রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯


ভারতের ভিসার জন্য পোর্ট নির্বাচন (বিস্তারিত)




ফটো নিউজ ২৪ : 06/06/2018


-->

কম খরচে বিদেশ ভ্রমণের জন্য ভারতই বাংলাদেশের মানুষের পছন্দের শীর্ষে আছে। প্রতিবছর ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে বেড়াতে, চিকিৎসা করতে বা কেনাকাটা করতে যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেকগুলো স্থল বন্দর রয়েছে। এছাড়া বিমানপথেও কলকাতা, দিল্লী, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের সাথে সরাসরি ফ্লাইট আছে।

ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করলে আপনাকে অবশ্যই পোর্ট নির্বাচন করতে হবে। আগে যে পোর্ট দেয়া আছে তার বাইরে অন্য কোনো পোর্ট ব্যবহার করা যেত না। এখন এই বিষয়টি অনেক সহজ করেছে, কিন্তু তাতে সবার আরও বেশি কনফিউশন তৈরী হয়েছে।

সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করি আগে কী ছিল, আর এখন কী হয়েছে। এছাড়া কোন পোর্ট আপনি নির্বাচন করবেন তারও কিছু টিপস থাকছে।

বাই এয়ার/হরিদাশপুর আগে সবচেয়ে জনপ্রিয় পোর্ট ছিল। যে পোর্ট আপনার ভিসায় থাকলে বাংলাদেশের বেনোপোল-ভারতের পেট্রাপোল (হরিদাশপুর) হয়ে সড়কপথে যাতায়াত করা যেত। এছাড়া একই পোর্ট দিয়ে বিমানেও ভ্রমণ করা যেত। এখন আর এ অপশনটির জনপ্রিয়তা নেই।

কারণ আপনার ভিসায় যে পোর্টেই দেয়া থাক, আপনি এ দুটো অপশন ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া ট্রেনে বা সড়ক পথে গেদে ব্যবহার করতে পারবেন।

এর অর্থ হচ্ছে আপনার ভিসায় যে পোর্ট থাকুক নিচের চারটি অপশন ব্যবহার করে ভারতে যেতে বা আসতে পারবেন:

১. বাই এয়ার: (ভারতের যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে পারবেন, কলকাতা/দিল্লী যেখানেই কানেকটিং থাকুক কোনো সমস্যা নেই)। আপনার ভিসায় বাই এয়ার কথাটা লেখা থাকারও প্রয়োজন নেই।

২. বাই রোড হরিদাশপুর: সড়কপথে বাংলাদেশের যশোর জেলার বেনোপোল ও ভারতের পেট্রাপোল ব্যবহার করে ভারতে ঢুকতে/বের হতে পারবেন।

৩. বাই রেল গেদে/পেট্রাপোল: ঢাকা থেকে চুয়াডাংগার দর্শনা হয়ে মৈত্রী ট্রেনে ভারতের গেদে পোর্ট দিয়ে ঢুকতে/বের হতে পারবেন। খুলনা থেকে বন্ধন ট্রেনে পেট্রাপোল হয়ে ঢুকতে/বের হতে পারবেন।

৪. বাই রোড গেদে: দর্শনা হয়ে গেদে দিয়ে সড়কপথে যেতে/আসতে পারবেন।

এখন যদি আপনার ভিসায় উপরে উল্লেখিত পোর্টের বাইরে অন্য কোনো পোর্ট উল্লেখ করা থাকে, তবে উপরেরগুলোর পাশাপাশি ওই পোর্টও ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন ধরুন আপনার ভিসায় ফুলবাড়ি দেয়া আছে। সেক্ষেত্রে আপনি বাংলাবান্দা হয়ে ফুলবাড়ি দিয়ে ভারতে ঢুকে গেদে/হরিদাশপুর দিয়ে ফিরে আসতে পারবেন বা উল্টোটাও করতে পারবেন। মানে গেদে/হরিদাশপুর দিয়ে ঢুকে ফুলবাড়ি/বাংলাবান্দা দিয়ে ফিরে আসতে পারবেন। যে কারণে এখন ভিসায় গেদে/হরিদাশপুর/ট্রেন/এয়ার আলাদা করে থাকা না থাকার আর কোনো গুরুত্ব নেই।

