বৃহস্পতিবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮


‘গহীন বালুচর’ সাধারণ মানুষের জন্য মেইনস্ট্রিম ফিল্ম’




ফটো নিউজ ২৪ : 09/01/2018


-->

subarna-soudবিনোদন প্রতিবেদক : বদরুল আনাম সৌদের নির্মাণে ‘গহীন বালুচর’ চলচ্চিত্রটিতে নির্বাহী প্রযোজক ও অভিনেত্রী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা । চলচ্চিত্রটিকে ঘিরে আড্ডায় জানালেন তাদের কথা..

প্রশ্ন : নির্মাণে, অভিনয়ে এমনকি প্রযোজনায় ‘গহীন বালুচর’ আপনাদের যৌথ প্রয়াস। কেমন ছিল দু’জনের কেমিস্ট্রি?

সুবর্ণা: ‘গহীন বালুচর’-এর কারণে আমার মনে হয় জ্যামিংটা বেটার হয়েছে। যা হয়, সৌদ এটার ডিরেক্টর, স্ক্রিপ্ট রাইটার, ডায়ালগ-সব তার।

আমি আমার দিক থেকে চেষ্টা করেছি যতদূর হেল্প করা যায়, মানসিক সাপোর্ট বলি, ফিজিক্যাল সাপোর্ট বলি-থাকা ওইখানে। চেষ্টা তো করতেই হবে।

আর আমাদের দুজনের একটা ব্যাপার হচ্ছে আমরা দুজনে কাজ করতে খুব ভালোবাসি, ক্রিয়েট করতে খুব ভালোবাসি।

সৌদ: একটা ফিল্ম কখনো একক প্রচেষ্টায় হয় না, টিম ওয়ার্ক লাগে। সেই টিমে আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী, সবচেয়ে বড় সঙ্গী হিসেবে সুবর্ণার নামই আসতে হবে।

‘গহীন বালুচর’ করার সময় সবচেয়ে ভালো দিনটিতে সবচেয়ে খারাপ দিনটিতে সবসময়ই সুবর্ণা পাশে ছিল। আমাদের কেমিস্ট্রি ঠিকঠাক ছিল।

ওই যে সুবর্ণা একটা কথা বললো- ‘গহীন বালুচর’ আমাদের দু’জনকে কাছে আনা বা বোঝাপড়ার জায়গাটাতে-একজন আরেকজনকে চেনার সুযোগ করে দিয়েছে।

সুবর্ণা: হ্যাঁ, কারণ একসঙ্গে আমাদের অনেকগুলো টেলিভিশন প্রোডাকশান আছে, টেলিফিল্ম আছে, দীর্ঘ ধারাবাহিক আছে, সিঙ্গল নাটক আছে। কিন্তু একটা ফিল্মের এক্সপেরিয়েন্সটাই তো আলাদা।
দীর্ঘ সময় নিয়ে, অসীম ধৈর্য নিয়ে, সৌদ যেটা বললো যে, কখনো খুব বিরক্তি নিয়ে, খুব মনোকষ্ট নিয়ে…তখন আমরা দু’জনেই একসাথে প্রতিটি স্টেপ রেখেছি।

সৌদ: হ্যাঁ, এখনও পর্যন্ত..(হাসি)

প্রশ্ন : আপনার পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘খণ্ডগল্প ১৯৭১’, ২০১১ সালে শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। কিন্তু প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে ‘গহীন বালুচর’-এর নাম বলছেন আপনি। কেন?

সৌদ: এটা নিয়ে আমি অনেক কথা শুনছি। কিন্তু আমি কখনোই সরাসরি ভোকাল না। এতবছর যারা আমাকে চেনে তারা জানে আমি খুব একটা ভোকাল না। আমি চুপ করে ছিলাম।

আজ বলছি, চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র আমার তরফ থেকে ‘গহীন বালুচর’।

প্রশ্ন : প্রথম ফিল্ম হিসেবে তাহলে ‘গহীন বালুচর’ নিয়েই ইমোশন ছিল..

সুবর্ণা: উই আর অন এ হাই। কারণ ছবিটা মুক্তি পেয়েছে সাতদিন হয়েছে। এটি এখন সবাই জানে এবং এটা একটা এস্টাবলিশড ফ্যাক্ট-এটি একটি চলচ্চিত্র, এটি একটি মূলধারার চলচ্চিত্র, এটি একটি সুনির্মিত চলচ্চিত্র ।

হলমালিক থেকে শুরু করে, যে দর্শক ছবিটি দেখছেন বা রিভিউ যেটা দেখছি, এটা ২০১৭ সালের অন্যতম সেরা একটি ছবি-এবং সাধারণ দর্শকের ছবি। ঠিক যে জায়গাটাতে সৌদ আসলে পৌঁছাতে চাইছিলেন-মানুষের আবেগকে স্পর্শ করার ব্যাপারটা।

আমি রানীমহলে বসে ছবি দেখেছি। সাধারণ মানুষদের সাথে..

