মঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০১৭


অমিতাভের মঙ্গল কামনায় আজও সিঁদুর পরেন রেখা!




ফটো নিউজ ২৪ : 11/10/2017


1487342719_43বিনোদন ডেস্ক
বলা হয়ে থাকে, পিরিতি কাঁঠালের আঠা, লাগলে ছাড়ে না। আর পরকীয়া? সেতো একেবারে ফেভিকলের জোড়া। লাগলে ছাড়াছাড়ি তো দূরের কথা, এক আজীবন মনের মধ্যখানে ঝেঁকে থাকে। এই পিরিতেই মজে আছেন বলিউডের সত্তর-আশির দশক কাঁপানো নায়িকা রেখা। সহশিল্পী বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রেম, আজও ভুলতে পারেননি তিনি।

রেখার সিঁথিতে এখনো দেখা যায় লাল টকটকে সিঁদুর। কেউ কেউ বলেন, অমিতাভের সঙ্গে গোপনে বিয়ে হয়েছিল রেখার। এই লাল রেখা তার চিহ্ন। আবার অনেকের মত, রেখার সঙ্গে নাকি বিয়ে হয়েছিল সঞ্জয় দত্তের। তাই সিঁদুর পরেন। আসলে কার জন্য সিঁদুর পরেন রহস্যময়ী এই বলিউড নায়িকা? জানতে গেলে উল্টোতেই হবে ইতিহাসের পাতা।

১৪ ফেব্রুয়ারি যদি প্রেমের উদযাপনের দিন হয় তাহলে ১০ ও ১১ অক্টোবর— প্রেমে মাতাল এক অভিশপ্ত প্রেমিক যুগলের জন্মদিন। দিন দুটো এলেই যারা নিয়মিত রুপালি পর্দার মানুষদের নিয়ে চর্চা করেন, তারা এবং যারা অনিয়মিত ভাবে করেন তাদেরও দু’’টি মুখ ঘুরেফিরে মনে পড়ে বারেবারে। একটি মুখ ভানু রেখা গণেশন ওরফে রেখা। দ্বিতীয় জন দি গ্রেট অ্যান্ড গ্র্যান্ড অমিতাভ বচ্চন।

কেন এমনটা হয় আজও? কারণ এটাই অমোঘ নিয়তি। কারণ ১৯৭৬ থেকে যে ‘সিলসিলা’র শুরু ২০১৭-তে এসেও তা ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ!’ ১৯৭৬-এর আগে আক্ষরিক অর্থে রেখা-অমিতাভ ছিলেন দো আনজানে। কেউ কাউকে চিনতেন না। ওই বছরের একটি ছবি ‘দো আনজানে’ অদ্ভুতভাবে দুটো সমান্তরাল সরলরেখাকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দিয়েছিল। এটা নিয়তি নয় তো কী?

ওই সময় রেখা সিঙ্গেল আর অমিতাভ বিবাহিত। দুই সন্তানের বাবা তিনি। তার পরেও হুড়মুড়িয়ে প্রেমে পড়লেন দু’জনে। প্রথম প্রথম তারা রেখার এক বন্ধুর বাড়ির কাছের বাংলোয় দেখা করতেন। কেউ টের-ও পেতেন না রাধা কখন, কোথায় অভিসারে যেতেন। আজও কেউ টের পেতেন না, যদি ১৯৭৮-এ ‘গঙ্গা কি সৌগন্ধ’ ছবির শুটের সময় রেখার সঙ্গে অন্য অভিনেতার খারাপ ব্যবহারে বারবার প্রতিবাদ না করতেন অমিতাভ। এরপরে দু’য়ে দু’য়ে চার করতে বলিউডের কতক্ষণ সময় লাগতে পারে?

এরপরেই ঋষি কাপুর-নিতু সিংয়ের বিয়েতে রেখার কপালে প্রথম সিঁদুর দেখতে পান সবাই। সেদিন সিঁদুরের সঙ্গে রেখা মঙ্গলসূত্রও পরেছিলেন। সবাই যখন রেখাকে নিয়ে ব্যস্ত, অনেকক্ষণ স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছিলেন অমিতাভ-জয়া। শেষে এককোণে সরে গিয়েছিলেন মাথা হেট করে। দু’চোখ বেয়ে জল ঝরছিল ঝরঝরিয়ে।

