বৃহস্পতিবার , ২৪ অগাস্ট ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি’র সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সন্দেহভাজন ১০ সদস্য গ্রেফতার


র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি’র সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সন্দেহভাজন ১০ সদস্য গ্রেফতার




ফটো নিউজ ২৪ : 10/01/2017


15970092_1810794862517458_1702204030_nরাফে রাইন রাফি : এলিট ফোর্স র‌্যাব তার সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারনেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটকৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। উল্লেখ্য যে, সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে নাশকতা সৃষ্টি করাসহ পরিকল্পিতভাবে কোথাও বোমা বিস্ফোরণের সক্ষমতা না থাকলেও, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচলানা করে গত ০৮ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ রাজধানীর উত্তরা ও কলাবাগান এলাকা হতে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সন্দেহভাজন হিসেবে ১০ জন সদস্য (১) আবু সাদাত মোঃ সুলতান আল রাজী @ লিটোন (৪১), (২) আল মিজানুর রশিদ (৪১), (৩) জান্নাতুল মহল @ জিন্নাহ (৬০), (৪) মোঃ জিয়াউর রহমান (৩১), (৫) মোঃ কৌশিক আদনান সোবহান (৩৭), (৬) মোঃ মিজানুর রহমান (৪৩), (৭) মেরাজ আলী (৩০), (৮) মুফতি আব্দুর রহমান বিন আতাউল্লাহ (৩৭), (৯) মোঃ শাহরিয়ার ওয়াজেদ খান (৩৬) এবং (১০) শরিফুল ইসলাম (৪৬)’ দেরকে গ্রেফতার করা হয়। আবু সাদাত মোঃ সুলতান আল রাজী @ লিটোন (৪১) এর গ্রামের বাড়ী নবিনগর বি-বড়িয়ায়। তিনি খাজা ইকুইটি সার্ভিসেস লিমিটেড, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, মতিঝিল ঢাকায় কর্মরত আছেন। তিনি তার একমাত্র ছেলে সাকিন সাদাত আল রাজীকে কথিত আদর্শ স্কুল (লাইফ স্কুল) এ ভর্তির নিমিত্তে উত্তরা ঢাকায় আসেন এবং তার শিশু সন্তানকে প্লে, নার্সারী এবং কেজি-১ এ লাইফ স্কুলে অধ্যায়ন করান। তিনি তার মামাত ভাই লাইফ স্কুলের শিক্ষক আব্দুর রহমান এর মাধ্যমে লাইফ স্কুলে ২০১৫ সালের অক্টোবর/নভেম্বর মাসে মৃত মেজর জাহিদের সাথে পরিচিত হন। মৃত মেজর জাহিদের মেয়ে এবং তার ছেলে লাইফ স্কুলে একই ক্লাসে লেখা-পড়া করত। তিনি প্রায় ৩/৪বার মৃত মেজর জাহিদের বাসায় দাওয়াদ খেতে গিয়ে মৃত মেজর জাহিদের বাসায় ইসলাম সম্পর্কে আলোচনাসহ ল্যাপটপে সিরিয়া, ইরাক ইত্যাদি দেশে যেসব ঘটনা চলমান আছে সে সকল ঘটনা ইউটিউব হতে ডাউনলোড করে দেখাতেন। সে লাইফ স্কুলে হালাকা’তে অংশগ্রহণ করত। তার ভাষ্য মতে, তিনি মৃত জাহিদের অতি ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মৃত মেজর জাহিদ জঙ্গি সংক্রান্তে ঝামেলায় জড়ানোর কারণে তিনি ভয় পেয়ে/ঝামেলায় না জড়ানোর জন্য তার মোবাইল কল লিষ্ট হতে মৃত মেজর জাহিদের মোবাইল নম্বর ডিলিট করে দেন। মৃত মেজর জাহিদ যুক্তি তর্ক দিয়ে জঙ্গি সংক্রান্তকার্যক্রম সমর্থন করতে বললেও তিনি নব্য জেএমবি সমর্থন করতেন। আল মিজানুর রশিদ (৪১) তার বাড়ী রাজশাহী। আল-মিজানুর রশিদ আমান গ্রুপ-এ ২০১০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সিনিয়র ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিল। ঐ কারখানায় কাজের চাপের কারনে সে ধর্মীয় কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে না পাড়ায় চাকুরীটি ছেড়ে দেয় এবং Areanatis IT এর Business partner হিসাবে কাজ করা শুরু করে।