্সের কোথায় আছে আমাদের জানা আছে। ফিলিপিন্সের বিভিন্ন জায়গায় আছে। তাদের সবাইকে রেসপন্ডেন্ট করে এ মামলা করা হয়েছে।”

এ মামলার বিষয়ে সহযোগিতা পাওয়ার আশায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই চু‌ক্তির আওতায় নিউ ইয়র্ক ফেড মামলার জন্য বি‌ভিন্ন ন‌থি ও তথ্য সরবারহ এবং কর্মীদের সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেবে বলে আজমালুল হোসেন কিউসি জানান।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপিন্সের পক্ষ থেকে তাদের দেশের আদালতে একটি মামলা করা হয়েছিল।

গত ১০ জানুয়ারি ওই মামলার রায়ে আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে যে মামলাটি করা হয়েছিল, সেখানে সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ গত তিন বছরেও আদালতে প্রতিবেদন দিতে পারেনি।

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]