সোমবার , ২৬ অগাস্ট ২০১৯


অস্কারের অ্যানিমেশনের মনোনয়নে এগিয়ে এই চারটি অ্যানিমেশন




ফটো নিউজ ২৪ : 29/12/2018


-->

সাধারণত অস্কারের অ্যানিমেশনের মনোনয়নে সবসময় হলিউডের স্টুডিওর প্রাধান্য দেখা যায়।

হলিউডের বাইরের অ্যানিমেশনগুলোকে মনোযোগ পেতে যেন কুস্তি লড়তে হতো। কিন্তু আসন্ন অস্কারে (২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয়) সেই পরিস্থিতি বেশ বদলে গেছে, এবার মনোনয়ন পেয়েছে ইউরোপ, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার চারটি অ্যানিমেশন। আসুন জেনে নেয়া যাক এ চার আলোচিত অ্যানিমেশন সম্পর্কে—

রুবেন ব্র্যান্ডট, কালেক্টর (হাঙ্গেরি)

শিল্পী থেকে পরিচালক হয়েছিলেন মিলোরাদ ক্রসটিক। ১৯৯৫ সালে তিনি তৈরি করেছিলেন অ্যানিমেশন ‘মাই বেবি লেফট মি’। ছবিটি গোল্ডেন বিয়ার জিতেছিল, একই সঙ্গে অ্যানেসি ইন্টারন্যাশনাল অ্যানিমেটেড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা ছবি নির্বাচিত হয়। দুই দশকের বেশি সময় পর এবার মিলোরাদ বড় পর্দায় এসেছেন মাই বেবি লেফট মির একটি ফলোআপ নিয়ে— রুবেন ব্র্যান্ডট, কালেক্টর। এটি তৈরি করতে তার সময় লেগেছে ছয় বছর। মূল চরিত্রটি একজন শিল্পকর্ম প্রেমিক থেরাপিস্ট। মাঝে মাঝে স্বপ্নে সে দুনিয়ার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে। তার বিশ্বাস বিখ্যাত চিত্রকর্মগুলো চুরি করার মাধ্যমেই সে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবে। গাড়ি নিয়ে রোমাঞ্চকর ধাওয়া। লুভর, টেট-এ ডাকাতি। মিলোরাদ কথায়, ‘এটা শিল্প, মনস্তত্ত্ব এবং অপরাধের এক জটিল গল্প।’

ছবিটিতে অর্থায়ন করেছে হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল ফিল্ম ফান্ড ও দ্য হাঙ্গেরিয়ান ফিল্ম ইনসেনটিভ। ২০১০ সালে শুরু হয়েছিল এ অ্যানিমেশনের কাজ। কিছু সংযোগহীন ড্রইং ছবির চিত্রনাট্যের ভিত্তি হয়ে ওঠে। পরিচালক বলেছেন, ‘ছবিটি বেশ কয়েকটি পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, প্রথমটি হচ্ছে গল্প। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্বিতীয়টি হলো গ্রাফিকের কাজ এবং এটা মোটেই আর দশটা ছবির মতো নয়, বরং বেশ ভিন্ন হয়েছে। এরপর আছে অ্যানিমেশন।’

রুবেন ব্র্যান্ডট, কালেক্টরের দুটি চরিত্র বেশ আকর্ষণীয়— পেশাদার ক্লিপটোম্যানিয়াক বা চুরির বাতিকগ্রস্ত মিমি এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র রুবেন ব্র্যান্ডট। রুবেনের চরিত্রটি লোকার্নো, ওয়ারশ, শিকাগো উৎসবে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। রুবেনের চেহারাও ভিন্ন ধরনের। আর এর অবদান পরিচালকের নিজের। পুরো ছবিটি তিনি নিজের হাতেই তৈরি করেছেন—‘পেন্সিল দিয়ে আঁকার সময় আমি খুব আনন্দ পাই। যেমনটা একজন নৃত্যশিল্পী তার শরীরের ভঙ্গি থেকে পায়।’

হ্যাভ আ নাইস ডে (চীন)