মেজর আজমল (অবঃ) এর মাধ্যমে মেজর জাহিদের সাথে ২০১৬ সালের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে তার সাথে পরিচয় হয়। মেজর জাহিদ তাকে নব্য জেএমবিতে যোগদানে জন্য দাওয়াত প্রদান করে। জান্নাতুল মহল @ জিন্নাহ (৬০), তিনি ২০০৬ সালে হজ্জ্ব গাইড তৈরী করেন। এটি ২০০৭/২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে। Life School এর ৩য় তলায় প্রতি বছর হজ্বের আগে সে সপ্তাহে ৩/৪ দিন মহিলা হজ্জ্ব যাত্রীদের ক্লাশ নেয় এবং মেজর অবঃ জাহিদ, মাঈনুল এবং সুমনের স্ত্রীগন নিয়মিত তার হালাকায় অংশগ্রহন করত। সে এই ক্লাস নেওয়ার সুবাধে লইফ স্কুলের পিসটিভির আলোচক শহিদল্লাহ খান মাদানী, ডঃ সাইফুল্লাহ, ডঃ মঞ্জুর এলাহী এবং শায়খ আকরামুজ্জামান এর সাথে পরিচয় ছিল এবং শায়খ আকরামুজ্জামান তার লিখিত ইসলামিক গবেষণামূলকলক আরটিকেল সংশোধন করে দিত। মোঃ জিয়াউর রহমান (৩১) তিনি লাইফ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষক। লাইফ স্কুলে শায়েখ শহিদল্লাাহ খান মাদানী, অধ্যক্ষ, নাজিরা বাজার মাদ্রাসা এর নিকট সে ও শরিফল্লাাহ এবং মিজান সাহেব স্কুলের ইসলামীক দিক সমৃদ্ধি সম্পর্কে নির্দেশনা নিত। মাঈনুল ইসলাম তার প্রতিষ্ঠিত লাইফ স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন। মোঃ কৌশিক আদনান সোবহান (৩৭) সে ২০০৪ সালে Avery Dennison গুলশান-১, চৌরাস্তার মোড়, ঢাকাতে কাষ্টমার সার্ভিস পদে যোগদান করে বর্তমানে Business Analyst পদে কর্মরত আছে। শাহরিয়ার তার বিশ্ববিদ্যালয় এর বন্ধু। অতিসম্প্রতি কৌশিক শাহরিয়ারের সাথে সিরিয়া যাওয়ার ব্যপারে আলোচনা করে। মোঃ মিজানুর রহমান (৪৩) রবি থেকে ট্রেনিং এ গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, চায়না এবং নিজ খরচে ভারতে যায় । রবিতে ১৪ বছর কাজ করে ৩১ লাখ টাকা পায়। প্রথমে সোলার ব্যবসা করে। তাছাড়া লাইফ স্কুলে প্রতিষ্ঠায় ১৫ লাখ টাকা দেয়। বাহিরের মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে দুই বার হালকা হতো। মেরাজ আলী (৩০) ২০১২ সাল পর্যন্তসোনালী এক্সিম লিমিটেড এ চাকুরী করেছে। পরবর্তীতে, আবাসিক এলাকায় (হাউজ নং ২০, রোড নং-১৬, সেক্টর-১৩, উত্তরা, ঢাকা) একটি রুম ভাড়া নিয়ে হোম ডেলিভারীর ব্যবসা চালু করে। হোম ডেলিভারীর নাম ছিল “আস সাকিনা” হোম ডেলিভারী। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে, মেরাজ যখন ভ্যানে করে বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করত, তখন মেজর (অবঃ) জাহিদের পিতা একদিন উত্তরা সেক্টর-১৩ এ গাউসুল আযম জামে মসজিদ এর কাছে তার নিকট হতে মধু ক্রয় করে। তানভির কাদ্ধসঢ়;রীর সাথে মেরাজের পরিচয় হয় ডিসেম্বর ২০১৫ সালে। তারা উভয়েই গাউছুল আযম এ্যাভিনিউ জামে মসজিদে একসাথে নামাজ পড়ত। এছাড়াও, তানভির মেরাজের নিয়মিত কাস্টমার ছিল। তখন এক পর্যায়ে তানভির কাদ্ধসঢ়;রী মেরাজকে ব্যবসার কাজে কিছু অর্থ (৫০,০০০/-) টাকা দিয়ে সহায়তার পাশাপাশি যৌথ ব্যবসায় অংশিদার হয়। সেই অর্থ দিয়ে ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে একটি রুম ভাড়া নেয়া হয়। তবে তানভির কাদ্ধসঢ়;রী এই ব্যবসায় সময় দিতে না পারলেও তার দুই সন্তান আদর ও আবিদ দোকানে সময় দিত। তখন তানভির কাদ্ধসঢ়;রীর বাসা ছিল বাড়ী নং-৬২, রোড নং-১৩, সেক্টর-১৩, উত্তরা, ঢাকা। অক্টোবর ২০১৬ সালে টিভি ও পত্রিকার মাধ্যমে তানভির কাদ্ধসঢ়;রীর মৃত্যু সংবাদ পায়। পরবর্তীতে, বাড়ীওয়ালা তানভীরের জঙ্গী সম্পৃক্ততার বিষয়টি জেনে মেরাজকে ভাড়া করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ছাড়তে বলে। জানুয়ারি ২০১৫ সালে সেক্টর-১৩, উত্তরা এ কল্যান সমিতির মাঠে তানভির, মেজর (অবঃ) জাহিদ, মাঈনুল ইসলাম @ মুসাকে নিয়মিত একসাথে মাঠে ব্যায়াম করতে দেখেছে। মার্চ ২০১৫ সালে মেজর (অবঃ) জাহিদ মেরাজকে নব্য জেএমবির দাওয়াত দেয় গাউসুল আযম জামে মসজিদে শুক্রবারে মার্চ ২০১৫ সালে। জাহিদ এ বিষয়ে তাকে আধাঘন্টা বুঝায়। জাহিদ তাকে সিরিয়াতে যেতে বলে। জাহিদ তাকে বাংলাদেশেও কাজ করতে বলে। যারা পীর পুজা করে তাদেরকে প্রয়োজনে হত্যা করতে হবে বলে উদ্বুদ্ধ করে। মেজর (অবঃ) জাহিদ এবং মঈনুল ইসলাম মার্চ ২০১৫ সালে লাইফ স্কুল ত্যাগ করে। ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে মেজর (অবঃ) জাহিদ এবং তানভীর প্রায়ই ফোনে কথা বলত। তখন মেরাজের ব্যবসায়িক পার্টনার ছিল তানভীর। একবার তানভীর মোবাইল রেখে টয়লেটে গেলে তখন মেরাজ মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের জিহাদ ও জিহাদের প্রস্তুতি সংক্রান্তমেসেজ দেখে। মুফতি আব্দুর রহমান বিন আতাউল্লাহ (৩৭) লাইফ স্কুলে ২০১৩ সাল থেকে জুলাই ২০১৬ পর্যন্তশিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে লাইফ স্কুলের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শরীফুল ইসলামের মাধ্যমে চাকুরী ছেড়ে কহড়ষিধফমব ঐড়সব এ যোগদান করেন এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ এ আর্থিক জটিলতায় ছেড়ে দেন। শহীদল্লাাহ খান মাদানী (৪৭) প্রধান উপদেষ্ঠা লাইফ স্কুল এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ইসলামী বিষয়ে আব্দুর রহমানের জ্ঞান প্রাথমিক পর্যায়ে তার মতে। এদেশে একদল জিহাদী বিষয়ে অপব্যাখ্যা করে জঙ্গিবাদের দিকে যাচ্ছে। মেজর জিয়া ২০০৯/২০১০ সালে (ক্যাপ্টেন জিয়া) উত্তরখানে, ঢাকা একবার এসেছিল আকরামুজ্জান বিন আব্দুস সালামের সাথে দেখা করতে। আকরামুজ্জামান হলেন ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইনষ্টিটিউটের চেয়ারম্যান। তিনি মেজর জিয়া (বরখাস্ত) এর স্ত্রীর মৃত্যুর পর জানাযার নামাজ সেনা সদরে পড়েছিলেন। তখন আব্দুর রহমানের সাথে প্রথম দেখা হয়। এরপর আরেক বার উক্ত ইনষ্টিটিউটে আকরামুজ্জামের সাথে দেখা করতে অফিসে এলে দেখা হয়। মোঃ শাহরিয়ার ওয়াজেদ খান (৩৬) মেজর জাহিদ (মৃত), তানভীর কাদরী, লাইফ স্কুলের শিক্ষক মাঈনুল ইসলাম @ মুসার সাথে শাহরিয়ার মসজিদে পরিচয় এবং মেজর জাহিদ (মৃত), তানভীর কাদরী লাইফ স্কুলের শিক্ষক মাঈনুল ইসলাম @ মুসা এক সাথে নামাজ পড়ত। এখানে আউয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়া হয়। ইউকে তে আউয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়া হতো। লাইফ স্কুলে সে দাওয়া হালাকায় যেত যেখানে শহীদল্লাাহ খান মাদানী হালাকা করতে আসতেন। শহীদল্লাাহ খান মাদানী পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার মাদ্রাসার হাদিসের শিক্ষক। শরিফুল ইসলাম (৪৬) তিনি খরভব ঝপযড়ড়ষ উত্তরা এ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ হতে ০২ জুলাই ২০১৬ পর্যন্তপ্রিন্সিপাল ছিলেন। বর্তমানে তিনি “Knowledge Home” এর প্রিন্সিপাল (আগষ্ট ২০১৬ এ যোগদান করেন)। তার বড় বোন রেহানা (৫০) “Knowledge Home” এর মালিক। উক্ত স্কুল এ ০৮ জন টিচার এবং ০৮ জন ছাত্র ছাত্রী আছে। তার স্কুলে জান্নাতুল মহল মহিলাদের হালাকা পরিচালনা করত বলে জানা যায়। উক্ত হালাকায় গার্জিয়ান ছাড়াও অন্যান্য মহিলারা মাঝে মাঝে আসতেন। তার স্কুলে ডঃ মোঃ সাইফল্লাাহ এনটিভি’র ইসলামী আলোচক, শহীদল্লাাহ খান মাদানী, নাজিরাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল (পুরান, ঢাকা) এবং ডঃ মনজুর এলাহী (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গাজীপুর) পুরুষদের মাঝে মাঝে হালাকা দিতেন বলে জানান।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01723-980255,01919-972103
নিউজ রুম :01710-972103
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]