এখন যে ভিসা ইস্যু করা হয় তার নিচে ছোট করে লেখা থাকে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতে কোনো রেস্ট্রিকশন নেই। এই ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট শব্দটা দিয়ে বোঝায় হরিদাশপুর, গেদে ও ভারতের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ভারত সরকার আস্তে আস্তে অন্য পোর্টগুলোকেও ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্টে উন্নীত করার কাজ করে যাচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে অন্য পোর্টগুলো মেনে চলার বাধ্যবাধকতা উঠে যেতে পারে।

তবে ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যের অনেক জায়গায় এখনও ঠিকমতো ইন্টারনেটসহ অন্যান্য অবকাঠামো না থাকার কারণে ঠিক কবে এ কাজ সম্পন্ন হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আপনার গন্তব্যের উপর ভিসার পোর্ট নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনে এই লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ড পোর্টগুলোর অবস্থান কোথায়। আপনি যদি মেঘালয়/আসাম যেতে চান তবে পোর্ট দেবেন ডাউকি। সিলেট জেলার বাংলাদেশ সীমান্তের অংশের নাম তামাবিল আর ভারতের অংশের নাম ডাউকি। অনলাইনে ভিসার আবেদন করার সময় পোর্টটা “বাই রোড ডাউকি” নামে আসবে। ডাউকি থেকে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং যেতে লাগে ২ ঘণ্টার মতো।

আপনার গন্তব্য যদি ত্রিপুরা/মিজোরামের দিকে হয় তবে আপনি পোর্ট হিসেবে নেবেন আগরতলা। বাংলাদেশের অংশ পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায়।

বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং। আপনার যদি দার্জিলিং যাবার ইচ্ছা থাকে তবে পোর্ট হিসেবে নিতে পারেন চেংড়াবান্দা।

বাংলাদেশ অংশে এ পোর্টের নাম বুড়িমারি। এছাড়া ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়েও দার্জিলিং যেতে পারেন। বাংলাদেশের অংশের নাম বাংলাবান্দা।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিাদাবাদ বা তৎসংলগ্ন এলাকায় যেতে হলে পোর্ট হিসেবে নিতে পারেন বাই রোড মহিদপুর সীমান্তটি। বাংলাদেশ অংশের নাম সোনা মসজিদ।

সরাসরি বিমানের টিকেট কাটতে গেলে ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে বেশ খরচ পড়ে। এজন্য অনেকে কলকাতা থেকে ফ্লাইট নেন। কলকাতা যেতে বা কলকাতা হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতে হলে হরিদাশপুর পোর্টটাই ভালো। এখন যেহেতু অন্য যেকোনো পোর্টের সাথে হরিদাশপুর, গেদে, বাই এয়ারে যাবার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, সেক্ষেত্রে আপনি এর বাইরে আপনার পছন্দমতো একটা পোর্ট নিয়ে রাখতে পারেন।

গেদে দিয়েও কলকাতা যাওয়া বেশ সহজ। গেদে স্টেশনের মধ্যেই রয়েছে ইমিগ্রেশন। সেখানে কাজ শেষ করার পর ১ ঘণ্টা পর পর শিয়ালদাহ যাবার ট্রেন পাবেন। সময় লাগবে ৩ ঘণ্টার মতো, ভাড়া মাত্র ৩০ রুপি।

পোর্ট সংক্রান্ত একটা ঝামেলা হচ্ছে একবার ভিসা পেয়ে গেলে সেটার মেয়াদ এক বছর থাকবে। তার আগে পোর্ট পরিবর্তন করা বেশ কঠিন ও ঝামেলাপূর্ণ বিষয়। সেজন্যই সাবধানতার সাথে পোর্ট নির্বাচন করতে হবে। এক বছরে আপনি ভারতের কোন কোন জায়গায় যেতে পারেন সেটা মাথায় রেখে পোর্ট নির্বাচন করবেন। সেজন্য যে চারটা অপশন সব ভিসার সাথে থাকছে সেটা বাদ দিয়ে অন্য একটি পোর্ট নির্বাচন করতে পারেন। এমন নয় যে আপনার পছন্দ করা পোর্ট একবার ব্যবহার না করলে অন্য পোর্টগুলো ব্যবহার করতে পারবেন না। সেরকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com