অস্কারে সেরা অ্যানিমেশনের পুরস্কার দেয়া হচ্ছে ২০০২ সাল থেকে। এজন্য অনেক বিদেশী ছবি মনোনয়ন পেয়েছে, যার মধ্যে জাপানের ঘিবলি স্টুডিওর আছে পাঁচটি ছবি। কিন্তু চীন, তাইওয়ান বা হংকং থেকে কোনো অ্যানিমেশন কখনো সুযোগ পায়নি। এবার এ অঞ্চল থেকে জমা পড়ে তাইওয়ানের পরিচালক সুং সিন-ইনের অন হ্যাপিনেস রোড এবং চীনা পরিচালক লিউ জিয়ানের কমেডি হ্যাভ আ নাইস ডে।

হ্যাভ আ নাইস ডে গত বছর বার্লিন উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছে। চীনা পরিচালক জিয়া ঝ্যাং এ ছবিকে চীনা অ্যানিমেশনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ছবিটির গল্প লেখা, অ্যানিমেশন ও প্রযোজনা— সবই করেছেন লিউ।

হ্যাভ আ নাইস ডের সহিংসতা, কৌতুককে তুলনা করা হচ্ছে পাল্প ফিকশনের সঙ্গে। হ্যাভ আ নাইস ডে মূল চরিত্র জিয়াও ঝ্যাং। সে একজন গাড়িচালক। সে তার বসের কাছ থেকে ১০ লাখ ইউয়ান চুরি করে। জিয়াও এ অর্থ দিয়ে তার বান্ধবীর ব্যর্থ প্লাস্টিক সার্জারিকে ঠিক করাবে। কিন্তু চারদিকে ডাকাতির খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই জিয়াওকে খোঁজ করতে শুরু করে।

টিটো অ্যান্ড দ্য বার্ডস (ব্রাজিল)

অ্যানিমেশনটির পরিচালক ব্রাজিলীয় পরিচালক গুস্তাভো স্টেইনবার্গ। তিনি মূলত তৈরি করেন রাজনৈতিক-সামাজিক অ্যাকশন ড্রামা। তবে টিটো অ্যান্ড দ্য বার্ডস দিয়ে নিজের পরিচিত গণ্ডি থেকে কিছুটা সরে এসেছেন গুস্তাভো।

পরিচালক মনে করেন তার ছবিটি শিশুদের কাল্ট সিনেমা দ্য গুনিজ থেকে অনুপ্রাণিত অ্যাডভেঞ্চার ফিল্ম। ‘আমি শিশুদের সঙ্গে কথা বলি। আমার মনে হয় তরুণ বয়সের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি ভালো মাধ্যম হচ্ছে অ্যানিমেশন।’

গুস্তাভোর মতে, দুনিয়াব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ভয়ের সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। ‘আমাদের এ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে হবে। কারণ শিশুরা যদি এমন পৃথিবীতে বেড়ে ওঠে, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।’

গুস্তাভোর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সাও পাওলোয়। ‘সাও পাওলো হলো দেয়ালের শহর। কারণ এখানে সবাই দেয়াল, বেড়া কিংবা কাঁটাতারের পেছনে বাস করে। এখানে খুব সহিংসতা আছে, তা নয়। কিন্তু সবার মনেই সহিংসতার ভয় ঢুকে আছে।’ আর এ সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই গুস্তাভো তৈরি করেছেন টিটো অ্যান্ড দ্য বার্ডস।

মুটাফুকাজ (ফ্রান্স-জাপান)

ছবির পরিচালক শোজিরো নিশিমি ও গুইলমে রেনার। ফরাসি ও জাপানিজ প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে ছবিটি। গল্প আবর্তিত হয়েছে অ্যান্টি হিরো অ্যাঞ্জেলিনোকে ঘিরে। সে একজন পিত্জা ডেলিভারি বয়। স্কুটার অ্যাকসিডেন্টে সে মাথায় আঘাত পায়। এ আঘাত তার শরীরে থাকা সুপারন্যাচারাল এক শক্তিকে মুক্ত করে দেয়। এ কারণে সে এক রহস্যময় গ্যাংয়ের টার্গেটে পরিণত হয়।

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com