রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮


ফ্রিজের ইলিশ মানুষ খাচ্ছে না




ফটো নিউজ ২৪ : 14/04/2018


-->

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাকরির সুবাধে আট বছর ধরে রাজধানীতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন নাহার বানু। তিনি একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেন। গ্রামে থাকার সময় তার বৈশাখে কখনও ইলিশ পান্তা খাওয়া হয়নি। তবে রাজধানীতে আসার পর লোকের দেখা দেখে প্রতিবছরই বৈশাখের সকাল শুরু হয় ইলিশ-পান্তায়। ব্যতিক্রম শুধু এ বছর।

নাহার বলছিলেন, প্রতিবারই ইলিশ পান্তা রাখি, এবারই ইলিশের ব্যবস্থা করিনি, তবে পান্তার সঙ্গে শুকনা মরিচ-ভর্তা জমেছে। কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন- এখন তো আর ইলিশের মৌসুম না। শুধু এবার না প্রতিবারই যখন বৈশাখ আসে, তখন সাধারণত ইলিশ থাকে না। যা বাজারে পাওয়া যায়- তার বেশিরভাগই ফ্রিজে রাখা ইলিশ। ফ্রিজে রাখা ইলিশ আর মৌসুমের ইলিশ আমার কাছে এক নয়, তাছাড়া দামও বেশি। সে কারণে এবার মনে হয়েছে ইলিশ খাবো না।
শুধু নাহার নন, তার মতো রাজধানীর অনেকেই একই কথা বলেছেন।

এ ঘটনাকে অবশ্য স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন ইলিশ উৎপাদন ও গবেষণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সচেতন লোকজন। তারা বলছেন, দু-তিন বছর ধরে বৈশাখে ইলিশবিরোধী প্রচার ধীরে ধীরে হলেও সফলতা পাচ্ছে। ইলিশ রক্ষার প্রয়োজনে সচেতন অনেকে এখন বৈশাখে ইলিশ মাছ কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পয়লা বৈশাখের দিন ইলিশ নয়, শুঁটকি ভর্তা দিয়ে পান্তা ভাত খাবেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। বৈশাখে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা খাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও সুস্বাদু এ মাছকে বেড়ে উঠার সুযোগ দিতে গত দুই বছর ধরে এই দিনটিতে ইলিশ খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করছেন তিনি। গত বছরও তিনি পহেলা বৈশাখের দুই দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা ইলিশ খাবেন না, ইলিশ ধরবেন না।

তবে এর মধ্যেও বাজারে যে ইলিশি বাতাস বইছে না, তা কিন্তু না। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার ইলিশের দাম অন্যবারের তুলনায় কম। বেচাবিক্রি তেমন হচ্ছে না।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাজারে গতকাল শুক্রবার দেখা যায়, বিক্রেতারা এক দুই মাস আগের ফ্রিজের ইলিশ বিক্রি করছেন। এক বিক্রেতা বলছিলেন- বিক্রি কমে গেছে, দামও কম। এখন তো আর কেউ আগের মতো পয়লা বৈশাখে দৌড়াইয়া ইলিশ কেনে না।
তিনি প্রায় এককেজি ওজনের ইলিশেরই দাম হাকাচ্ছেন জোড়া ৩২০০ টাকা। তবে ছোটো আকারের ইলিশের দাম কম ছিল।

জানা যায়, আশির দশকে হঠাৎ করেই পান্তা-ইলিশ খাওয়ার চল শুরু হয়। শহুরে ‘এলিট শ্রেণি’ ছিলেন এই চল শুরুর পেছনে। পরে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর আগে পান্তার সঙ্গে ডিম ভাজার প্রচলন ছিল বেশি। পরে ডিমের জায়গায় জাতীয় মাছ ইলিশকে স্থান দিলে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করে। এই শ্রেণি পয়লা বৈশাখের দিন রমনায় পান্তা-ভাত, কাঁচা মরিচ, শুকনা মরিচ ভাজা, ইলিশ আর পেঁয়াজ ভাজা নিয়ে হাজির হন ভোরবেলা। মাটির সানকিতে করে তা খাওয়া শুরু হয়। পরের বছরগুলোতে এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পয়লা বৈশাখে রমনায় শিক্ষার্থীরা পান্তা-ইলিশ দেদার বিক্রি করেন। ক্রমেই তা মধ্যবিত্তের পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনে ‘অপরিহার্য’ হয়ে দাঁড়ায়। স্থান পায় পাঁচতারকা হোটেলের বৈশাখ মেন্যুতেও। এই সময়ে ইলিশের উৎপাদন কম থাকলেও চাহিদা বেশি থাকায় অস্বাভাবিকভাবেই দাম চড়তে থাকে।

পান্তা-ইলিশের বিরোধিতা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এ এইচ চৌধুরী বলছিলেন, তিনি গেলো দুই দশক ধরে রাজধানীতে বসবাস করছেন। বাঙালির পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের সঙ্গে পান্তা ও ইলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে একধরনের নব্য-বাঙালিয়ানা চল তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। নববর্ষ পালনে পান্তা-ইলিশের প্রচলন কখনোই ছিল না। আমি নিজেও কখনও এটা করিনি। আমি বরাবরই এই বাঙালিয়ানার বিপক্ষে।

তিনি বলেন, যাদের ইলিশ খাওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা শুকনা মরিচ পুড়িয়ে পান্তার সঙ্গে খান। চড়া দামে ইলিশ কিনে পান্তা খাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সঙ্গে এক ধরনের ঠাট্টা করা হয়।
এ এইচ চৌধুরী বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর বাড়ছে। এ বছরও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার বা প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে। কিন্তু ইলিশের নামে এখনও জাটকা নিধন চালাচ্ছে এক শ্রেণির জেলেরা। আর তাতে ইন্ধনও আছে এক শ্রেণির অসাধু ইলিশ ব্যবসায়ীদের। এমনকি বৈশাখেও বাজারে জাটকা বিক্রি হতে দেখা যায়।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com