বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২০


কম খরচে সড়ক পথে নেপাল ও ভুটান ভ্রমণ




ফটো নিউজ ২৪ : 11/11/2017


-->

Swayambhunath-in-Kathmandu

আসিফ সুফিয়ান – আসুন জেনে নেই কিভাবে সড়ক পথে নেপাল ও ভুটান কম খরচে ঘুড়ে আসা যায়

 

  • নেপাল 

কম খরচে হিমালয়কন্যা নেপাল থেকে ঘুরে আসতে চাইলে সড়কপথে ভ্রমণ করতে পারেন। সড়কপথে নেপাল যাওয়ার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ভারতের ট্রানজিট ভিসা। ট্রানজিট ভিসা নেওয়ার সময় এন্ট্রি এবং এক্সিট পোর্ট দেবেন চ্যাংড়াবান্ধা/ রাণীগঞ্জ।

নেপালের জন্য আলাদা করে ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নেপালে পৌছলেই মিলবে অন অ্যারাইভাল ভিসা। এই স্টিকার ভিসা মিলবে এন্ট্রি পোর্টেই। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য একই বছরের প্রথম ভ্রমণে ভিসা ফি লাগবে না।

 

একই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ভ্রমণ করতে চাইলে ১৫ দিনের মাল্টিপল ভিসার জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা ভিসা ফি প্রদান করতে হবে।

চাইলে ঢাকায় অবস্থিত নেপালের এমব্যাসি থেকেও নিয়ে নিতে পারেন ভিসা।

 

বাসে বুড়িমারি বর্ডারে চলে যান সরাসরি। সেখানে ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ শেষ করে প্রবেশ করবেন চ্যাংড়াবান্ধায়। সেখানেও রয়েছে বেশকিছু কার্যক্রম। কাজ শেষে আপনাকে যেতে হবে রাণীগঞ্জ।

border

ভারতের রাণীগঞ্জ বর্ডার দিয়েই আপনাকে ঢুকতে হবে নেপালের কাঁকড়ভিটায়।

শিলিগুড়ি থেকেও বাসে সরাসরি চলে যেতে পারেন কাঁকড়ভিটা। ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে কাঁকড়ভিটা থেকে পাবেন পোখারার বাস।

জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ রুপির মতো পড়বে খরচ। সময় লাগবে ১২ ঘণ্টার বেশি।
ফেউয়া লেক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা চমৎকার একটি শহর পোখারা। পাহাড় ও লেকের মাঝখানে থাকা এই শহর বলা হয় নেপালের রাণী। এখান থেকেই দেখা মিলবে হিমালয় চূড়ার। ফেউয়া লেক, ডেভিস ফল, ইন্টারন্যাশনাল মাউন্টেন মিউজিয়াম, মহেন্দ্র গুহা ঘুরে দেখতে পারেন।

pokhara

একদিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে পোখারা ঘুরতে খরচ হবে ৫ হাজার টাকার মতো।

লেক সাইডে থাকার জন্যও পেয়ে যাবেন চমৎকার সব হোটেল। খরচ ১ হাজার থেকে ২০০০ রুপির মধ্যেই।

 

 

 

পোখারায় প্যারাগ্লাইডিং করতে পারেন চাইলে। জনপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ ডলারের মতো খরচ করতে হবে প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য।

dhampus-sarangkot

সারাংকোট থেকে সূর্যোদয় দেখতে ভুলবেন না। পোখারা থেকে সারাংকোট যেতে সময় লাগবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। এটি একটি পর্বত চূড়া।

 

পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর সূর্যোদয় দেখা যায় এখান থেকে। সূর্য উঁকি দেওয়ার আগেই কমলা, হলুদ রংয়ে রাঙতে শুরু করে ধবধবে সাদা অন্নপূর্ণা। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন সারাংকোটে। ফিশ টেইল বা মৎস্যপুচ্ছ দেখা যায় এখান থেকেই।

পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড পিচ প্যাগোডা দেখতেও ভুলবেন না।

 

 
পোখারা ঘুরে চলে আসতে পারেন নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। বাসে আসতে চাইলে জনপ্রতি ৪৫০ থেকে ৮০০ রুপির মতো খরচ পড়বে। গাড়ি রিজার্ভ করে আসতে চাইলে খরচটা বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। সময় লাগবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। কাঠমান্ডু ব্যস্ত শহর।

Annapurna

থামেলে প্রচুর ভালো মানের হোটেল মিলবে থাকার জন্য। খরচ ৬০০ থেকে ১৫০০ রুপির মধ্যেই। এখানে কেনাকাটাও করতে পারবেন ইচ্ছেমতো। তবে দামাদামি করতে হবে অনেক। দরবার স্কয়ার দেখতে পারেন। নাগরকোট দেখতেও ভুলবেন না।

 

কাঠমান্ডু থেকে ৩২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নাগরকোট। মেঘ ও পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ ধরে চলতে চলতে উপভোগ করতে পারবেন অসাধারণ সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

 

 

কাঠমান্ডু বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি কাঁকড়ভিটার বাস পেয়ে যাবেন। ভাড়া পড়বে ১ হাজার ১০০ রুপি থেকে ২ হাজার রুপি পর্যন্ত।