সৌদ: তারা জানতো না যে আমরা তাদের সঙ্গে বসে দেখেছি।

সুবর্ণা: হ্যাঁ সারপ্রাইজ ভিজিট ছিল। আমি সিনেপ্লেক্সে বসেও দেখেছি, খুব এলিট দর্শকের সঙ্গেও। দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েও দেখেছি।

প্রতিটি জায়গায় দর্শকের অনুভূতি এক। দর্শক এটিকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। ওনারা গল্পের সাথে থাকছেন।

ছবি শেষে কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, এমনকি, হলমালিক, হলের ম্যানেজাররাও।

এটি একটি সুনির্মিত চলচ্চিত্র, যা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ সাধারণ দর্শকের কাছে।

প্রশ্ন : দেশীয় বাস্তবতায় এফডিসি কেন্দ্রিক কমার্শিয়াল ছবিকেই মেইনস্ট্রিম ছবি হিসেবে ধরে নেন সাধারণ দর্শক। ফিল্মের চেহারা দেখেই ধরে নেওয়া হয় এটি মেইনস্ট্রিম না অলটারনেট। ‘গহীন বালুচর’কেও কি দর্শক সে বিবেচনায় ফেলছে বলে মনে করছেন? প্রশ্নটা এ জন্যই এলো যে, ছবি নির্মাণের শুরুতে গ্লিটজের এক প্রশ্নের উত্তরে আপনি বলেছিলেন ‘‘ ‘গহীন বালুচর’ সাধারণ দর্শকের ছবি”..

সৌদ: কোনোভাবেই না। ছবির যতগুলো ক্যাটাগরিই বলিনা কেন, অলটারনেট বলি, ইনডি বলি, প্যারালাল বলি, যতগুলো ক্যাটাগরি আমরা করছি, ‘গহীন বালুচর’ সাধারণ মানুষের জন্য মেইনস্ট্রিম ফিল্ম।

আমি এফডিসির কথা বলছি না। মেইনস্ট্রিম ফিল্মের কিছু ফর্মুলা থাকে-‘গহীন বালুচর’কে নির্দ্বিধায় সে ফর্মুলায় ফেলে দেওয়া যায়, যেখানে আমরা নাটকীয়তা পাই, গান পাই, নাচ পাই দর্শককে স্পর্শ করার মতো অনেক ধরনের এলিমেন্টস পাই।

আমি জানি যে দর্শক হাসতে পছন্দ করে, আমি জানি যে দর্শক কাঁদতে পছন্দ করে সব কিছু মাথায় রেখেই ‘গহীন বালুচর’ নির্মাণ করা হয়েছে।

সুবর্ণা বলছিল যে, ‘গহীন বালুচর’ সুনির্মিত ছবি, আমি এটি জানি না। এটা একান্তই দর্শকের অভিমত। দর্শক যদি বলে এটি ভালো মুভি তাহলে ভালো, যদি বলে মন্দ, তাহলে মন্দ। কিন্তু এটি মেইনস্ট্রিম ফিল্ম।

সুবর্ণা: আমি একটা কথা বলতে চাই, সব ছবিই কমার্শিয়াল। সবচেয়ে দুর্বোধ্য ছবিটি যে বানায় সেও চায় তার ছবি ব্যবসা করুক। সেটা ব্যাপার নয়, আমার কাছে হচ্ছে, হয় এটা গুড মুভি না হয় এটি ব্যাড মুভি।

আমি যখন ‘অজ্ঞাতনামা’ দেখি, এটা গুড মুভি, আমি যখন ‘আয়নাবাজি’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেখি.. এগুলো গুড মুভি।

আমি যখন না-শিল্প-না-বাণিজ্য, ছবিই বুঝলাম না, ঘুম এসে গেল দ্যাট ইজ এ ব্যাড মুভি। নো ম্যাটার এটা কে বানিয়েছে, নো ম্যাটার এখানে কাস্ট কে।

আর ছবি দিয়ে পয়সা আয় করলে সেটাতে সমস্যা কী? সে জন্যই তো বানানো চলচ্চিত্রটি। আর দেশের মেইনস্ট্রিম ছবিই যদি না দাঁড়ায়, অলটারনেটটার তো কোনো মানেই নাই।

মেইনস্ট্রিম থাকবে, অলটারনেট থাকবে। অলটারনেট কীভাবে থাকবে? যখন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিই প্রায় বসে যাওয়ার মতো অবস্থায়।

সৌদ একটি কথা বলে আমার খুব পছন্দ হয়-‘দর্শকের রুচির সঙ্গে চলতে হবে। দর্শক যদি এক-দুই কাউন্ট করতে পারে আমি আড়াই-তিন শেখাব, আমি বারো শেখাব না দর্শককে’

প্রশ্ন : সে ক্ষেত্রে ‘গহীন বালুচর’-এর কাস্টিংটা একটু রিস্ক হয়ে গেছে না? এক সপ্তাহ পর কী মনে হচ্ছে?

