শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮


১৭ ব্যাংকে সফটওয়্যার বসাবে এনবিআর




ফটো নিউজ ২৪ : 11/07/2018


-->

বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সরকারি-বেসরকারি ১৭টি ব্যাংক থেকে উৎসে মূসক কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা করে।

এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে মূসক সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহার ও মনিটরিং না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলো এ ফাঁকি দিয়ে আসছে।

তাই ব্যাংকের উৎসে মূসক ফাঁকি রোধে সফটওয়্যার বসানোর কাজ শুরু করেছে এলটিইউ।

এলটিইউ ও ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এর মাধ্যমে মূসক ফাঁকি রোধ ও মূসক আহরণে স্বচ্ছতা আসবে।

এলটিইউ’র আওতাধীন ১৭টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও পূবালী ব্যাংক লিমিটেড রয়েছে।

 

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এইচএসবিসি ও সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড।

এসব ব্যাংক সঠিকভাবে উৎসে মূসক পরিশোধ করছে কি না, তা তদন্তের উদ্যোগ নেয় এলটিইউ। সে অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন তৈরি করে, যাতে একটি ব্যাংকের ফাঁকি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের ৩৯টি সেবার বিপরীতে প্রায় সাড়ে চার শতাংশ উৎসে মূসক কর্তনের বিধান রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিস ব্যবহার করে উৎসে মূসক কর্তন করছে না। এর মাধ্যমে বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। পরে এলটিইউ উৎসে মূসক কর্তন ও কোষাগারে জমাসংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়।

১৭টি ব্যাংকের মধ্যে ১৫টি ব্যাংকের ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিস প্রোভাইডারের আওতায় থমসন রয়টার্সের সেবা গ্রহণের তথ্য পায় এলটিইউ। চিঠি দেওয়া তদারকির পর ১১টি ব্যাংক উৎসে মূসকসংক্রান্ত তথ্য দাখিল করে। এতে দেখা যায়, একটি ব্যাংক মাত্র ৫০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে।

এলটিইউর সন্দেহে প্রতিটি ব্যাংকের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পূবালী ব্যাংক চিঠির জবাবে থমসন রয়টার্সের কোনো ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণ করেনি বলে জানায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড আয়-ব্যয় থেকে প্রদেয় মূসক সঠিকভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয় ও ক্ষতি (প্রফিট অ্যান্ড লস) হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আয় ও ব্যয় খাতের যে মূসক কর্তনের বাধ্যবাধকতা ছিল তা সঠিকভাবে কর্তন করা হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মূসক রিটার্নের সঙ্গে তুলনা করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের কাছে ফাঁকির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকি অস্বীকার করে, যদিও কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

প্রতিষ্ঠানটি সেবার বিপরীতে পরিশোধিত বিলের ওপর উৎসে মূসক কর্তন করলেও তা পরিশোধ না করে ফাঁকি দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আয় ও ব্যয়ের দলিলপত্র যাচাই করা হয়।

এতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি মূসক, বাড়িভাড়া ও উৎসে মূসকসহ প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে। সেবা ও ভ্যাট কর্তন প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ায় অগ্রণী ব্যাংক এ বিপুল পরিমাণ ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল অগ্রণী ব্যাংক নয়, সব ব্যাংক একইভাবে বছরের পর বছর উৎসে মূসক ফাঁকি দিয়ে আসছে। মনিটরিং না থাকায় এ ফাঁকি বাড়ছে।

উৎসে মূসক ফাঁকি রোধ, সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা আনয়নে সব ব্যাংকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি অনলাইনভিত্তিক সফটওয়্যার (ট্যাক্সভ্যাট২৪ডটকম) স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। প্রথমে কিছু ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলেও পরে সবাই সাড়া দেয়। এ নিয়ে সব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক সভা ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সফটওয়্যারটি জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ চারটি শাখায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। সেজন্য ব্যাংকের ১৫ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও এবি ব্যাংক সহসাই সফটওয়্যারটি চালু করবে। এ ছাড়া অন্যান্য ব্যাংক সফটওয়্যারটি চালু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এলটিইউ’র কর্মকর্তারা সহজে সফটওয়্যারটির মাধ্যমে উৎসে মূসক মনিটরিং করতে পারবে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যেহেতু অনলাইন ছিল না, আগে সারা দেশে শুল্ক ও ভ্যাট নেওয়া হলেও সরকারিভাবে আমাদের কাছে আসত না। অনলাইন হয়ে যাওয়ায় এখন আমাদের সবই অ্যাকাউনটেড। এলটিইউ আমাদের একটি সফটওয়্যার দেবে বলেছে, দিলে তো ভালো হবে। আমরাও ট্রান্সপারেন্ট চাই, ফাঁকি দিয়ে নয়।’

এ বিষয়ে এলটিইউ’র কমিশনার মো. মতিউর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ব্যাংকের রাজস্বসংক্রান্ত কার্যক্রম বিশেষ করে উৎসে মূসক কার্যক্রম সহজ এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে এ সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জনতা ব্যাংকে স্থাপন করা হয়েছে। বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব ব্যাংকে স্থাপন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে ফাঁকি রোধ হবে। যেহেতু আমরা মনিটরিং করব, সেহেতু ব্যাংকের সঙ্গে ভ্যাট বিষয়ে তথ্যের দূরত্ব তৈরি হবে না।’

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]