সবাই জানেন, এরপরেই জয়া নাকি তুমুল ঝগড়া করেছিলেন রেখার সঙ্গে। সত্যিটা একদম আলাদা। এর ঠিক দু’দিন পরে ডিনারে জয়া নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন ‘সতীন’ রেখাকে। খুব নরম গলায় বলেছিলেন, মরে না যাওয়া পর্যন্ত আমি অমিতকে ছেড়ে যাব না। এবার তুমি ঠিক কর, কী করবে? রেখা সেদিন বুঝেছিলেন, হয় তাকে সারাজীবন সিঙ্গেল থাকতে হবে নয়তো তার পরিচয় হবে অমিতাভের ‘মিস্ট্রেস…রক্ষিতা’! এবার দোটানায় পড়লেন শ্রীমতি নিজেই। তারও তখন রাধার মতোই ‘শ্যাম রাখি, না কুল রাখি’ দশা। তখন কিন্তু এখনকার মতো তার সিঁথিতে সবসময় সিঁদুর জ্বলত না।

যতই হোক, রেখা আফটার অল রক্ত-মাংসের মানবী। তাই অমিতাভের থেকে আলাদা হওয়ার পর জড়াবো জড়াবো না করেও জড়িয়ে পড়লেন ‘বেওসায়ী’ মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে। বিয়ে করে যখন তারা লন্ডনে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন। রেখার থেকে সুখী বোধহয় আর কেউ ছিলেন না। কিন্তু চাঁদেও যে গ্রহণ লাগে! বিয়ের সাত মাস পরে রেখা আচমকা জানতে পারলেন, মুকেশ মানসিক রোগী। স্বপ্নের প্রাসাদ গুঁড়িয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে। মুকেশের থেকে ধীরে ধীরে সরতে লাগলেন অভিনেত্রী। সেই বিচ্ছেদ মুকেশের সইলো না। একদিন নিজেদের ঘরে নাটকীয়ভাবে রেখার ওড়না গলায় জড়িয়ে আত্মহত্যা করলেন মুকেশ। শ্বশুরবাড়ি রটালো, রেখা রাক্ষসী! নিজের স্বামীকে খেয়েছে!

রেখা আবার একা। এবার তার সিথিতে জ্বলতে লাগলো সিঁদুর! লোকে ভাবলো খিদে মেটাতে রেখা আবার কাকে বিয়ে করলেন? কিন্তু কাউকেই তো তার ত্রিসীমানায় দেখা যায় না! তাহলে কি অমিতাভের মঙ্গল কামনায় এই সিঁদুর? ১৯৮৪-তে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রেখা অভিমানে ভেঙ্গে পড়ে বলেছিলেন, অমিত তো পুরনো মানসিকতার। কাউকে দুঃখ দিতে পারেন না। তাহলে নিজের স্ত্রীকে (মানে আমাকে) কী করে এত দুঃখ দিচ্ছেন? নিজের ইমেজ ধরে রাখতে? সন্তানদের মুখ চেয়ে? কিন্তু আমার যে খুব কষ্ট হয়! সবার সঙ্গে কথা বলেন। আমার সঙ্গে কথা বলতে এলেই আড়াল টানেন। কেন? বরাবরের মতো অমিতাভ এবারেও নীরব।

এর অনেক পরে আসল রহস্য ফাঁস করেছিলেন অভিনেতা পুনিত ইশারের স্ত্রী দিপালী। তার কথায়, রেখা সারাটা জীবন ফুরিয়ে ফেললেন শুধুই অমিতাভের জন্য। ওই সিঁদুর অমিতের প্রতি রেখার ভালবাসার চিহ্ন। রেখা ততদিনে অমিতের নীরবতা মন্ত্রে দীক্ষিত। তাই মৃদু হেসে বলেছিলেন, দক্ষিণের মেয়েরা নিজেদের সিঁদুরে সাজাতে ভালবাসে। আমার এই সাজ সেরকমই।

তাহলে রেখা-অমিতের ভালবাসা ফুরিয়ে গিয়েছে? ২০০৮ কিন্তু অন্য সাক্ষী দিচ্ছে। ওই বছরে এক প্রথম সারির পত্রিকাকে রেখা জানিয়েছিলেন, মি. বচ্চন আমার জীবনের সেরা উপহার। আজও আমি সেই উপহার আগলে বেড়াচ্ছি। তিনি আমার রক্ষক, শিক্ষক। অফ-ক্যামেরায় অনেক কিছু শিখেছি তার থেকে। কী শিখেছেন ভানুরেখা গনেশন? ভালবাসার আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা হয়ে উঠতে? আর তার সিঁথির সিঁদুর? সেটা কি নীরব ভালবাসার সরব চাওয়া? সময় হয়ত ক্ষত ঢেকেছে। কিন্তু দাগটা রয়েই গিয়েছে। সিঁথির সিঁদুর হয়ে।

 

সূত্র: বাংলালাইভ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]