বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২০


এডভেঞ্চার ট্রিপে যাচ্ছেন এগুলো নিচ্ছেন তো ?




ফটো নিউজ ২৪ : 09/02/2017


-->

 

এডভেঞ্চার ট্রিপ হতে পারে পাহাড়ে-জঙ্গলে ট্রেকিং-হাইকিং-ক্যাম্পিং।

এগুলোর জন্য প্রস্তুতি একই রকম হলেও পরবর্তীতে তাতে পার্থক্য আসতে পারে।

এই বিষয়গুলো নির্ভর করে মূলত কি ধরনের এডভেঞ্চার ট্রিপে যাচ্ছেন আপনি তার উপরে, কোথায় যাচ্ছেন, আবহাওয়া এবং আরও অনেক কিছুর উপরে।

 

 

হাইকিং বলতে বোঝানো হয় তুলনামূলক ভাবে ঝুঁকিমুক্তভাবে, তুলনামূলক সহজভাবে, ঝামেলা-মুক্ত প্রতিষ্ঠিত রাস্তায় পরিকল্পনা-মাফিক চলা, যেখানে লোকালয় থাকতে পারে, বিচ্ছিন্ন মনুষ্য-বসতি থাকতে পারে।

এটা মূলত প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁটার জন্যই করে মানুষ, মূল উদ্দেশ্য থাকে আস্তে ধীরে এগিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ এর সৌন্দর্য উপভোগ করা, বিশেষ একটা তাড়াহুড়ো থাকে না সব মিলিয়ে।

তাবুতে থাকার বিষয় থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে।

অনেক সময় আশে পাশে হোটেল, মোটেল বা স্থানীয় কারও বাসায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকার সুযোগ থাকে।

 

ট্রেকিং জিনিসটা এর চেয়ে একটু কঠিন আর সিরিয়াস বিষয়। ট্রেকিং এ একটা মানুষের শারীরিক সক্ষমতার একটা পরীক্ষা হয়, শুধু শারীরিক সক্ষমতাই নয়, মানসিক দৃঢ়তারও একটা পরীক্ষা হয়ে যায় এখানে। ট্রেকিং করা হয় মূলত এমন একটা এলাকা মাথায় রেখে যেখানে মানুষের আনাগোনা কম আছে বা নেই বললেই চলে, সেটা পাহাড় হতে পারে, বন-জঙ্গল হতে পারে।

দুর্গম, যেখানে মানুষ খুব কম যায়, যেখানে প্রতিষ্ঠিত কোন রাস্তা নেই এবং বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যারা যান, তাদেরকে নিজেদের রাস্তা নিজেরাই বানিয়ে নিতে হচ্ছে জঙ্গল কেটে।

ট্রেকে খাবার পাওয়া যাবার কোন নিশ্চয়তা নেই, মেডিকেল ইমারজেন্সীতে সহযোগিতা পাবার কোন উপায় নেই, যে কোন বিপদে কারও কাছ থেকে সাহায্য পাবার কোন উপায় নেই বললেও চলে। বন্য প্রাণীর কাছ থেকে বিপদ আসতে পারে, স্থানীয় মানুষ সমস্যা তৈরি করতে পারে, এছাড়াও হতে পারে নানা রকম বিপদ আপদ।

তাই ট্রেকিং এর যাবার প্রস্তুতি হতে হয় অনেক বেশি, শারীরিক-মানসিক সক্ষমতাকে দিতে হয় অনেক বেশি প্রাধান্য।

এই পর্বে আমরা সাধারণভাবে ধারণা দেবার চেষ্টা করব হাইকিং এবং ট্রেকিং এর জন্য প্যাকিং প্রস্তুতি কি ধরনের হতে পারে। বিষয়টা অনেক জটিল আর হাইক বা ট্রেকিং এর পরিবেশ এবং ট্রিপের ধরণের উপরে অনেক কিছু নির্ভর করে।

তাই আমরা চেষ্টা করছি সাধারণ ধারনা দিতে, যেন এর উপরে ভিত্তি করে একজন নিজেই চিন্তা করতে পারেন তার কি দরকার হতে পারে।

hiking-backpack
১. ব্যাগ-প্যাক: যে কোন ট্রাভেল, তা সে হাইকিং হোক আর ট্রেকিং হোক, একটা ভাল ব্যাগ-প্যাক অত্যন্ত জরুরী। একটি ভাল ব্যাগ-প্যাক একটা সফল আর অসফল অভিযানের পার্থক্য করে দিতে পারে।

সাধারণ ট্রাভেল ব্যাগের থেকে হাইকিং বা ট্রেকিং ব্যাগ-প্যাকের বেশ অনেক গুলো পার্থক্য থাকে। এগুলো অনেক শক্ত পোক্ত করে তৈরি করা হয়, এগুলো অনেক বেশি পরিমাণে জিনিস তুলনামূলক কম কষ্টে বহন করা যায়, আর বিশেষ ভাবে কোমরে ওজন ছড়িয়ে দেবার ব্যবস্থার কারণে কাঁধের উপরে চাপ আসে না বললেই চলে।

