সোমবার , ২১ জানুয়ারী ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশে নেমেছে সেনাবাহিনী


সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশে নেমেছে সেনাবাহিনী




ফটো নিউজ ২৪ : 24/12/2018


-->

নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ করার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা অপরিহার্য—এমনটা বলছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ ছাড়াও শিক্ষক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজও সেই কথা বলছেন বার বার।

সেইসঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি ছিল বলেও গণমাধ্যমে এসেছে। সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩৮৯ উপজেলা ও ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ৮৭ উপজেলায় বিজিবি থাকছে। সেনা মোতায়েনকে পরপরই সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো স্বাগত জানিয়েছে। দলগুলো বলছে, দেশের কোথাও নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ নেই, সেনা মোতায়েনের ফলে নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

 

অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বলছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী দেশে নেমেছে।

তারা নিরপেক্ষ থাকবে। এই বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বক্তব্য না দিতেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আন্তরিকভবাবে বিশ্বাস করি, সেনাবাহিনী নিয়োগের ফলে নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা এতোদিন মোটেও বিদ্যমান ছিল না।’

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করি আমাদের দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য জনগণের স্বার্থের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং কোনোভাবেই একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করবেন না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময়ই দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত, কোন ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের সুনাম ক্ষুন্ন হতে পারে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবি সারাদেশে নির্বাচনি আমেজ বিরাজমান, বিরোধীদলের নির্বাচনি প্রচারণায় কোথায় বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

বরং বিএনপি-জামায়াতের মদদে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নৌকা মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনি ক্যাম্প বা অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, বোমা হামলা চালানো হয়েছে। দলটির নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছে।

ফেনীতে মহাজোট মনোনীত সাবেক লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী কোনো দলের নয়, তাদের কেউ বিতর্কিত করার চেষ্টা করবেন না।

তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দায়িত্ব পালনে জেলায় জেলায় অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী। একটি মহল সেনাবাহিনীকে নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তাদের মনে রাখা উচিত সেনাবাহিনী কোনো দলের হয়ে কাজ করবে না, তাদের ভূমিকা থাকবে নিরপেক্ষ।’

 

স্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রতিবেদনে উঠে আসছে, সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে আওয়ামী লীগ। মাঠে-ময়দানে পোস্টারিং, মাইকিং ও নির্বাচনী সভায় ব্যস্ত সময় পার করছে দলটির প্রার্থীরা। তবে এ ক্ষেত্রে খানিকটা ‘পিছিয়ে’ রয়েছে বিএনপি।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করা বিএনপিও নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার দেওয়া চিঠিতে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি), জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ সদর দফতরে বদলির দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়েও বদলির কথাও বলা হয় চিঠিতে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির লে.জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন, অথচ এখনও বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। গায়েবি মামলায় এখনো গ্রেফতার-নির্যাতন চলছে। সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত যে, আদৌ সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন কি না।

সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্তিতি বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে সরকার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আরও এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এমনও দেখা যেতে পারে, সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার পরও থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টকে চরমভাবে অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেওয়া হোক বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থীকেও গ্রেফতার করা হবে। এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আর শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে গেলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তাণ্ডব চালানো হবে, যেন ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে।

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে। সোমবার রাজধানীর রেসিডেন্সিডিয়াল মডেল কলেজে সোমবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মকভোটিং উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, সহিংতা পরিহার করে নির্বাচনি পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনে রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে। তাদের মোতায়েনের ফলে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরে আসবে।

বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো সশস্ত্র বাহিনীতে জুডিশিয়াল পাওয়ারসহ ভোটের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছিল। এ দাবির মধ্যে এই বাহিনীকে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ২৭ থেকে ৩২ ধারা অনুযায়ী আজ থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত নিয়োজিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি টিম কাজ করবে। তবে ম্যাজিস্ট্রেট সাথে না থাকলে কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সশস্ত্র বাহিনী সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে।

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]