সৌদ: এখন আমার কোনোভাবেই মনে হচ্ছে না যে কাস্টিংটা রিস্ক হয়েছে। আমি যেটা ফিল করেছি, সেখান থেকেই বানিয়েছি। সেটা কখনো ভুল হয়েছে, শুদ্ধ হয়েছে।
কিন্তু ওভারঅল আমার মনে হয় যে, কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে আমার ডিসিশনগুলো ঠিক ছিল। এক সপ্তাহ পেরোলো আরও দুই তিন সপ্তাহ পেরোলে আমি হয়তো পুরো চিত্রটা দেখতে পাবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত আই অ্যাম হ্যাপি উইথ ইট।

প্রশ্ন : ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের জন্য, প্রচারণার মাঝপথে থেকেও মুক্তি পেছাতে হলো, এখন আবার ‘পুত্র’ চলচ্চিত্রটির জন্য মুক্তির একসপ্তাহ না পেরোতেই হলগুলোতে থামলো প্রদর্শন। বেশি স্যাক্রিফাইস হয়ে গেল কি?

সৌদ: প্রথমত ‘ঢাকা অ্যটাক’কে অভিনন্দন, দর্শককে হলমুখী করার জন্য। সে সময় ‘ঢাকা অ্যটাক’-এর জন্য রিলিজ পিছোতে হয়েছে বলে আমার কোনো অসুবিধা নেই।

যদি তখন রিলিজ হতো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত আমি হতাম, কিছুটা ‘ঢাকা অ্যটাক’ হতো।

এবার আসি ‘পুত্র’ প্রসঙ্গে। ২৯ তারিখ আমাদের সিনেমা রিলিজ হলো, ৫ তারিখ আবার ‘পুত্র’। কিছু সময় আসে যখন মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সে হিসেবে এ সপ্তাহে ‘পুত্র’ চলছে আগামী সপ্তাহেই আমরা ফিরে আসছি।

সুবর্ণা: কমপ্লেইন করতে চাইছি না। ছবি কেমন হয়েছে তা পরে দেখা যাবে, কিন্তু অটিস্টিক বেবিদেরকে নিয়ে একটা ছবি, উদ্দেশ্য ভালো, কন্টেইন্টও সামথিং নিউ, নির্মাতা সাইফুল ইসলাম মান্নুও আমাদের বন্ধুমানুষ।

প্রশ্ন : সেক্ষেত্রে নতুন সপ্তাহে ‘গহীন বালুচর’ দর্শকের কাছে পৌঁছাতে প্রচারণায় কি নতুন কিছু থাকছে?

সৌদ: আমরা আবার দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবো। ১২তারিখ যেসব হলগুলোতে ‘গহীন বালুচর’ থাকবে সেই হললিস্টটা জানানো, হলগুলোকে কেন্দ্র করে কোথাও সুবর্ণার যাওয়া, কোথাও পুরো টিম যাওয়া, ফেইসবুক ক্যাম্পেইন চলবে। আমরা নতুন করে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবো।

তবে, আমি একটা ব্যাপারে আপ্লুত যে, আমি যেখানেই গেছি, সবধরণের দর্শক সিনেমাটিকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। অন্তত নব্বইভাগ দর্শক পজিটিভ ছিল, এতটা আমি আশা করিনি।

প্রশ্ন : দর্শকের ভালোলাগা আর সিনেমার ব্যবসা সাফল্য দুটো কি একসঙ্গে মার্চ করছে?