তাই একজন অভিজ্ঞ হাইকার বা ট্রেকার এই ব্যাগ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাটতে পারেন বিশেষ রকম ক্লান্ত না হয়েই।

BCTC_100302-051
২. জুতা: হাইকিং বলেন আর ট্রেকিং বলেন, দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার লঙ্ঘিতে হলে আপনাকে একটা ভাল আরামদায়ক জুতা পড়তেই হবে। পরিবেশ আর আপনার নিজস্ব পছন্দের উপরে নির্ভর করবে সেটা কি স্যান্ডেল টাইপের হবে নাকি কনভার্স, কেডস নাকি বুট জুতা।

যেটাই হোক, প্রথম শর্ত হবে সেটাতে যেন ভাল গ্রিপ থাকে। জুতার সোলের নিচে যে কাটা কাটা দাগ করা থাকে, এটাই জুতার গ্রিপ। এই গ্রিপ মাটি আঁকড়ে ধরে রাখে। গ্রিপ ভাল হলে আপনি কাদা-মাটি-পেছল যে কোন জায়গায় নিরাপদে হাঁটতে-ছুটতে পারবেন পড়ে যাবার ভয় ছাড়াই।

একটি নিরাপদ অভ্যাস হল দুই সেট জুতা সাথে রাখা। হালকা কিছু রাখবেন আরামদায়ক পরিবেশের জন্য বা যখন ক্যাম্প করবেন তখনকার জন্য। আর ভারী, বুট বা কেডস জাতীয় জিনিস, যেগুলো দুর্গম ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার জন্য।

Koval_022516_4944_sleeping_bag_use

৩. স্লিপিং ব্যাগ: স্লিপিং ব্যাগের ধারনাটিকে মনে হতে পারে একটু বেশি বেশি, সারাজীবন কাঁথা কম্বল গায়ে দিয়ে পার করে এখন স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে মাতামাতি! কিন্তু একটা ভাল স্লিপিং ব্যাগ আপনার হাইকিং বা ট্রেকিংকে করতে পারে অনেক বেশি আরামদায়ক।

স্লিপিং ব্যাগগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এগুলো একেকটা রেডিমেড বিছানার মত, বিশেষ ভাবে প্যাক করে এত ছোট আকার বানিয়ে ফেলা যায়, যে ব্যাগের এক কোনায় পরে থাকলেও বোঝাই যায় না। আর এগুলোর ওজনও অনেক কম হয়ে থাকে সাধারণত।

সারাদিন হাঁটার পরে একটা স্লিপিং ব্যাগ সাথে থাকা মানে টেনশন ফ্রি! একটা বিছানা আপনার জন্য প্রস্তুত কয়েক মিনিটের মাঝেই! বিভিন্ন আবহাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্লিপিং ব্যাগ আছে। কোনটা হালকা, কোনটা শূন্য ডিগ্রিতেও সহজে ঘুমানো যায়, আবার কোনটা হয়ত মেরু এলাকার জন্য উপযোগী! আবার কিছু আছে ওয়াটার রেজিস্টান্ট। এলাকা বুঝে নিজের সুবিধা মত পছন্দ করে নিতে পারেন আপনার স্লিপিং ব্যাগ।

 

Waterproof-Headlight-CREE-Q5-LED-Headlamp-18650-Battery-font-b-Powered-b-font-font-b-Head

৪. টর্চ বা হেড-ল্যাম্প: পথ, তা মানুষের বানানো রাস্তাই হোক আর দুর্গম বন-জঙ্গলই হোক, রাত হলে সবগুলোই কমবেশি অনিরাপদ হয়ে যায়। রাস্তায় খানা খন্দ থেকে শুরু করে নানা রকম বিপদ হতে পারে আলোর অভাবে, যেটা সহজেই কাটানো সম্ভব একটা ভাল টর্চ সাথে রাখার মাধ্যমে। রিচার্জেবল টর্চ হতে পারে, আবার ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায় এরকম টর্চও হতে পারে।

কোনটা আপনার ট্রিপের জন্য ভাল হবে নির্ভর করবে আপনি কোথায় যাচ্ছেন আর সেখানকার সুযোগ সুবিধার উপরে। যদি রাতে হোটেল মোটেল বা বিদ্যুৎ সরবরাহ আছে এমন জায়গায় থাকতে পারেন, তাহলে রিচার্জেবল টর্চই ভাল উপায়। কারণ বাড়তি ব্যাটারি মানে বাড়তি ওজন। কিন্তু আপনি যদি যান ট্রেকিং এ, যেখানে চার্জ করার সুযোগ নেই, তখন উপায় একটাই, বাড়তি ব্যাটারি সাথে রাখা।

