রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮


নিরাপদ সড়কের দাবিতে ৮ দিনের ‘বাংলাদেশ’!




ফটো নিউজ ২৪ : 09/08/2018


-->

  নিউজ ডেস্ক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে (২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট) এই ৮ দিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা। আর এই ৮ দিনে তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেশবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হয়।
২৯ জুলাই দুপুরে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উলটো দিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দু’জন শিক্ষার্থী নিহত হয়৷ দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় ‘জাবালে নূর’ পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ ঘটনা ঘটে৷ এতে নিহত হন – দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম৷

এরপর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন স্কুল কলেজেরশিক্ষার্থীরা৷ শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ আরো অনেক শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে৷ ৫ আগস্টের পরে অবশ্য শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে উঠে যান৷ ফিরে যান ক্লাসে৷ অবশ্য তাদের ফিরে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে যেমন আহ্বান ছিল, ছিল চাপও৷ এরপর তাদের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ছিলেন৷ তারাও হামলার শিকার হন, হয় সংঘাত৷
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের শেষ দু’দিন সায়েন্স ল্যাবরেটরি, জিগাতলা এবং ধানমন্ডি এলাকায় হামলার শিকার হন শিক্ষার্থীরা৷ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যলয়ও ভাঙচুর করা হয়৷
শিক্ষার্থীরা সড়ক নিরপদ করতে গিয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজেদের কাধে তুলে নেন৷ তারা গাড়ির কাগজপত্র, ফিটসেন পরীক্ষা করেন, পরীক্ষা করেন ড্রাইভিং লাইসেন্স৷ একইসঙ্গে সড়কে তারা জরুরি লেন চালু করেন অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য৷ একই সড়কে রিক্সা, ভারী ও হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা আলাদা লেন চালু করেন তারা৷ এই আট দিনে তারা দেখিয়েছেন কীভাবে সমতার নীতিতে আইন প্রয়োগ করতে হয়৷ তাদের হাতে পুলিশ, প্রশাসন, বিচারক, মন্ত্রী-এমপিদের গাড়িও আটক হয় বৈধ কাগপত্র বা চালকের বৈধ লাইসেন্স না থাকায়৷ তারা এ সব গাড়ি আটক করে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের হাতে তুলে দেন৷ পুলিশ মামলা করে৷ তবে তাদের এই কাজে কিছু জায়গায় বাড়াবাড়ির অভিযোগও পাওয়া গেছে৷ তারপরও তাদের এই কাজকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানায়৷ অভিভাবকরা থাকেন পাশে৷
বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, এই শিক্ষার্থীরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে আইন প্রয়োগ করতে হয়। আমাদের উচিত তারা যে বিষয়গুলো দেখিয়ে দিয়েছে সেই অনুযায়ী সড়ক ব্যবস্থাপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
এদিকে সরকার এরইমধ্যে নতুন আইনসহ আরো কিছু কাজ শুরু করে দিয়েছে৷ শুরু হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ৷ লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে অভিযান৷ গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করতে এখন বিআরটিএ-তে লম্বা লাইন পড়ছে৷ ঢাকার স্কুল-কলেজের সামনে স্পিড ব্রেকার ও জেব্রা ক্রসিং-এর কাজ শুরু হয়েছে৷
পরিবহণ মালিক সমিতি গতকাল বুধবার এক জরুরি বৈঠক করে চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানোর নিয়ম বাতিল করেছে৷ অর্থাৎ এখন থেকে চালক ও বাসের অন্যান্য কর্মচারীরা মাসিক বেতন পাবেন৷ আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করার কাজ৷

— আর


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com