মঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » ফিচার » চীনের করিডোর প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘সার্বভৌমত্ব’ নিয়ে মতবিরোধ


চীনের করিডোর প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘সার্বভৌমত্ব’ নিয়ে মতবিরোধ




ফটো নিউজ ২৪ : 11/10/2017


shahidulhaque

বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমারের মধ্যে দিয়ে প্রস্তাবিত বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডরকে তাদের উচ্চাভিলাষী ‘বেল্ট রোড ইনিশিয়িটিভে’র অংশ হিসেবেই দেখাতে চায় চীন।

 

আর এই কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘সার্বভৌমত্ব’ নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।
বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডরটি বিতর্কিত কাশ্মীর এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়ায় চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়িটেভ থেকে ভারত গত মে মাসেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল।
কারণ ভারত সমগ্র কাশ্মীরকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে থাকে এবং সেই ভূখন্ডের ওপর অন্য দেশের কোনো আন্তর্জাতিক প্রকল্প মেনে নেওয়াকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস হিসেবেই দেখে।

 

 
আর দিল্লির ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটের পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, ‘বিষয়টিকে তারা ভারতের মতো করে দেখছেন না।’

 
চীনের প্রতি ইঙ্গিত করে ভারতের সাবেক কূটনীতিক তথা সহকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লীলা পোনাপ্পা বলেছেন, ‘একটা বহুপাক্ষিক প্রকল্পে কোনো বিশেষ একজন অন্যায় আধিপত্য দেখাবে এটা ভারতের পক্ষে মানা সম্ভব নয়।’

 
পোনাপ্পা আরও বলেন, চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়ে ভারত ধীরেসুস্থে এগোতে চায়। আর ইউরোপের অভিজ্ঞতা আমাদের বলে, ঠিকমতো জমি প্রস্তুত না-করে ও সবাইকে তৈরি হওয়ার সময় না দিয়ে যদি এগোনো হয় তাহলে দারুণ পরিকল্পনাও মুখ থুবড়ে পড়ে।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নই তখন বড় হয়ে ওঠে।

 
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভৌগোলিক ও অন্যভাবেও যেহেতু বাংলাদেশ ছোট দেশ তাই সীমাবদ্ধতা দূর করতে হলে বাকি দুনিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতেই হবে। তাই নিজেদের দরজা আমরা খুলে দিয়েছি।’

 

silk

শহীদুল হক আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের নীতিও খুব স্পষ্ট, দেশের মানুষের স্বার্থেই আমাদের সংযুক্ত হতে হবে, সার্বভৌমত্বের নামে আমরা বিচ্ছিন্ন থাকব তা হতে পারে না।

তার দেশের কাছে অর্থনীতির দাবি আগে এবং বাংলাদেশ আশেপাশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলাতেই বেশি গুরুত্ব দেবে।
তবে চীন যদি স্পষ্টভাবে বলে বিসিআইএম করিডরকে যে বেল্ট রোড ইনিশিয়িটিভের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তাহলে হয়তো এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন দিল্লিতে আসিয়ান-ইন্ডিয়া সেন্টারের প্রধান ড. প্রবীর দে।

 
তিনি বলেন, বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ বড়জোর পাঁচ-ছয় বছরের কনসেপ্ট। প্রথমে ছিল মেরিটাইম সিল্ক রোড, তারপর এল ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড। আর সেই জায়গায় বিসিআইএম নিয়ে আলোচনা চলছে গত কুড়ি বছর ধরে।

 

বিসিআইএমের যে ট্র্যাক টু ফোরাম, যাকে বলা হয় কুনমিং ইনিশিয়েটিভ, তার সূচনা হয়েছিল কুনমিংয়ে ১৯৯৭ সালে।

 
ড. প্রবীর বলেন, প্রথম বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা থেকে কুনমিংয়ের মধ্যে সড়ক সংযোগ গড়ে তোলা যাকে বলা হত ট্রান্সপোর্ট করিডর। ইকোনমিক করিডরের ভাবনাটা অবশ্য আরও পরে এল। এই প্রকল্প রূপায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য তা যে বিরাট উপকার বয়ে আনবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই।

 
তিনি আরও বলেন, বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডরের জন্য বাংলাদেশের আরও একটা সুবিধা হল চীনের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনও সীমান্ত নেই।

 

কিন্তু ভারত-চীনের সীমান্ত আছে। আর সেটাও বিতর্কিত।

 

-এ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]