তবে আজকাল সোলার চার্জার পাওয়া যায় ছোট আকারে, যেগুলো সহজেই ব্যাগে রেখে দেয়া যায় আর দরকারে মোবাইল ডিভাইস থেকে শুরু করে টর্চ পর্যন্ত চার্জ দেয়া যায় সূর্যের আলোতে। হেড-ল্যাম্প হল কপালে বাঁধা যায় এরকম আলো, এগুলোর সুবিধা হল হাত সম্পূর্ণ ফ্রি থাকে তাই ট্রেকিং এর সময় অন্ধকারে চলাচল অনেক বেশি সুবিধা জনক।

 

 

৫. খাবার: হাইকিং এর সময় খাবার নিয়ে বেশি চিন্তা করতে না হলেও ট্রেকিং এর সময় এটা অনেক বড় একটা ঝামেলার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। হাইকেও কিছু হালকা খাবার সাথে রাখা জরুরী, কিন্তু সেগুলো মূলত হয় দ্রুত শক্তিবর্ধক ধরনের খাবার যেমন বিস্কুট, চকলেট, কিসমিস বা এরকম মিষ্টি জাতীয়। পথে ক্লান্ত হলে এগুলো চট করে বেশ ভাল শক্তি যোগায়।

ট্রেকিং এর ব্যাপার ভিন্ন, হালকা খাবারের পাশাপাশি এখানে ভারী খাবার সাথে নিতে হয়, আবার সেই খাবার রান্না করার জন্য ব্যবস্থাও সাথে রাখতে হয়। তাই সাথে নিয়ে যাবার ব্যাগে ওজন বেড়ে যায়। সবচেয়ে ভাল উপায় হল এমন কিছু নেয়া যেগুলো শুকনো, হালকা হয় আর সামান্য কষ্টেই রান্না করা সম্ভব হয়। নুডুলস একটা ভাল উপায় হতে পারে।

আর নুডুলস রান্না করাও সহজ, ছোট্ট একটা পাত্রে ছোট্ট করে আগুন ধরিয়ে কাজ সারা যায়। তবে অনেকে ভারী খাবার খেতে চান সারাদিনের পরিশ্রমের পরে, তারা চাল ডাল ডিম সাথে নিয়ে যান, আর তাই তাদেরকে ভারী রান্নার জিনিসও সাথে নিতে হয়।

 

Canp-1-5

৬. তাঁবু: হাইকে যান আর ট্রেকিং এ যান, তাঁবু জিনিসটা দরকার হয় প্রায়ই। একটা ভাল তাঁবু সাথে থাকা মানে হল খুব কম সময়ে একটা তুলনামূলক নিরাপদ রাতের আশ্রয় তৈরি করতে পারা। অনেক রকম তাঁবু আছে, আবহাওয়া এবং পরিবেশের উপরে নির্ভর করে আপনার কোন ধরনের জিনিস লাগবে। শুকনো আবহাওয়ার জন্য হালকা ধরনের তাঁবু আছে, যেগুলো বয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ এবং হালকাও বটে।

হালকা শীতে কাজে লাগলেও কিন্তু এই জিনিস আবার বর্ষায় কাজে আসবে না। আবার ভারী শীতের জন্য আলাদা দরকার। এটা নিয়ে অনেক বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ আছে, চেষ্টা করা হবে ভিন্ন পোস্টে আলোচনা করতে। সোজা কথায় বলতে, এমন একটা তাঁবু আপনাকে পছন্দ করতে হবে যেটা আবহাওয়া উপযোগী হবে আবার হালকাও হবে।

 

৭. মেডিকেল কিট ও সারভাইভাল কিট: মেডিকেল ইমারজেন্সী ঘটতে পারে যে কোন সময়েই। কাটা ছেড়া, রক্তপাত, মচকে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য একটা ফার্স্ট এইড কিট সাথে রাখা খুব জরুরী।

আবার সারভাইভাল কিট হল এরকম একটা ছোট্ট ব্যাগ বা বাক্স, যাতে থাকবে এমন কিছু টুলস যা আপনাকে বিভিন্ন পরিবেশগত ঝামেলা থেকে রেহাই দেবে। ছুরি-চাকু, সুই-সুতো, দড়ি, আগুন জ্বালাবার জন্য উপযুক্ত কিছু, অনেক কিছুই থাকতে পারে তাতে। এটা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ আছে ভিন্ন পোস্টে।

 

এগুলো মোটামুটি সাধারণ ধারণা, এর উপরে ভিত্তি করে আপনি আপনার ট্রিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে পারবেন বা কি করা উচিত তার ধারণা করতে পারবেন।

-এ


-->


সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: Photonews24@yahoo.com

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: shufian707@gmail.com