বৃহস্পতিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮


অনেক কষ্ট করেছে আঁখি: রুনা লায়লা




ফটো নিউজ ২৪ : 14/04/2018


-->

বিনোদন ডেস্ক : আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিটি সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার (১৩ এপ্রিল)। ছবির একটি গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন রুনা লায়লা। ‘গল্প কথার ওই কল্পলোকে, জানি একদিন চলে যাব’ শিরোনামে গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। কন্ঠ দিয়েছেন আঁখি আলমগীর। ৫২ বছরের সংগীতজীবনে প্রথমবারের মতো গানে সুর করেছেন রুনা লায়লা। এ বিষয়ে উপমহাদেশের কিংবদন্তী এই শিল্পী কথা বলেছেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে।

প্রশ্ন : সংগীতজীবনের ৫২ বছরে আপনি কখনো গানের সুর করেননি। প্রথম গান সুর করার পেছনের গল্প জানতে চাই।

রুনা লায়লা : আমি সুরকার হবো এটা কখনোই ভাবিনি। এখনো ভাবতে অবাক লাগছে।এটা হঠাৎ করে হয়েছে।আমাকে আঁখি অনুরোধ করেছিল। আঁখি বলেছিল, ‘আন্টি আপনি তো অনেক ধরণের গান করেছেন এত বছর ধরে।বিভিন্ন স্টাইলের গান করেছেন।আপনি একটা গান কম্পোজ করুন সেটা আমি গাইব।’

তখন আমি বলেছিলাম, ‘দেখি। এটা অত সহজ কাজ তো নয়।গান সুর করা খুব কঠিন ব্যাপার।গান করা একরকম আর গান সুর করা একরকম।চেষ্টা করি।’

একদিন হঠাৎ করে গানটার মুখটা গুনগুন করে আমি গাইলাম। গেয়েই আমি ফোনে সেটা রেকর্ড করলাম। করার পরে আলমগীর সাহেব বাড়িতে ফিরলেন যখন তখন আমি তাঁকে বলেছিলাম, ‘ আমি একটা গানের মুখ তৈরী করেছি শোনো একটু কেমন লাগে।’ গানটা শোনার পর আলমগীর সাহেব কিছু বললেন না। চলে গেল।আমি একটু হতাশ হলাম যে একটা সুর করলাম। সুরের প্রতিক্রিয়া পেলাম না। ভালো ও মন্দ কিছুই বললেন না। এরপরে এটা নিয়ে আর কথা হয় না।

দুই তিন দিন পর আলমগীর সাহেব বললেন, ‘ঐ যে গানটার মুখটা করেছো সেটার অন্তরা কী করেছ?’ তখন আমি তাঁকে বলেছিলাম, ‘তুমি তো প্রতিক্রিয়া দিলে না। আমি নিরুৎসাহিত হয়ে গিয়েছিলাম। আর সুর করিনি।’ তখন বললেন, ‘আচ্ছা তুমি এটা সুর কর।’আমি বললাম,‘আচ্ছা দেখি।’ এরপর সেদিন আলমগীর একটা কাজে বাইরে গেলেন । ঘুরে এসে বললেন, ‘সুর হয়েছে?’ আমি বললাম,‘হ্যাঁ’। তখন আমাকে বললেন, ‘এত তাড়াতাড়ি করে ফেললা?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।হঠাৎ করে মাথায় এলো। আমি রেকর্ড করে ফেললাম।’

তারপর আলমগীর বললেন,‘আমার ছবিতে একটা দৃশ্য আছে যেখানে গানটা আমি নিতে চাই।’ আমিও রাজি হলাম। তারপর বললেন,‘তুমি তো সারারাত এই গান গাইতে পারবা না। যেহেতু এটা ক্লাসিকাল ধরণের গান।’ আমি বললাম, ‘না,গানটা আমি বানিয়েছি আঁখির জন্যই। আমি ওকে দিয়েই গাওয়াবো।’ তখন আলমগীর বললেন, ‘আঁখি তো এ ধরণের গান করে না।’ আমি তখন বললাম , ‘ট্রাই করি। না পারার কিছু নাই। গান তো শিখেছে ও।’

এরপর সেদিন আঁখিকে ফোন করে গানটা শোনালাম। আঁখি গান শুনে কাঁদতে শুরু করল। বলল,‘আন্টি এ গান আমি গাইতে পারব না। অনেক কঠিন গান।’ আমি বললাম, ‘তুমি পারবে। না পারার কিছু নাই। একটু চেষ্টা করো। পারবে।’

প্রশ্ন : শেষপর্যন্ত গানটি কীভাবে রেকর্ড হলো?

রুনা লায়লা : আঁখি বাড়িতে এলো। দুই তিনদিনের মধ্যে গান তুলে দেয়া হলো। এরপর আমি মুম্বাই গেলাম, ওখানেও প্রতিদিন গানটা নিয়ে আঁখির সঙ্গে আমার কথা হয়।ওকে বললাম,‘গানটা তুমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেও। না পারার কিছু নেই। তুমি পারবা।’ এরপর কলকাতা গিয়ে গানটির রেকর্ডিং করলাম।

প্রশ্ন : সিনেমার পর্দায় গানটির সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়েছন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। গানের দৃশ্যায়ণ আপনি কি দেখেছেন? কেমন লেগেছে আপনার?

রুনা লায়লা : আমার খুব ভালো লেগেছে। আঁখি খুব ভালো গেয়েছে। অনেক কষ্ট করেছে আঁখি। গানটা আঁখির জন্যই করা।

প্রশ্ন : এরপরে আবারও কী আমরা আপনাকে সুরকার হিসেবে দেখা যাবে?

রুনা লায়লা : দেখা যাক! যদি কেউ বলে তাহলে হয় তো চেষ্টা করব।

প্রশ্ন : আপনাকে চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী হিসেবেও আমরা দেখেছি। ভবিষ্যতে কোন ছবিতে অভিনয়ের ইচ্ছে আছে?

রুনা লায়লা : আর না। (হাসি)।

প্রশ্ন : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রুনা লায়লা : আপনাকেও। সূত্র: এনটিভি


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]