বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » খেলা » সাকিব করলেন দুই ওভার,নাজমুল হাসান অপু কেবলই ‘ফিল্ডার’


সাকিব করলেন দুই ওভার,নাজমুল হাসান অপু কেবলই ‘ফিল্ডার’




ফটো নিউজ ২৪ : 16/03/2018


-->

ইনিংসটা যেন সূর্যের মতো হলো। শুরুর আলো মিলিয়ে গেল শেষ দিকে। মাত্র ৪১ রানের মাথায় শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

সেটাও ৮.১ ওভারের মধ্যে। বোলিংয়ের সেই ধার ভোঁতা করে দিলেন কুশল পেরেরা ও অধিনায়ক থিসারা পেরেরা।

তাদের ব্যাটে চড়ে ৭ উইকেটে ১৫৯ রানে থামল শ্রীলঙ্কা।

নিদাহাস ট্রফিতে শুক্রবার শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের লড়াই ফাইনাল নিশ্চিত করার।

সে কারণেই বাঁ হাতের আঙুলের ইনজুরি শঙ্কা থাকলেও দলে যোগ দেন সাকিব আল হাসান।

অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে টস জিতে আগে ফিল্ডিং শুরু করেন।

দ্বিতীয় দফায় অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে এটাই সাকিবের প্রথম ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া। সহজাত আক্রমণাত্বক বোলিং খোলা চোখে ধরা দিয়েছে পুরো ইনিংসজুড়ে।

বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটাই করেন তিনি। মাত্র ৩ রান খরচ করলেন ওই ওভারে। দ্বিতীয় ওভারে রুবেল হোসেন ১২ রান খরচ করেন। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকাকে ফেরান তিনি। দুই মাস পর মাঠে ফেরার প্রথম অংশটা রাজার মতোই হলো তার।

সাকিব যেন ওই সময়ে বোলারদের মনে উইকেট শিকারের নেশা ঢুকিয়ে দিলেন। শুধু উইকেট নেওয়া নয়, ফিল্ডিং আর টাইট বোলিংয়ে একরকম দিশেহারা হয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। প্রেমাদাসা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের গ্যালারির তুমুল উল্লাস থেমে আসছিল ক্রমেই।

নিয়ম করে প্রতি এক ওভার বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল লঙ্কানরা। গুনাথিলাকার পর চতুর্থ ওভারের শেষ বলে কুশল মেণ্ডিসকে ক্যাচ আউটের ফাঁদে ফেলেন বাঁ হাতি মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৩ উইকেট পাওয়ার পর ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। শুক্রবারের বাঁচা-মরার ম্যাচে আবারও ফিরলেন দ্য ফিজ। কুশল মেন্ডিসের পর আবারও বল হাতে নিয়ে কট বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলে ফেরালেন দাশুন শানাকাকে। ওই ওভারে অবশ্য একটি রান আউটও হয়েছে। মেহেদী হাসান মিরাজ উপুল থারাঙ্গাকে প্রান্ত বদল করার আগেই উইকেট ভাঙেন।

পঞ্চম উইকেট নিয়েছেন মিরাজ নিজেই। ডানহাতি এই স্পিনারকে খেলতে গিয়ে থার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দেন জীবন মেন্ডিস। সহজেই তা তালুবন্দী করেন মুস্তাফিজ।

৪১ রানে ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপরই ঘুরে যায় ম্যাচের ভঙ্গি।

অধিনায়ক থিসারা পেরেরা ও কুশল পেরেরার জুটি দেয়াল তৈরি করেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তাদের ৯৭ রানের জুটি সবকিছু কঠিন করে দেয় লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জন্য। অধিনায়ক হিসেবে এই সময়ের মধ্যে সাকিব বারবার বল হাতে তুলে দিচ্ছিলেন ডানহাতিদের কাছে। কেবল কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ কোটার ৪ ওভার বল করতে পেরেছেন।

ডানহাতি ব্যাটসম্যান দেখেই কিনা প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করেও আর বল হাতে নেননি সাকিব। শুধু তাই নয়, বাঁ হাতি স্পিনার নাজমুল হাসান অপুকে বাউন্ডারি লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন কেবলই ‘ফিল্ডার’ হিসেবে!

অথচ উইকেটশূন্য থাকলেও শেষ তিন ম্যাচে কম রান খরচের দিক থেকে অনেকের চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিলেন তিনই। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ২৭ রান খরচ করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ ওভারে ২০ রান দেন। শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষেও ২ ওভার বল করেন। খরচ করেছিলেন ১৫ রান।

অন্যদিকে ষষ্ঠ উইকেটে ৯৭ রান তুলতে গিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন দুই পেরেরা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি লঙ্কানদের পক্ষে এই উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। সপ্তম উইকেটে ১৬ রান পায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় ১৫৪ রানের মাথায় সৌম্য সরকারের বলে আউট হন অধিনায়ক পেরেরা। পরের বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন ইসুরু উদানা। কিন্তু তা নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৯ রানে থামে তারা।

ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৬১ রানের ইনিংস খেলেন কুশল পেরেরা। অধিনায়ক থিসারা পেররা খেলেন ৩৭ রানের ইনিংস। বল হাতে মুস্তাফিজ দুটি উইকেট নিয়েছেন।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com