রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৭


কোরবানি উপলক্ষে নওগাঁয় প্রায় ৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে




ফটো নিউজ ২৪ : 11/08/2017


photonews24

কোরবানি উপলক্ষে নওগাঁয় প্রায় ৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

গরু মোটাতাজাকরণ করা হলেও এখন খামারিদের মধ্যে হতাশা বিচার করছে।

হঠাৎ ভারত থেকে গরু আশায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হবে বলে আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

 
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৪৫৬টি খামারের মাধ্যমে পশু হৃষ্টপুষ্ট (স্বাস্থ্যসম্মত) করণের লক্ষ্যে ১৪ হাজার ৯৫১ জন খামারি রয়েছে। এবার ঈদে (২০১৭সাল) জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারটি।

হৃষ্টপুষ্ট করে প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫১টি পশু কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৭১ হাজার ৯৩২টি, বদল ৩৩ হাজার ৯৫ টি, গাভী ৩৬ হাজার ৯৮০ টি, ছাগল ৯৩ হাজার ৫৯৯টি, ভেড়া ৩৪ হাজার ৩৯৮ টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ৪৬৭ টি।

 

গত বছর ২০১৬ সাল কোরবানি পশু উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪০টি। আর খামারির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ হাজার ২৮৫জন। বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে, আবার কেউ সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে গড়ে তুলেছেন খামার। কোরবানিতে দেশি জাতের ও শংকর গরুর চাহিদা বেশি থাকে। ফলে খামারিরা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন।

 

গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন পালন করতে গিয়ে খামারি ও কৃষকদের খরচ বেশি হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ খামারিদের গো-চারন ভূমি না থাকায় সবকিছু কিনে খাওয়ানোর উপর নির্ভর করতে হয়।

 

যেখানে ৩-৪ কেজি ঘাসের পরিবর্তে দানাদার খাবার দিতে হচ্ছে ১ কেজি। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী ও বেপারিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু কিনতে শুরু করেছেন। খুরচা বাজারে ময়দা ২৫-৩০ টাকা, চাউল ২৮-৩০ টাকা, খৈল ২৮-৩০, গমের ভুষি ৩২-৩৪ টাকা এবং সটারের ব্যান্ড ২৬-২৮ টাকা কেজি।
খামারিরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ করতে গিয়ে পশুখাদ্যের দাম বাড়ার কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গরুগুলোকে প্রতিদিন দু’বার খড়, খৈল, ময়দা, গুড়ো চাউল, ভূশিসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির খাবার দিতে হয়। গো-খাদ্যের দাম বেশি হলেও ঈদের বাজারে লাভবান হওয়ার আশায় পশু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

 

পরপর কয়েকবার ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের কারণে খামারি ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু তারপরেও তারা হাল ছাড়েনি। গতবার ভালো দাম পাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর পরিচর্যায় সময় ব্যয় করছেন।

ভারত থেকে পশু আমদানি হওয়ায় এ বছর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

 
সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ইউনিয়নের উল্লাসপুর-মশরপুর গরু মোটাতাজাকরণ ফার্ম সিআইজি। এই ফার্মের মালিক নিপেন্দ্র কুমার মজুমদার বলেন, গত ছয় মাস আগে ৮০টি গরু নিয়ে এই ফার্মের কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।

জীবন্ত গরুকে ৩০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ গরু বিক্রি হয়েগেছে। ফার্মটি এলাকায় ব্যপক সাড়া পড়েছে। একটি পদ্ধতি চালু করেছি। যেটি কোরবানির সময় যাদের বাড়িতে গরু রাখার সমস্যা ঈদের আগের দিন তাদেরকে সরবরাহ করা হবে। এতে ক্রেতারাও গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন।

 

খামার থেকে গরু কিনলে দালাল বা ফড়িয়ার চক্রে পড়তে হয় না। ক্রেতারা পরিবারদের নিয়ে এসে গরু পছন্দ করে কিনতে পারছেন। আগামীতে ফার্মে প্রায় ৩০০ গরু মোটাতাজাকরণ করা হবে বলে আশাব্যক্ত করেন।
নওগাঁ শহরের আরজি-নওগাঁ দফতরি পাড়ায় গত তিন বছর থেকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত ফার্মে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন খামারি ইফতেখারুল ইসলাম সজিব।

 

তিনি বলেন, এবার কোরবানি উপলক্ষে দেশীয় ও শংকর জাতের প্রায় শতাধিক গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ৬মাস আগে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকায় দেশীয় প্রতিটি গরু ৭০-৮০ হাজার টাকা করে কিনতে হয়েছে।

এতোদিন লালন পালনের পর এখন সেসব গরু প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ দশ হাজার টাকা দাম বলছেন বেপারিরা। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু খাবারের খরচটাও বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া হঠাৎ করে ভারত থেকে গরু আমদানি হওয়ায় দেশীয় গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত খামার থেকে কোন গরু বিক্রি হয়নি। গরুর খাবারের দাম ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে কিছুই থাকবে না।

এ বছর লোকসান গুনতে হবে দেখে দুশ্চিন্তায় ও হাতাশার মধ্যে আছি।

 
নওগাঁ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা উত্তোম কুমার দাস বলেন, পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামারি পর্যায়ে সারা বছরব্যাপী একটা কর্মসূচি।

 

তবে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এর কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে এবং খামারীদের মধ্যে উৎসাহ উদদিপনা আরও বৃদ্ধি পায়। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫১টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

 

জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাকিগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয় যেটা আমাদের অবগত যে বিভিন্ন জায়গায় কিছু অসাধু খামারি বেশি লাভের আশায় বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের লোকবল দ্বারা সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়।

যার ফলে হরমোন বা কেমিকেল প্রয়োগ করে যে মোটাতাজাকরণ করা হতো, এবার তা করা হয়নি।

প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে পশুগুলো হৃষ্টপুষ্টকরণ করা হয়। খামারিদের প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।

 

-এ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]