বৃহস্পতিবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » শ্রীলংকায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের কারণে অর্থসহায়তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান


শ্রীলংকায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের কারণে অর্থসহায়তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান




ফটো নিউজ ২৪ : 04/11/2018


-->

শ্রীলংকায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান দেশটিতে ১শ’ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থসহায়তা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ।

রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

শ্রীলংকায় আচমকা তার পদচ্যুতির পর সাহায্য বন্ধের এ পদক্ষেপে দেশটির গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ল বলে মন্তব্য করেন বিক্রমসিংহ।

তিনি বলেন, “মহাসড়ক নির্মাণ এবং ভূমির অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি তহবিলে গঠিত মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কর্পোরেশনে (এসসিসি) দেওয়া প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।”

 

রেলওয়ে প্রকল্পে জাপান স্বল্প সুদে ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিল তাও স্থগিত হয়ে গেছে এবং আরো বহু প্রকল্প আটকে আছে বলে জানান বিক্রমসিংহ।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে শ্রীলঙ্কার দূতাবাস থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এমসিসি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার স্থগিত করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এক কর্মকর্তাও রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জাপানের ঋণ স্থগিতের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সির এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিবিড়ভাবে দেশটির রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি।

আপাতত রেলওয়ে প্রকল্পে ঋণ স্থগিত করা হয়েছে।”

গত মাসে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বিক্রমসিংহ ও তার মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন।

সেইসঙ্গে পার্লামেন্ট স্থগিত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন।

 

 

যদিও বিক্রমসিংহ পার্লামেন্ট তার পক্ষে আছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাজাপাকসে। তার আমলেই ২০০৯ সালে সেনাবাহিনী দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল গেরিলাদের পরাজিত করে।

 

 

কিন্তু রাজাপাকসের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে; বিশেষ করে বেসামরিক তামিল জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালে রাজাপাকসেকে হারিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন সিরিসেনা।

বরখাস্ত হলেও এখনো সমর্থকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসবভন ‘টেম্পল ট্রিসে’ অবস্থান করছেন বিক্রমসিংহ। সেখান থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, রাজাপাকসে নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন সবসময়ই উদ্বিগ্ন ছিল।

শপথ গ্রহণের পর রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।

 

বিক্রমসিংহকে বরখাস্ত করে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্টের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন সিরিসেনা। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনাকে দ্রুত পার্লামেন্টের সঙ্গে বসে কে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন তা চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজাপাকসে বলেন, তার সরকার ‘ঘৃণার রাজনীতির’অবসান ঘটিয়ে সব নাগরিকের সমান অধিকারের জন্য কাজ করবে।

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]