বৃহস্পতিবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » এগিয়ে চলছে বহু প্রতীক্ষিত খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের কাজ


এগিয়ে চলছে বহু প্রতীক্ষিত খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের কাজ




ফটো নিউজ ২৪ : 26/10/2018


-->

খাগড়াছড়ির রামগড়ে বহু প্রতীক্ষিত দেশের ২৩তম স্থলবন্দর স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

আর এরই অংশ হিসেবে ফেনী নদীর উপর রামগড়-সাব্রুম এলাকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীসেতু-১ এর নির্মাণকাজ চলছে জোরেশোরে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যসহ মেঘালয়, আসাম, মনিপুর মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল-এই সাত রাজ্যের (সেভেন সিস্টার্স) সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্প সম্প্রসারণ করতে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার বহু আগেই রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর স্থাপনে উদ্যোগী হয়। যদিও রাজনৈতিক ও নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন থমকে ছিল।

বহু চড়াই-উতড়াই পেরিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সহসা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে বহুকাঙ্ক্ষিত রামগড় স্থলবন্দরের দৃশ্যমান অবকাঠামো।

এ লক্ষ্যে ভারত সরকার ফেনী নদীর উপর চার লেন বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের একটি সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজে হাতে নিয়েছে।

রামগড় পৌরসভার মহামুনি ও সাব্রুমের আনন্দপাড়া এলাকা হয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যে স্থলবন্দর ঘিরে বন্দর টার্মিনাল, গুদামঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ চূড়ান্ত করেছে সরকার। অবশ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপনে ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণে ভারত দীর্ঘসময় ধরে সচেষ্ট ছিল।

এটা সম্ভব হওয়ায় ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো (সেভেন সিস্টার্স) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৬ জুন ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফেনী নদীর উপর রামগড়-সাব্রুম মৈত্রীসেতু-১ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ১৯২০ সালের সাবেক মহকুমা শহর খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় স্থলবন্দর স্থাপনের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ দেড় যুগ পর মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় নতুনভাবে আলোচনায় আসে।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজুরী চৌধুরী জানিয়েছেন, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান আগামী মাসে রামগড় স্থলবন্দরের স্থান পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি দেখবেন।

তিনি বলেন, ‘রামগড়েই চালু হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, রামগড় স্থলবন্দরের সঙ্গে চট্রগ্রাম বন্দরের সংযোগ সড়ক (রামগড়-বারৈয়ারহাট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার) উন্নয়নের কাজ বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য খরচ হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। সড়কটি চার লেনে উন্নীত হবে।

অন্যদিকে, ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক আট মিটার প্রস্থ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করবে ভারত। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১৫০ মিটার।

খরচ হবে ১১০ কোটি রুপি। নির্মাণ সময় ধরা হয়েছে দুই বছর পাঁচ মাস।

পাশাপাশি চট্টগ্রামের নাজিরহাট থেকে রামগড় স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনার কথা হাটহাজারীতে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।

জানা গেছে, ত্রিপুরার আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত রেললাইনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সরেজমিন এ প্রতিবেদক সম্প্রতি সাব্রুম রেলস্টেশনের নির্মিতব্য অবকাঠামো দেখেছেন।

এ ছাড়া সাব্রুম-উদয়পুর-আগরতলা সড়ক এবং সেখানকার মহকুমার সঙ্গে অন্য মহকুমা ও জেলার সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে।

উল্লেখ্য, সড়কপথে রামগড়-চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ৭২ কিলোমিটার এবং সাব্রুম-আগরতলা ১৩৩ কিলোমিটার।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রামগড়ে স্থলবন্দর স্থাপনের ঘোষণা দেয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৯৬ সালের ২৮ জুলাই স্থলপথ ও অভ্যন্তরীণ জলপথে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি-রপ্তানি বা খাদ্য ছাড়করণের উদ্দেশ্যে দেশে ১৭৬টি শুল্কস্টেশনের তালিকা ঘোষণা করে। ওই তালিকায় ৪৮ নম্বর ক্রমিকে ছিল রামগড় স্থল শুল্কস্টেশন। শুল্ক ও বর্ণিত পদ্ধতি শর্তাবলি পালন করে পণ্যের গুণাগুণ, পরিমাপ, মূল্য ও শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা যাবে।

প্রসঙ্গত, সরকার ঘোষিত ১৭৬টি স্থলবন্দরের বেশ কিছু ইতোমধ্যে চালু হয়ে গেছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রামগড় স্থলবন্দর স্থাপনের কাজ দীর্ঘদিন ফাইলচাপা থাকলেও ২০১০ সালে স্থলবন্দর স্থাপনের কাজ পুনরায় শুরু হয়।

বিশিষ্ট পাহাড়ি নেতা মংপ্রু চৌধুরী ও রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধীরগতিতে কাজ চললেও সমপ্রতি ভারত-বাংলাদেশ উভয় পক্ষ ত্বরিতগতিতে স্থলবন্দর বাস্তবায়নের কাজ শুরু করায় ব্যবসায়ীসহ সকল মহল আশার আলো দেখছেন।

সব মিলিয়ে রামগড় স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিশ্বায়নের এ যুগে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বিপুল জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে তা বিশাল ভূমিকা রাখবে। আর যোগাযোগের ক্ষেত্রে সূচিত হবে নতুন দিগন্তের।

আঞ্চলিক গণ্ডি ছাপিয়ে এ যেন বিশ্বব্যাপী সেতুবন্ধনের এক পূর্বাভাস।

খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুদর্শন দত্ত ও অধ্যাপক দিলীপ চৌধুরী বলেন, অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে রামগড় স্থলবন্দর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।

এটি অবশ্যই ইতিবাচক খবর। একটা সময় ধরেই নেওয়া হয়েছিল এ বন্দর বোধহয় আর হবে না। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আগ্রহে পুরোদমে এগোচ্ছে রামগড় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কাজ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথম স্থাপিত এ স্থলবন্দরের বিশাল কর্মযজ্ঞ এখানকার দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁরা বলেন, এ স্থলবন্দর দুই দেশের মানুষের জন্যই আশীর্বাদস্বরূপ।

মৈত্রীসেতু-১ এর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় নতুন আশায় উজ্জীবিত এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ বিনিয়োগকারী-ব্যবসায়ীরা।

পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি-পাহাড়ি সবাই মনে করেন, বিপুলসংখ্যক মানবসম্পদ কাজে লাগবে অযুত সম্ভাবনার স্থলবন্দর কর্মযজ্ঞে। এটি চালু হলে চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্পসহ নানা বিষয়ে খুলে যাবে নতুন এক স্বর্ণালী দুয়ার।

বিশ্বায়নের এ যুগে কোনো দেশ কিংবা একই দেশের সব অঞ্চল কোনো বিশেষ পণ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নাও হতে পারে।

প্রাকৃতিক ও বৈষয়িক সুবিধা, উৎপাদনে বিশেষজ্ঞতা ও শ্রম বিভাগের কারণে উৎপাদিত পণ্য পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে আদান-প্রদানের বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়মেই হয়।

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]