বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২০


অল্প সময়ে ঘুরে আসুন মুক্তাগাছার জমিদারবাড়ি




ফটো নিউজ ২৪ : 11/11/2017


-->

1508606020মুক্তাগাছার জমিদারবাড়ি বাংলাদেশের প্রাচীন জমিদারবাড়িগুলোর একটি। এর অবস্থান ময়মনসিংহ থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে মুক্তাগাছায়। সর্বজনবিদিত হচ্ছে, শ্রীকৃষ্ণ আচার্য ১৭২৫ সালে এই জমিদারি শুরু করেন। জমিদারি শুরুর পর বিনোদ বাড়ির নাম বদলে হয় মুক্তাগাছা।

ইতিহাস
জমিদার আচার্য চৌধুরী বংশ মুক্তাগাছা শহরের গোড়াপত্তন করেন। আচার্য চৌধুরী ae1d0c26266822cd0b988f19b6ca9b0b-59c8ccd0db29e Capture-169বংশ শহরের গোড়াপত্তন করে এখানেই বসতি স্থাপন করে। আচার্য চৌধুরী বংশের প্রথম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী ছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা। তিনি মুর্শিদাবাদের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন নবাবের খুবই আস্থাভাজন। নবাবের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১১৩২ সালে তিনি সেই সময়ের আলাপসিং পরগণার বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বর্তমানে মুক্তাগাছা শহরসহ মুক্তাগাছা উপজেলার বেশিরভাগই ছিল তৎকালীন আলাপসিং পরগণার অন্তর্ভুক্ত। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নানা কারণে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর ৪ ছেলে বগুড়া থেকে আলাপসিংয়ে এসে বসবাসের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর চার ছেলে হচ্ছেন রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম। বসতি স্থাপনের আগে তাঁরা এ পরগণার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ফিরে দেখেন এবং বর্তমান মুক্তাগাছা এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য মনস্থির করেন। সে সময় আলাপসিং পরগণায় খুব একটা জনবসতি ছিল না। চারদিকে ছিল অরণ্য আর জলাভূমি। শ্রীকৃষ্ণ আচার্যের চার ছেলে ব্রহ্মপূত্র নদের শাখা নদী আয়মানের তীরবর্তী স্থানে নৌকা ভিড়িয়ে ছিলেন।

যা দেখবেন
প্রায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই রাজবাড়িটি প্রাচীন স্থাপনাশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন বহন করে আসছে। রাজবাড়ির প্রবেশমুখের কাছেই দৃষ্টিনন্দন রাজ রাজেশ্বরী মন্দির। প্রবেশদ্বারের বিশাল ফটকে অসাধারণ সব কারুকার্য। লোহার পাত আর কাঠের পাটাতন দিয়ে করা চমৎকার ছাদ। তা ছাড়া লোহার পাতের নানা রকম নকশা এ বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রাজবাড়ির ভিতরে ঘূর্ণায়মান একটি রঙ্গমঞ্চ, রাজকোষাগার, টিন আর কাঠের তৈরি অসাধারণ এক-দোতলা রাজপ্রাসাদ, রাণীর অন্দরমহল। তা ছাড়া আরো রয়েছে লাইব্রেরি, দরবার হল, কাচারিঘর, লক্ষ্মীপূজা আর দুর্গাপূজার ঘর। আর পেছনে রয়েছে একটি গোপন সুড়ঙ্গ। মুক্তাগাছা রাজবাড়িটির পাশেই আরো দুটি রাজবাড়ি আছে। শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ এর মধ্যে একটি। অন্য বাড়িটি ছিল সে সময়কার হাতিশালা। বর্তমানে এটি আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজবাড়ির মূল ফটকের সামনেই রয়েছে সাতঘাটের বিশাল পুকুর। প্রতিটি ঘাটই বাঁধানো। পুকুরের পাশেই দুর্লভ প্রজাতির নাগলিঙ্গম/নেগুরা বৃক্ষ রয়েছে। সেই গাছে এখনো ফুল ফোটে, আগন্তুকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
যাবেন কীভাবে
ময়মনসিংহ বেড়াতে এলে দিনে এসে রাতেই ফেরা সম্ভব। ঢাকা থেকে সড়ক পথে ১২০ কিলোমিটার ও রেলপথে ১২৩ কিলোমিটার দূরত্ব ময়মনসিংহ জেলার। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ জেলায় ভ্রমণের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে সড়ক ও রেলপথ। সড়ক পথে ময়মনসিংহ আসার জন্য ঢাকার মহাখালী থেকে গেটলক বাসসহ সব ধরনের বাস ছেড়ে আসে। ঢাকার মহাখালী থেকে ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সরাসরি ও লোকাল বাস পাওয়া যায়। গেটলক সার্ভিস রয়েছে এনা। এই গেটলগ সার্ভিসে জনপ্রতি বাড়া হচ্ছে ২২০ টাকা। লোকাল ভাড়া ইচ্ছে মতো ১২০ থেকে ২০০ টাকা। ট্রেনে জনপ্রতি প্রথম শ্রেণি ১৭৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৩০ টাকা, শোভন ১১০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com