বৃহস্পতিবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৮


বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীদের খোঁজে সাগরে তল্লাশি করছে ইন্দোনেশিয়া




ফটো নিউজ ২৪ : 30/10/2018


-->

উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে বিধ্বস্ত লায়ন এয়ারের উড়োজাহাজের ব্ল্যাকবক্স রেকর্ডার ও যাত্রীদের খোঁজে সমুদ্রের নিচে অনুসন্ধানকারী ব্লুটুথ রেডিও ট্রান্সমিটার (বিকন) ও ড্রোন মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়া।

কী কারণে প্রায় নতুন এ বিমানটি বিধ্বস্ত হল, ব্ল্যাকবক্স পেলে সে সম্বন্ধে ধারণা করা যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে মঙ্গলবার থেকে জোর তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সাগরের যে এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেখানে পানির নিচে ৩০ থেকে ৩৫ মিটার গভীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ডুবুরিরা।

সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে ওড়ার ১৩ মিনিটের মাথায় লায়ন এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ ফ্লাইটটির সঙ্গে গ্রাউন্ড স্টাফদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ওড়া বিমানটির এক ঘণ্টার মধ্যে পাংকাল পিনাং শহরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

১৮৯ যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয় বলে পরে নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ।

“আশা করছি আজ সকালেই আমরা ধ্বংসাবশেষ কিংবা উড়োজাহাজটির কাঠামো খুঁজে পাবো,” বলেন ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ নিরাপত্তা বিষয়ক প্যানেলের প্রধান সোয়েরজানতো তিজাহজোনো।

 

বিমানের মূল কাঠামোর খোঁজ পেতে পানির নিচে কাজ করতে সক্ষম একটি বিকন মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার পশ্চিম জাভার কারাওয়াং উপকূলের কাছে যেখানে বিমানটির কিছু ধ্বংসাবশেষ মিলেছিল, সেখানকার পানির নিচেও চারটি অনুসন্ধানকারী যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

ধ্বংসাবশেষ ও নিখোঁজদের সন্ধানে ১৫টি নৌযানও অভিযান চালাচ্ছে।

 

রাতে উদ্ধার অভিযান বন্ধ থাকলেও অনুসন্ধানকারী যন্ত্রগুলো ও আন্ডারওয়াটার বিকনটি অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছিল।

সমুদ্রে বিধ্বস্ত বিমানটির কেউই বেঁচে নেই বলে এর আগে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র ইউসুফ লতিফ।

সন্ধান পাওয়া সামান্য ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহের অংশ দেখে ‘জীবিত কারও খোঁজ পাওয়া অলৌকিক’ হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

উড়োজাহজটি যে সময় বিধ্বস্ত হয়েছিল, সে সময় সমুদ্রসৈকত থেকে একটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানান স্থানীয় কারাওয়াং জেলার এক প্রত্যক্ষদর্শী ।

“এটিকে বিদ্যুৎচমক মনে করেছিলাম, যদিও তা ছিল বিদ্যুৎচমকের চেয়ে আলাদা। ‘বুম’, শব্দটি বেশ জোরালো ছিল,” বলেন দাদাং হামবালি।

জাকার্তার উত্তরপূর্ব উপকূল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সাগরের যে এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেখান থেকে মৃতদেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে লায়ন এয়ার।

পরিচয় নির্ধারণের জন্য ২৪ ব্যাগভর্তি ওই দেহাংশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে মেট্রো টিভিকে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

সোমবার রাতের মধ্যে আরও মৃতদেহের অংশবিশেষ মিলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেইফটি বোর্ড ও বোয়িং কর্তৃপক্ষও।

বিশ্বব্যাপী বোয়িংয়ের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অন্যতম মডেল ৭৩৭ ম্যাক্সের এটিই প্রথম কোনো দুর্ঘটনা।

ব্যক্তি মালিকানাধীন লায়ন এয়ার জানিয়েছে, তাদের উড়োজাহাজটি অগাস্ট থেকে যাত্রী পরিবহন করছিল; চালকদের ১১ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল।

সোমবার উড্ডয়নের কিছু সময় পরই ফ্লাইট জেটি ৬১৯ এর পাইলট জাকার্তায় ফিরে আসার অনুমতি চেয়েছিল বলে জানান তিজাহজোনো।

“ফিরে আসার একটি অনুরোধ ছিল, আমরা তা অনুমোদনও করেছিলাম। ঠিক কী কারণে ওই অনুরোধ ছিল, তা বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা,” সোমবার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ নিরাপত্তা বিষয়ক প্যানেলের এ প্রধান।

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের জরুরি ট্রান্সমিটার থেকে পাঠানো কোনো দূরবর্তী সংকেত পাওয়া যায়নি বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মাদ সিয়াগি।

 

রোববার রাতেই বালি থেকে জাকার্তা ফেরার পথে ওই বিমানটিকে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ মোকাবেলা করতে হয়েছিল, যদিও পরে তা ‘নিয়মানুযায়ীই ঠিক করা হয়’ বলে জানিয়েছেন লায়ন এয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড স্ট্রেইট।

যদিও কী ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা জানাতে রাজি হননি তিনি।

দুর্ঘটনার কারণে তাদের কাছে থাকা অন্য বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ সিরিজের বিমানগুলো ‘নিশ্চল’ করা হবে না বলেও স্ট্রেইট জানিয়েছেন।

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]