সোমবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » ফিচার » রোহিঙ্গা ইস্যু: মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে কোনো তোড়জোড় নেই!


রোহিঙ্গা ইস্যু: মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে কোনো তোড়জোড় নেই!




ফটো নিউজ ২৪ : 10/10/2017


Downtown Yangon

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী সমালোচনায় থাকা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে কোনো তোড়জোড় নেই।

সম্প্রতি দেশটির রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসে বিবিসির সাংবাদিক এনবারাসান এথিরাজন সেখানকার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজধানী ইয়াঙ্গুন দেখে কোনোভাবেই বোঝা সম্ভব নয় পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘটে যাচ্ছে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়। সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি বাসিন্দা।

 

 

সেনা অভিযানের পর এই পালানোর ঘটনায় সেখানে সহিংসতা বন্ধ, রাখাইনের স্থিতিশীলতা আর মানবিক সংস্থাগুলোর সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া নিয়ে বৈশ্বিক চাপের মুখে রয়েছে দেশটির সরকার।

 
কিন্তু মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহরকে দেখে মনে হবে দেশে তেমন কিছু ঘটেনি।

পরিষ্কার রাস্তা আর সবুজে ঘেরা চারপাশে মাঝেমধ্যে যানবাহনের ভিড়। সুন্দর পোশাকের মানুষ নিত্যদিনের প্রয়োজনে ছুটে বেড়াচ্ছে।

 

 
তারা কখনও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেন না। দেশটির সংবাদমাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করা হয় ‘বাঙালি মুসলিম’ অথবা বাংলাদেশে থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে।

 

 

 

এথিরাজন যখন কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনায় ইস্যুটি তোলেন তখন তারা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়। অনেকেই বলেন, ‘আলাপ করার মতো দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে’। এসব মানুষের মধ্যে ছিলেন মিয়ানমার প্রেস কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অং হ্লা তুনের মতো সিনিয়র সাংবাদিকও।

 

 
মিয়ানমারের ওই সাংবাদিক বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ছোটবেলায় আমি অনেক বাঙালি বন্ধুদের সঙ্গে মিশেছি তারা কখনও দাবি করেনি যে তারা রোহিঙ্গা। কয়েক দশক আগে হঠাৎ করে তারা এই শব্দটি ব্যবহার করে। ঘটনা হলো তারা কোনোভাবেই জাতিগত সংখ্যালঘু নয়।’

 

 

 
অথচ বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলো এই ইস্যুতেই খবর প্রচার করছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিবিরে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। এই খবর মিয়ানমারের কোনো সংবাদমাধ্যমেই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

yangon-

 
তবে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হাতে নিহত হিন্দুদের গণকবর রাখাইনে পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমগুলো বড় বড় নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

বিবিসির সাংবাদিক এথিরাজন ভাবলেন ইয়াঙ্গুনের বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ভিন্ন পরিস্থিতি পেতে পারেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে হয়তো শিক্ষার্থীরা বাইরের পৃথিবীর খোঁজ রেখে থাকবেন।

 

 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেতে গেলে বিক্ষিপ্তভাবে গল্প করতে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কথা বলার জন্য পেলেন তিনি।

কেউ কেউ তাদের নাম প্রকাশ করতে চাইলেন না। তবে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলতেই চটপট উত্তর দেওয়া শুরু করলো তারা।

 
এক নারী শিক্ষার্থী বললেন, ‘বাইরে থেকে সমস্যাটিকে ধর্মীয় হিসেবে দেখা হয়। আসলে তা নয়। সহিংসতা একটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

 

বিশ্ব সম্প্রদায় রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ভুল বার্তা পাচ্ছে।’ তার দুই বন্ধু বললেন, ‘বাইরে থেকে তোমরা মনে করো তোমরাই ঠিক কিন্তু আমাদের দিক থেকে আমরা সঠিক।’

 

 

কয়েকদিন পরে এথিরাজন ২০০৭ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের দশম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

 

সাফরণ রেভ্যুলেশন নামে পরিচিত সেই বিক্ষোভ র‌্যালিতে যোগ দিয়েছিলেন কয়েক হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু।

মিলিটারি জান্তার বিরুদ্ধে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সেই আন্দোলন বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিল।
ওই বিক্ষোভের দশম বার্ষিকীতে ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকার এক মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। বৌদ্ধ ভিক্ষু, গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের কর্মী ছাড়াও ইউনিয়ন নেতারাও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

 

 

তারা অনেকেই ছিলেন সাবেক রাজবন্দী। গণতন্ত্র আর মানবতার পক্ষে লড়াই করে তার জেলও খেটেছিলেন।

এথিরাজন আশা করেছিলেন বিভিন্ন মতের এই সমাবেশে রোহিঙ্গা নিয়ে তিনি হয়তো ভিন্নমত পেতে পারেন।

 
সাফরন রেভ্যুলেশনের অন্যতম নেতা ছিলেন সুয়ে তুনতে সায়ার। এথিরাজন তাকে জিজ্ঞিস করলেন, ‘নতুন গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে মিয়ানমারের কি উচিত নয়, সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে দেখা?’

 

এর উত্তরে সুয়ে তুনতে বলেন, ‘গণতন্ত্রে সবাই সমান, তবে সন্ত্রাসীরা নয়। সন্ত্রাসীরা তাদের কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে আসলে বিশ্বের সবাই সন্ত্রাসকে ধ্বংস করবে। না হলে তারাই আমাদের প্রজন্মকেই ধংস করবে।’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব থাকায় বিশ্বজুড়ে সমালোচিত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি দেশটির নাগরিকদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন।

 

কোনো সন্দেহ নেই এই ইস্যুতে তার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ইয়াঙ্গুনের সিটি হলের সামনে থেকে দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রীর কয়েক হাজার সমর্থক র‌্যালিও করেছেন।

জাতিসংঘের উর্ধতন কর্মকর্তারা রাখাইনের সহিসংসতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে দেশটির সরকার তা অস্বীকার করেছে।
মিয়ানমার এমনিতেই বহু প্রত্যাবাসনের প্রত্যক্ষদর্শী।

 

১৯৬০ এর দশকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর কয়েক হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভুত নাগরিককে বের করে দেয়।

অথচ তারা কয়েক শতাব্দী ধরে বার্মায় বসবাস করে আসছিল। অনেককেই সেখানে নিয়ে এসেছিল ঔপনিবেশিক শাসকরা।

 
সেসময় তিন লাখ মানুষকে বাধ্য করা হয় দেশ ছাড়তে। তাদের সম্পদ আর জমিজমা জাতীয়করণ করে ফেলা হয়।

বার্মিজ ইন্ডিয়ান শরণার্থীরা ভারতে ফিরে যায়।
দেশটির প্রধানধারার সংবাদমাধ্যম আর ইয়াঙ্গুনবাসী রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় নীরব থাকায় অবাক হয়েছিলেন এথিরাজন। তবে একজন সিনিয়র সম্পাদক ও সাবেক রাজবন্দী নাম প্রকাশ না শর্তে উত্তর দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, প্রত্যেকে আসলে ভীত। সবাই চায় অন্যরা এই ইস্যু নিয়ে খবর প্রচার করুক। আর নিজেরা শুধু সরকারি প্রচারপত্র প্রচার করেই কাজ শেষ করতে চায়। তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, জনগণও চায় ইস্যুটি চাপা থাক।

 

 
তিনি বললেন, প্রধানধারার মতের বাইরে গেলেই আপনার পরিবার আর আত্মীয়রাও আপনাকে অপছন্দ করা শুরু করবে।

 

-এ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com