সময় লাগবে ১২ ঘণ্টার মতো। সেখান থেকে একইভাবে ফিরতি পথ ধরুন।

kathmandu

জেনে নিন –

চ্যাংড়াবান্ধা প্রবেশের সময় টাকা থেকে রুপি করে নিতে পারবেন।
ভারতীয় রুপি নেপালে বহুল প্রচলিত। তাই চাইলে ভারতীয় রুপি ব্যবহার করেও দিব্যি ঘুরে আসতে পারবেন নেপাল।
নেপালের খাবার সুস্বাদু। ভাত, রুটি, ফ্রাইড রাইস- সবই পাবেন এখানে।
হিন্দি ও ইংরেজি জানলে সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন স্থানীয়দের সঙ্গে।
কেনাকাটার সময় প্রচুর দামাদামি করতে হবে। নাহলে ঠকে যাবেন।
সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও পাসপোর্টের ফটোকপি রাখবেন অবশ্যই।

 

Bhutan gate Phuentsholing

  • ভুটান 

পাহাড় আর সবুজের অপরূপ ভুটান থেকে ঘুরে আসতে পারেন সড়কপথেই। এজন্য সবার আগে আপনাকে নিতে হবে ট্রানজিট ভিসা।

সাধারণত ১৫ দিনের ট্রানজিট ভিসা পাওয়া যায় একবারে। এই সময়ের মধ্যেই ভারতের সড়ক ব্যবহার করে যাওয়া ও আসা যাবে।
ট্রানজিট ভিসা নিয়ে সোজা চলে যান বুড়িমারি বর্ডারে। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে চ্যাংড়াবান্ধা যেতে হবে। সেখানেও রয়েছে বেশকিছু ফর্মালিটি। চ্যাংড়াবান্ধা থেকে আপনাকে যেতে হবে জয়গাঁও বর্ডার। ট্যাক্সিতে চলে যেতে পারেন। সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মতো।

 

ট্যাক্সিতে ৪০০ রুপি মতো খরচ পড়বে জনপ্রতি। রিসার্ভ যেতে চাইলে সেটা হয়ে যাবে দেড় থেকে দুই হাজার রুপির মতো।

চাইলে বাসেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ কমে আসবে অনেকটাই। জয়গাঁও ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে আপনাকে হেঁটেই ঢুকতে হবে ভুটান।

জয়গাঁও এর ওপারেই ফুন্টসোলিং। এখানেই আপনাকে অন অ্যারাইভাল ভিসা দেবে ভুটান। ব্যস! এবার নিশ্চিন্তে ভুটান ঘোরার পালা।

 

 

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাংলাদেশ থেকে রাতে রওনা দিয়ে পরদিন দুপুরেই পৌঁছে যাবেন ভুটানে। চাইলে সেদিন ফুন্টসোলিং থেকে যেতে পারেন। মোটামুটি কম খরচেই মিলবে ভালো হোটেল। জনপ্রতি ১ থেকে দেড় হাজার টাকায় থাকা এবং খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে ফুন্টসোলিংয়ে।

bhutan

হাতে সময় বেশি না থাকলে সেদিন ফুন্টসোলিং না থেকে চলে যান পারো অথবা থিম্পুতে।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে পারো কিংবা থিম্পু যেতে আপনার সময় লাগবে সাত থেকে আট ঘণ্টা।

তবে হাতে সময় থাকলে একদিন থেকে ছোট্ট শহর ফুন্টসোলিং ঘুরে দেখতে ভুলবেন না। সুন্দর সাজানো গোছানো শহরের পাশ দিয়ে রয়েছে চলেছে নদী।

 

photonews24

কম খরচে পারো অথবা থিম্পু যেতে চাইলে বাসই ভরসা। সেক্ষেত্রে আগের দিন টিকিট করে রাখুন। ট্যাক্সি নিয়েও চলে যেতে পারেন।

পারোতে থাকার খুব ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। পারোতে গেলে টাইগার্স নেস্ট ও পারো জং দেখতে ভুলবেন না।

পারো এয়ারপোর্টও মুগ্ধ করবে আপনাকে। পারো খুবই শান্ত ও আরামদায়ক একটি শহর।

 

 

পারো থেকে থিম্পু যেতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। থিম্পু ভুটানের রাজধানী।

পারোর তুলনায় তাই এখানে ব্যস্ততা একটু বেশি। বুদ্ধ পয়েন্ট, রাজার বাড়িসহ বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন জায়গা রয়েছে এখানে।

থিম্পু ঘুরে দেখতে একদিনই যথেষ্ট।

Paro-Taktsang-Monastery

 

ডিসেম্বরের দিকে ভুটান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে চেলালা পাস ও দোচালা পাস ঘুরে আসতে ভুলবেন না।

ভাগ্য সহায় থাকলে এখানে পেয়ে যাবেন বরফ। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বরফ পড়ে এখানে।

 

 

দলে ভারি হলে ফুন্টসোলিং থেকে একবারে মাইক্রোবাস অথবা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে পুরো ভুটান ঘুরে ফিরতে পারবেন।

থিম্পু, পারো ঘুরে আবার ফুন্টসোলিং পৌঁছতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা গুনতে হতে পারে আপনাকে।

photonews24

জেনে নিন-

ভুটানের সড়কপথের সৌন্দর্য অসাধারণ।

তাই ফুন্টসোলিং থেকে পারো অথবা থিম্পু যেতে চাইলে দিনের আলো থাকতে থাকতেই চলে যান।

আকাশছোঁয়া পাহাড়, সবুজ ও ছন্নছাড়া মেঘ মুগ্ধ করবে আপনাকে।
চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডারে টাকা থেকে রুপি করে নিতে পারবেন।
সঙ্গে কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও পাসপোর্টের ফটোকপি রাখবেন।
ইংরেজি অথবা হিন্দি জানা থাকলে ভুটানবাসীদের সঙ্গে খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই যোগাযোগ করতে পারবেন।

 

 

তাই আর দেরি না করে বেড়িয়ে পড়ুন আর দেখে নিন নিজের মত করে এই সুন্দর দুনিয়াকে ।

 

 

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com