মঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » খেলা » এশিয়া কাপ হকিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ


এশিয়া কাপ হকিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ




ফটো নিউজ ২৪ : 11/10/2017


Ratan

আসিফ সুফিয়ান : ভালো শুরুর প্রতিশ্রুতি ছিল। একটি দল হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াকু খেলার লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন জিমিরা; কিন্তু ঘরের মাঠের এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেখা গেল অসহায় এক বাংলাদেশকে। বুধবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপ হকিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৭-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয়ার্ধে করে আরও ৬ গোল। এর মধ্যে তৃতীয় ও শেষ কোয়ার্টারে ৩টি গোল করে পাকিস্তান।

দ্বিতীয় মিনিটেই পাকিস্তানের পক্ষে পেনাল্টি কর্নারে বাঁশি বাজিয়েছিলেন আম্পায়ার। আম্পায়ারের ওই সিদ্ধান্তের রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারে ওই একবারই বাংলাদেশের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছিল তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।

তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরু থেকেই বাংলাদেশ সীমানায় প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে পাকিস্তান। ১৭ ও ১৮ মিনিটে দুটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে দ্বিতীয়টিতে সফল হয় ইরফান মোহাম্মদরা। রেজওয়ান মোহাম্মদের পুশ থেকে আবু মাহমুদ গোল করেন। ২০ মিনিটে আম্পায়ার আরও একবার পাকিস্তানের পক্ষে পেনাল্টি কর্নারের বাঁশি বাজালে বাংলাদেশ রিভিউ নিয়ে সফল হয়।

বাংলাদেশ প্রথম পরিকল্পিত একটি আক্রমণ তৈরি করে ২২ মিনিটে। অধিনায়ক জিমি ডান দিক দিয়ে ঢুকে বল দিয়েছিলেন পোস্টের সামনে থাকা মিলনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মিলন স্টিক-বলে সংযোগ ঘটাতে না পারায় ম্যাচে ফেরা হয়নি স্বাগতিকদের।

২৪ মিনিটে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের জালে বল পাঠিয়ে গোল উৎসব করে পাকিস্তান; কিন্তু গোলটি বৈধ ছিল না বলে দুই আম্পায়ার আলোচনা করে বাতিল করেন।

ভাগ্য বিড়ম্বনা না করলে ২৮ মিনিটে ম্যাচে ফিরতে পারত লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে অধিনায়ক জিমি দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত হিট নিলেও তা ফিরে আসে পোস্টে লেগে।

এক গোলের ভরসা নেই। ২৮ মিনিটে জিমির গোলটি হয়ে গেলে চাপেই পড়তে হতো পাকিস্তানকে। এজন্যই বিরতির পর নুন-আদা খেয়ে নামে রিজওয়ান-কাদিররা। বাংলাদেশের রক্ষণ-দেয়াল ভেঙে দুই মিনিটের মধ্যে ১-০ থেকে ব্যবধান বানিয়ে ফেলে ৩-০। ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে শাকিল ভাট এবং পরের মিনিটে শান আলীর পাস থেকে মোহাম্মদ কাদির গোল করে ম্যাচটা নিজেদের করে নেয় তিনবারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নরা।

তৃতীয় কোয়ার্টারে পাকিস্তান একচেটিয়া প্রধান্য বিস্তার করে খেলে। ৪১ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করে অতিথি দলটি। পেনাল্টি থেকে গোলের হালি পূরণ করেন পাকিস্তানের আবু মাহমুদ।

৪৭ মিনিটে উমর ভাটের পাস থেকে শাকিল ভাট ব্যবধান ৫-০ করেন। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আবু মোহাম্মদ করেন পাকিস্তানের ষষ্ঠ গোল।

হারের ব্যবধান ৭-০ হয় শেষ মিনিটে। ৫৮ মিনিটে পর পর দুটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে পাকিস্তান গোল না পেলেও শেষ মিনিটে মোহাম্মদ কাদির বাংলাদেশের দাঁড়িয়ে যাওয়া ডিফেন্সের মাঝ দিয়ে গোল করেন।

পুরো ম্যাচে পাকিস্তানে ভুরি ভুরি পেনাল্টি কর্নার আদায় করলেও বাংলাদেশ কোনো পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে পারেনি।

 

 

 

বাংলাদেশের কোচ রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘প্রথম কোয়ার্টার আমরা ভালোই খেলছিলাম। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও মোটামুটি লড়াইয়ে ছিলাম। তৃতীয় কোয়ার্টার থেকে পারফরম্যান্স খারাপ হয়। সাত গোলের মধ্যে পাঁচটিই আমাদের ভুলে হয়েছে।

 

যে ভুলগুলো করেছে খেলোয়াড়রা এতে কোচ-ম্যানেজারের কিছু করার থাকে না। মিডফিল্ডে আমাদের কন্ট্রোল ছিল না।

এই ম্যাচের ভুল গুলো নিয়ে ভিডিও সেশন হবে। সেই ভুল কাটিয়ে আমরা ভারতের সাথে ভালো খেলতে চাই।’

 

 

 

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি বলেন, ‘পাকিস্তান পরিকল্পনা অনুযায়ী গোল করেছে তা কিন্তু নয়।

আমাদের ভুলগুলো তারা কাজে লাগিয়েছে। মিডফিল্ডে সারওয়ারের অনুপস্থিতি অনুভব করেছি। এর পরেও আমরা চেষ্টা করেছি বল পজেশন ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য।

 

স্কোরলাইন ১-১ হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারতো। গোল পেলে আমরা আরো উজ্জ্বীবিত হতে পারতাম। তখন ব্যবধান এত বড় নাও হতে পারতো। কোচ আমাদের শুরু থেকেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন লম্বা পাসের পরিবর্তে ছোট পাসে খেলা।

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা বড় ব্যবধানে হারি এর পেছনে মানসিক বা ভয় নেই। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমাদের কামব্যাক করতে হবে।’

 

 

পাকিস্তানের অধিনায়ক মো. ইরফান ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্ট জয় দিয়ে শুরু করেছি। এজন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেছি, এতে সফল হয়েছি।

 

বাংলাদেশ ভালোই খেলেছে। তারাও সুযোগ পেয়েছিল, মিস করেছে। আমরাও অনেক মিস করেছি।

 

তৃতীয় কোয়ার্টারে আমরা অনেক খেলোয়াড় পরিবর্তন করে খেলায় গতি এনেছিলাম। তৃতীয় কোয়ার্টারের গোলগুলো ম্যাচে আমাদের এগিয়ে দেয়। আমরা এই ফলাফলের ধারবাহিকতা বজায় রেখে টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফল চাই।’

 

 

 

-এ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]