মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮


রাসিকের ফ্যাক্টর নারী ভোটাররাই




ফটো নিউজ ২৪ : 07/07/2018


-->

  নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ফ্যাক্টর হতে পারেন নারী ভোটাররা। আর প্রার্থীদের মন জয় করতে রাজনীতি হতে পারে গ্যাস নিয়ে। এরই মধ্যে নারী ভোটার টানতে কৌশলী প্রচারণা রয়েছে প্রার্থীদের।

নির্বাচন দফতরের হিসাব মতে, ৩০ ওয়ার্ডের রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জনই নারী ভোটার। যেখানে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৩ সালের ১৫ জুন নির্বাচনের ঠিক সাতদিন আগে তড়িঘড়ি করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছিলো নগরীর বাসাবাড়িতে। দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ। এতে ত্যাক্ত-বিরক্ত নারীরা। সেটি মাথায় রেখে ক্ষমতাসীনরা গ্যাসের রাজনীতি করতে পারেন।

যদিও গ্যাস সংযোগ চালু করেও ২০১৩ সালের নির্বাচনে নারী ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হন মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ৪৭ হাজার ৩৩২ ভোট ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে পরাজিত হন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

সেবার নারী ভোটারদের মন জয় করতে দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজকে মাঠে নামিয়েছিলেন লিটন। দলের নারী কর্মীদের নিয়ে জোর প্রচারণায় ছিলেন লিটনপত্নী শাহীন আক্তার রেনীও। তবে তার সেই কৌশলও শেষ পর্যন্ত ঠেকাতে পারেনি হার।

২০১৩ সালের নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১২৭টিতেই পরাজিত হন লিটন। বাকি যে ৯টি কেন্দ্রে জয়লাভ করেন তিনি সেসব কেন্দ্রে ভোট ব্যবধান সামান্য। নারী ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে একমাত্র নগরীর রাজশাহী বিবি হিন্দু একাডেমি কেন্দ্রে জয় হয় লিটনের। সেখানে তিনি পান ৬২৪ ভোট। আর বুলবুল পান ৫০৭ ভোট। অধিকাংশ নারী কন্দ্রে লিটনের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণেরও বেশি ভোট পান বুলবুল।

২০১৩ সালের নির্বাচনের আগেও গ্যাস নিয়ে রাজনীতি হয়। সেবার নিজের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩৩ নম্বরে গ্যাস সংযোগ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, নগরীতে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে শহরের সকল বাড়িতে গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

তবে ওইসময় একে মিথ্যে প্রচারণা উল্লেখ করে বুলবুল তার ইশতিহারের ২ নম্বরে উল্লেখ করেন, মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করে নগরবাসীর প্রাণের দাবি পূরণে সাধ্যমত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

এতে শেষ পর্যন্ত জনরায় যায় বুলবুলের দিকেই। বুলবুলের দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দুই বছর নগরীতে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। যদিও পুরো মেয়াদের মাত্র ২৬ মাস দায়িত্বপালনের সুযোগ পান বুলবুল।

এদিকে রাসিক ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, নগরীর হোল্ডিং সংখ্যা ৪৭ হাজার। এর মধ্যে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ পেয়েছেন ৯ হাজার ১০৩ জন হোল্ডিং মালিক। সেই হিসাবে গ্যাস সংযোগের আওতায় এসেছে মাত্র ১৯ শতাংশ হোল্ডিং। সংযোগ পেতে এরই মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন ৫৫০ জন আবাসিক গ্রাহক। আবেদন জমা পড়েছে আরো ১১ হাজার।

২০১৩ সালের ৭ জুন রাজশাহীতে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। প্রথম দফায় গ্যাস পান নগরীর বিশিষ্ট ৩২ ব্যক্তি। গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এরপর থেকেই বন্ধ এই কার্যক্রম। তবে সরকারের নির্দেশনা পেলেই সংযোগ দেয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবস্থাপক এএফএম আজাদ কামাল দুলাল।

সংযোগের অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক নাম প্রকাশ না করে বলেন, তারা সংযোগের জন্য পিজিসিএল কর্তৃপক্ষের ফি পরিশোধ করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা খোঁড়ার ফি পরিশোধ করেছেন। এর বাইরে ঠিকাদারদের ম্যানেজ করতেও মোটা টাকা খরচ করতে হয়েছে। তারপরও দীর্ঘদিনেও মেলেনি গ্যাস।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, নারীদের একটি বড় অংশ গৃহিণী। ফলে তাদের টানতে নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছে গ্যাস। রাজশাহী নগরীর আবাসিক গ্যাস সংযোগ লিটনেরই অবদান বলছেন তারা। এনিয়ে নগরজুড়ে প্রচারপত্রও সাঁটিয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা। এসব প্রচারপত্রে লেখা: ‘গ্যাস এনেছে লিটন ভাই, মা-বোনের সমর্থন চাই।’ নারী ভোটার টানতেই এই স্লোগান লিটনের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, যেসব বাড়িতে গ্যাসের লাইন দেয়া হয়েছে কিন্তু সংযোগ দেয়া হয়নি, সেসব বাড়িতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করব।

তবে গ্যাস দেয়া না দেয়ায় তার কোনো হাত নেই বলে জানিয়েছেন সদ্যবিদায়ী মেয়র ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি বলেন, এটি নির্ভর করছে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর। সব কিছু বিবেচনায় নারীরা এবারও তার উপর আস্থা রাখবেন বলে মনে করছেন বুলবুল।

গত ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) এক অনুষ্ঠানে নারীদের অবস্থার উন্নয়ন অগ্রাধিকার দিয়ে সিটি করপোরেশনের সকল মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গিকার করেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ সকল প্রার্থী। কিন্তু সেই অঙ্গিকার পূরণে সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় রয়েছে নারী ভোটারদের।

তারা বলছেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় লিটনও নারীবান্ধব নগর প্রতিষ্ঠায় কোনো কাজই করেননি। যদিও ক্ষমতাসীন দলের নগরীর শীর্ষ নেতা হিসেবে তারও অনেক কিছুই করার ছিলো।

সেবার নির্বাচনী ইশতেহারে লিটনও নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ বন্ধে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নারী নেত্রীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক মনিটরিং কমিটি ও কাউন্সিলিং কর্মসূচি নেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সুব্রত পাল মনে করেন, রাজশাহী সিটিতে পুরুষ ভোটারের চেয়ে ছয় হাজারের বেশী নারী ভোটার। এরাই প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হতে পারেন। ঘরে-বাইরে নিরাপদ পরিবেশ ও জীবনযাপন সহজতর করতে পারবেন এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন নারী ভোটাররা।

গ্যাস নিয়ে রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরীর নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ গৃহিণী। এদের আকৃষ্ট করতে গ্যাস সংযোগসহ নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। এটি নির্বাচনী কৌশলের অংশ। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রার্থীদের।

—- আর


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]