রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮


করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধিসহ আয়করসংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের




ফটো নিউজ ২৪ : 12/04/2018


-->

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, ব্যক্তি পর্যায়ে ন্যূনতম করহার কমানো, সারচার্জে ছাড় ও করপোরেট কর কমানোসহ আয়করসংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রস্তাব আগামী অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

একই সঙ্গে ভ্যাট এবং শুল্ক খাতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ যাচাই-বাছাই করে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে এফবিসিসিআই এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করে। সরকারি নীতিনির্ধারকরা এফবিসিসিআইর চূড়ান্ত প্রস্তাব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খতিয়ে দেখে যেগুলো গ্রহণযোগ্য মনে করবেন তা আসছে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করবেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এফবিসিসিআই যৌথভাবে আয়োজিত ৩৯তম পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সামনে এফবিসিসিআইর চূড়ান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)। এরই মধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে এসব প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআরে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

এফবিসিসিআই সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা, মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ন্যূনতম করের পরিমাণ ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। ব্যক্তিগত করের হার সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর শূন্য, পরবর্তী সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, তার পরের সাড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ, অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন।

 

সামর্থ্য অনুযায়ী কর ও সারচার্জ আরোপে বর্তমানে ব্যক্তি করদাতার সর্বোচ্চ করভার কমে আসবে এমন যুক্তি দেখিয়ে এফবিসিসিআই থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে—সারচার্জ আরোপের ক্ষেত্রে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত শূন্য, ৩ কোটি টাকার বেশি; কিন্তু ৫ কোটি টাকার বেশি নয় এমন ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ, ৫ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ১০ কোটি টাকার অধিক নয় এমন ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ, ১০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ২০ কোটি টাকার অধিক নয় এমন ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, ২০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ৩০ কোটি টাকার অধিক নয় এমন ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, ৩০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ৪০ কোটি টাকার অধিক নয় এমন ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ, ৪০ কোটি টাকার অধিক যেকোনো অঙ্কের ওপর ৩০ শতাংশ করা হোক।

করপোরেট করহার সম্পর্কে এফবিসিসিআই পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানি হলে ২২.৫ শতাংশ, নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানি-ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি (মূসক নিবন্ধিত) হলে ৩০ শতাংশ, নন-ম্যানুফ্যাকচারিং বা ট্রেডিং কম্পানি-ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (মার্চেন্ট ব্যাংক ব্যতীত) ক্ষেত্রে পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানি হলে ৩৭.৫ শতাংশ, মার্চেন্ট ব্যাংক হলে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করে।

বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত কম্পানি থেকে লব্ধ লভ্যাংশ আয়ের ওপর কম্পানির ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ, কম্পানি ব্যতীত ই-টিনআইএনধারী অন্যান্য করদাতাদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ, কম্পানি ব্যতীত ই-টিনআইএন ছাড়া অন্যান্য করদাতাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত নয় এমন বিদেশি কম্পানির প্রত্যাবাসনযোগ্য মুনাফার ওপর ২০ শতাংশ, নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানি হলে ৪০ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠন।

 

 

এফবিসিসিআইর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘উন্নত দেশে পণ্যের চাহিদা নিম্নমুখী, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা বাজার ধরে রাখতে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ন্যূনতম করহারের বেশি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা ও মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় রপ্তানিকারকরা ক্ষতির মুখে। এ অবস্থায় রপ্তানির ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ০.৭ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ০.৫ শতাংশ করা এখন সময়ের দাবি।’

লাইসেন্স ও সেবার ওপর ধার্যকৃত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, উৎপাদক বা আমদানিকারকের ওপর ১.৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য, ১২০ টাকার হাওয়াই চপ্পলে ভ্যাট প্রত্যাহার, বিনোদনকেন্দ্রে প্রবেশ মূল্যের ভ্যাট কমিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ, চেইন শপের কেনাকাটায় ভ্যাট প্রত্যাহার, প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা, ভ্যাটের একাধিক হার বহাল রাখাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব করা হয়।

একইভাবে শূন্য, ১ শতাংশ ও সুনির্দিষ্ট শুল্ক বহাল রাখা, শিল্পের কাঁচামালের ওপর এআইটি বা এটিভি নির্ধারণ না করা, দেশীয় শিল্পের স্বার্থে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা, ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূরক শুল্কের পরিবর্তে সর্বোচ্চ হারে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করাসহ শুল্ক খাতে অন্তর্ভুক্তিতে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে।

এফবিসিসিআইর প্রস্তাবে বলা হয়, ‘পণ্যের মূল্য বাজার অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে নির্ধারিত হয়। অথচ ১৯৯১ সালের মূসক আইনে মূল্য নির্ধারণে মূসক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিধান প্রচলিত আছে।

একটি করদাতাবান্ধব ও রাজস্ববান্ধব কর ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উৎপাদিত পণ্যের ঘোষিত মূল্য মূসক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিষ্প্রয়োজন।’

প্রস্তাবে ট্রেড লাইসেন্স, আইআরসি এবং ইআরসি ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক আরোপকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে, ‘বিবিধ ফি, রয়্যালটি এবং বন্দরের বিভিন্ন ধরনের চার্জের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ উৎসে মূসক কর্তন ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বাড়িয়ে দেয়। যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।’

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com