সৌদ: না সেটা এখনো একেবারেই করেনি। আমার সিনেমায় শাকিব খান নেই, আরেফিন শুভ, মাহিয়া মাহি, পরী মনি নেই, যারা প্রথম দু’তিন দিন দর্শক টেনে আনে। এ নিয়ে আমার কোনো আফসোসও নেই।

একেকটি সিনেমা একেকভাবে দর্শকের ভেতরে প্রবেশ করে। বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেও একেকটা সিনেমার কৌশল একেকরকম হয়।

আমার সিনেমা একসঙ্গে আশিটা বা একশ’টা সিনেমা হলে রিলিজ পায়নি। কেননা আমি জানতাম আমি হঠাৎ করেই দর্শককে সিনেমা হলে আকৃষ্ট করতে পারবো না। এটি হবে মাউথ টু মাউথ পাবলিসিটি।

আমি শুক্র, শনি এবং রবি এই তিনদিনের মধ্যে আশি লাখ টাকা আয় করে ফেলবো না। শুক্রবার যে ধরণের দর্শক থাকে রোববার গিয়ে সেটা থাকে না। সোমবারও যদি দর্শক না থাকে তাহলে বুঝতে হবে সিনেমা পড়ে গিয়েছে।

কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। আমার ক্ষেত্রে মঙ্গল, বুধ বৃহস্পতি এ তিনদিন শুক্রবারের সমান দর্শক ছিল। তার মানে দর্শক আস্তে আস্তে পিক করছে। যে জায়গাটা নিয়ে আমি হ্যাপি।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখনই তাই বলা যাবে না সফল কি ব্যর্থ। আরও দু’তিনসপ্তাহ বিভিন্ন হলে ছবিটা চলতে হবে।

আমরা আশা করছি যেখান থেকে আমরা শেষ করেছিলাম, সেখান থেকেই আবার শুরু হবে। বেশকিছু হলে আবার ‘গহীন বালুচর’ ফিরে আসবে।

সুবর্ণা: আরেকটা কথা হচ্ছে, যেহেতু দ্বিতীয় সপ্তাহটা টানা পাওয়া গেল না, সুতরাং একটা ব্রেক তো হচ্ছেই। একদিক থেকে আমি খুব আশাবাদী মানুষ, অন্যদিকে সত্যকে খুব দ্রুত গ্রহণ করে নিতে পারি আমি, এবং আমি খুবই লজিক্যাল।
আমার মনে হয়, তাড়াহুড়ো করে আমি বলে দিলাম তিনদিনে এককোটি টাকা আয় করেছি, দরকার কী? দরকার নেই তো।

সত্যি কথা বলতে কি, আমি জানি না এটি ইন্টারভিউতে বলা যায় কি না, এটা খুবই ইন্টারেস্টিং, আমি এই ছবিটা নিয়ে খুব ইনভল্বড, সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু কথার মাঝখানে মাঝখানে আমি সৌদকে বলি, ‘সৌদ শোন, ছবিতো হবেই, ভাত খাওয়ার ব্যবস্থাও তো করতে হবে, সিরিয়ালটা শুরু করো, এটা রিয়েলিটি।’

যতক্ষণ পর্যন্ত না একটা ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, এফডিসিতে প্রতিদিন শুটিং শুরু হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। একটি সুপার হিট ছবি দিয়ে আসলে ভাত খাওয়া যায় না।

তাই আমি সৌদকে সবসময় বলি, ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা তো করতে হবে, স্ক্রিপ্টটা লেখা শুরু করো, ওখানে একটু যাও, কাজটা শুরু করো। ফিল্ম তো হবেই। কখনোই আমার আর সৌদের মাথায় না, রঙিন চশমা পরা না, রেইনবো কালারস দেখছি না।

মাথা সবসময়ই ঠান্ডা এবং পা মাটিতে। এ ধরণের অবস্থানে থাকলে, যে কোনো জিনিস একসেপ্ট করা, যে কোনো জিনিসের জন্য ধৈর্য ধরা, আর দু’জনেই কখনো মিথ্যাচার করি না। এটা খুব আরামের, স্বস্তিদায়ক অবস্থান।

প্রশ্ন : আপনাদের দু’জনের ফিল্ম জার্নিটা কতদিন পাবো আমরা?

সৌদ: নেক্সট ফিল্ম বানাবো কি না?

সুবর্না: সে করবে, আমি মোটামুটি কনফার্ম সে করবে।(হাসি)

সৌদ: আমি যদি সুযোগ পাই, নির্দ্বিধায় সিনেমা করবোই।

সুবর্ণা: করবে করবে, আমি জানি, কিন্তু ওই যে ভাত খাওয়ার ব্যবস্থাটা বলেন যে ঠিক করে রাখতে..(হাসি)।

