বৃহস্পতিবার , ১৮ অক্টোবর ২০১৮


ইরানকে সহযোগিতায় রাশিয়া ও চীন




ফটো নিউজ ২৪ : 13/05/2018


-->

গত মঙ্গলবার, ৮মে ২০১৮ ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও জারি করে।

কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করছে চীন ও রাশিয়া।

রাশিয়া ইরানকে সুপার জেট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ার সুখোই সিভিল এয়ারক্রাফট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে চীন।

 

রাশিয়ার সুখোই সিভিল এয়ারক্রাফট কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা তেহরানকে সুখোই সুপার জেট-১০০ বিমান সরবরাহ করবে।

সুখোই কোম্পানি আরও জানায়, ইরানের এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সুখোই সিভিল এয়ারক্রাফটের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার রুবতসভ বলেন, ইরানকে যেসব বিমান দেয়া হবে তাতে মার্কিন নির্মিত কোনো যন্ত্রাংশ কিংবা উপাদান ব্যবহার করা হবে না। এতে করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানো সম্ভব হবে।

 

গত মাসে ইউরেশিয়া এয়ার শো-তে ইরান ও সুখোই কোম্পানির মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তি অনুসারে ইরানের অসেমান এয়ারলাইন্স ও ইরান এয়ার ট্যুরস সুখোই কোম্পানির কাছ থেকে ৪০টি যাত্রীবাহী আধুনিকমানের বিমান কিনবে।

এসব বিমান ১০০ যাত্রী বহন করতে সক্ষম। ইরান এয়ার ট্যুরসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা যেসব বিমান কিনবেন তার জন্য সুখোই কোম্পানিকে ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে। কোম্পানিটি আগামী বছর থেকে বিমান সরবরাহ শুরু করবে।

 

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার চীন ইরানের সঙ্গে একটি নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে। ১ হাজার ১৫০ টন সূর্যমুখী বীজ নিয়ে মালবাহী ট্রেন ইরানের রাজধানী তেহরানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। খাদ্য ও তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয় সূর্যমুখী বীজ।

চীনা সংবাদ সংস্থা জিনহুয়া বৃহস্পতিবার চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ইনার মঙ্গোলিয়ার বায়ানুর এবং ইরানের মধ্যকার নতুন রেল সংযোগ চালুর বিষয়টি জানায়।

এই ট্রেনের পথের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা করা না হলেও এর ফলে পরিবহন সময় কমবে। সাগরপথের চেয়ে স্পষ্টতই কমপক্ষে ২০ দিন সময় কমবে।

এখান থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সূর্যমুখী বীজ তেহরানে পৌছাবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

চীনের এই ট্রেনটি এমন সময় ইরানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো যখন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

 

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ইরানের সাথে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইউরোপিয়ান মিত্রদের অনুরোধ-আহ্বান উপেক্ষা করে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন। এই চুক্তি অনুযায়ী ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিনিময়ে দেশটির উপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিলো।

২০১৫ সালে ছয়টি দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীন) সাথে এই চুক্তি হয়েছিল ইরানের।

বিশেষত, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ আরোপ করলে দেশটি তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় চালু করতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই বুধবার ইরানের রকেট হামলা এবং এর পরে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলাই প্রমাণ করে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

 

 

বুধবার মধ্যরাতে অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সেনাবাহিনীর অবস্থানে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালায় ইরান।

জবাবে সিরিয়ায় কয়েক ডজন ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইল।

 

 

ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সময় যুক্তরাষ্ট্র বিদেশী কোম্পানিগুলোর প্রতিও আহ্বান জানায়, ইরান থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই আহ্বানের ঠিক বিপরীতটাই করছে চীন ও রাশিয়া।

 

বিশেষকরে চীন এ বিষয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কয়েকজন বিশ্লেষক এমনও বলছেন, এমনকি ইরানের সাথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক, কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘণে ভীত, এমন ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়ও অবর্তীণ হতে পারে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইউরোপিয় ইউনিয়নে (ইইউ) ইরানের রপ্তানি ৩৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই ইরানে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

ইরানের সাথে বাণিজ্য সমুন্নত রাখতে চীনের আরও একটি স্বার্থগত বিষয় রয়েছে।

অন্য কোন দেশের চেয়ে তেহরান চীনের কাছেই সবচেয়ে বেশি পন্য রপ্তানি করে এবং গত বছর তা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। ইরানে চীনের রপ্তানিমূল্যও ২০ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইউরোপের চীনা কৌশল অবলম্বন করার সম্ভাবনাই বেশি।

এমনটা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র দেখতে পারে-নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া দেশটি ইরান নয়, বরং সে নিজে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, এনডিটিভি, স্পুতনিক নিউজ

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]