সে এক বছর কিছুই করেনি। অ্যবসুলিউটলি নাথিং-গত এক দেড় বছরে।

সৌদ: আমি প্রতিদিন সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম তা নয়, আমি প্রতিদিন সিনেমাটা মাথায় বহন করেছি। এটার সঙ্গে হেঁটেছি, হেসেছি, কেঁদেছি। সমস্ত কিছুতেই সিনেমাটা সঙ্গে ছিল। আমার হয়তো সময় ছিল, চাইলেই এটা করতে পারতাম ওটা করতে পারতাম। সেটার জন্য যতটুকু মনঃসংযোগ করা প্রয়োজন, একটি বিষয়ে একটি নাটকে, সেটা আমার ছিল না। সেক্ষেত্রে অন্য কাজটির প্রতিও অবিচার হতো, সিনেমার প্রতিও অবিচার হতো।

সুবর্ণা: আমি চাইওনি যে সৌদ ছবি’র কাজের মধ্যে…। লিখতে পারে, লেখাটা সৌদের জন্য অনেক বেশি রিলাক্সেশানও বটে। ও গল্প বলতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু আমিও চাইনি যে ছবি অন্য কোথাও ডিসট্রাক্টেড হোক।

আর ছবি সম্পর্কে একটা কথা বলতে আমি খুব ভালোবাসি। অনুদান পাওয়ার পর, ২২ ডিসেম্বরের পর ঠিক ছয়মাসের মাথায় ছবিটি সেন্সর সার্টিফিকেট পেল। আনকাট সেন্সর সার্টিফিকেট টা আমাদের হাতে ছিল। দ্যাট ইজ এ রেকর্ড, বাংলাদেশের হিস্ট্রিতে, যে একটা ছবি ছয়মাসের মাথায় পুরোপুরি রিলিজের জন্য রেডি হয়ে গিয়েছিল। আই অ্যাম ভেরি প্রাউড অব দ্যাট।

প্রশ্ন : সংকটের কথা অনেক হল, এবার জানতে চাই ‘গহীন বালুচর’ নিয়ে দর্শকের কাছ থেকে পাওয়া বেস্ট কম্প্লিমেন্ট, যেটা আপনাদের নাড়া দিয়েছে।

সৌদ: আমি বলাকা হলে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। সিনেমাটা শেষ হলো, তার চোখে পানি। সে উঠে লাইটটা জ্বালানোর পরে সুবর্ণাকে দেখেছে। তার চোখের পানি ঝরঝর করে পড়ছে। সে সিনেমাটার সঙ্গে বসবাস করছিল। এরপর সে সুবর্ণাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। আমার মনে হয় যে এর চেয়ে বেটার কমপ্লিমেন্ট তো মুখে বলে হতে পারে না।

সুবর্ণা: সিনেপ্লেক্সে একজন দর্শক আমাকে এসে বললেন, তিনি ৩২বছর পর সিনেমা হলে এসেছেন। ছবির ট্রেইলার ওনাকে সিনেমা হলে নিয়ে এসেছে। ওনার ক্যান্সার, উনি কেমোথেরাপি নিচ্ছেন।
ছবিটি দেখার পর আমাদেরকে দেখে কথা বললেন, ‘৩২বছর পর সিনেমা হলে আসাটা আমার সার্থক হয়েছে। এ সময়টা আমি আমার অসুখের কথা ভুলে ছিলাম।’

আমি এই ভালোবাসাটার কথাই ভাবছিলাম। এটা অনেক বড় একটা পাওয়া। বুকিশ শোনাবে হয়তো, যার কোনো মূল্য হয় না, অমূল্য, এটা একটা তেমনই ব্যাপার। টাকা দিয়ে কেনা যায় না..

প্রশ্ন : ২০১৮’র পরিকল্পনা কী?

সৌদ: আরেকটা সিনেমা..

সুবর্ণা: এ বাবা..(হাসি)

সৌদ: কী ধরণের সিনেমা জানি না, দু-তিনটা জিনিস মাথায় আছে। হয়তো ‘গহীন বালুচর’ অধ্যায়টি যখন শেষ হবে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের দিকে বসবো।

সুবর্ণা: তুমি একটা একদম সেইরকম ধুম ধাড়াক্কা ছবি বানাও দেখি..

সৌদ: সেটা কীভাবে বানাবো তাতো জানি না..

সুবর্ণা: সেইরকম এনন্টারটেইনমেন্টের সিনেমা

সৌদ: ‘গহীন বালুচর’ এন্টারটেইনমেন্টের সিনেমা নয় বলছো?

সুবর্ণা: আমি বলছি ধুমধাড়াক্কা..ঢিসুম ঢিসুম..

সৌদ: দেখি না, দেখি..

সুবর্ণা: সেটাও এনজয়েবল হতে পারে..

সৌদ: কিন্তু কী তৈরি করবো সেটা ফেব্রয়ারি বা মার্চ মাসে গিয়ে ঠিক করবো..


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]