সোমবার , ১ মে ২০১৭


রাতে চেকার নাই চেকপোস্ট আছে!




ফটো নিউজ ২৪ : 10/01/2017


ঢাকা: রাজধানী ঢাকায় রাত ১১টার পর বিভিন্ন রাস্তায় চেকপোস্টের জন্য নির্ধারিত প্রতিবন্ধক থাকে। তবে তল্লাশি করতে চেকপোস্টে পুলিশের দেখা মেলে না। কোনও কোনও জায়গায় পুলিশ থাকলেও ঢিলেঢালা মেজাজে পান, সিগারেট খেতে দেখা গেছে তাদের। রাত ৮ জানুয়ারি (রবিবার) রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ধানমণ্ডি, হাইকোর্ট, মিন্টোরোড, ফার্মগেট, বিজয় সরণী, বনানী,ni গুলশান এলাকা ঘুরে চেকপোস্টের এমন চিত্র দেখা গেছে।

এঅবস্থায় ঢাকার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে প্রশ্নে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা যথেষ্ট নিরাপদ রয়েছে। রেগুলার চেকপোস্টের সবাই যথাযথভাবেই দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, কোথাও কিছু ঘটলে দেখা যাবে। সংসদ ভবনের উল্টোপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আয়েশ করে পান খেতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের রবিবার (৮ জানয়ারি) দিনগত রাত ১১.৩০টা। সংসদ ভবনের উল্টো পাশে ন্যাম ভবনের সামনে দেখা গেল পুলিশের একটি চেকপোস্ট। রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে ‘থামুন, পুলিশ চেকপোস্ট’ লেখা, ডিউটিতে আছেন চার পুলিশ সদস্য। তাদের একজন দূরে দাঁড়িয়ে পান খাচ্ছেন।

একজন পাশে বেঞ্চে বসে আছেন। দু’জন দাঁড়িয়ে আছেন ঠিকই, কিন্তু কোনও কিছু চেক করছেন না। কর্তব্যরত শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ মো. আলমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘সিএনজি আর রিকশা ভ্যান চেক করে প্রায়ই ফেন্সিডিল ও গাঁজা পাওয়া যায়।’ রাত ১১টা ৪৫ মিনিট। শঙ্কর থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের দিকে যেতে মীনা বাজারের একটু আগেই একটি চেকপোস্ট। ছবি তুলতে দেখে বসে থাকা পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় নেমে আসেন। এদের একজন নাম বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন,তাদের আরও লোকজন আছে। নিরাপত্তাও ভালো। রাত ১১টার বন্ধ করার কথা থাকলেও ১২টায়ও খোলা পাওয়া গেছে ধানমন্ডির ১১/এ সড়ক রাত ১২টা।

ধানমন্ডির ১১/এ থেকে শুরু করে ২/এ সড়কের সীমান্ত স্কয়ার পর্যন্ত একটি বাদে কোনও সড়কের প্রবেশমুখেই নিরাপত্তা বার নামানো ছিল না। ফলে অবাধে প্রবেশ চলছে। এখানে দাঁড়ানো এক রিকশাওয়ালা জানায়, ব্যারিকেড নামানো হয় না, রাস্তা খোলাইতো থাকে।


সীমান্ত স্কয়ার-সায়েন্স ল্যাব-এলিফ্যান্ট রোড- শাহবাগ দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেখা যায়, ছড়ানো ছিটানো ‘থামুন, চেকপোস্ট’ লেখা ব্যারিকেড। কিন্তু কোনও পুলিশ ছিল না। এরপর হাইকোর্ট ঘুরে এসে থেমে যেতে হয় মিন্টো রোডের মাথায়। রূপসী বাংলা থেকে মিন্টো রোডে ঢোকার মুখে ব্যারিকেড দেওয়া।

সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা পাশের বেঞ্চে বসা। মিন্টো রোডে প্রবেশের মুখে চেকপোস্টের রাস্তায় কোনও নিরাপত্তা প্রহরী নেই রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘ওটা আসলে চেকপোস্ট না। মন্ত্রীপাড়ার নিরাপত্তায় নিয়োগ করা। কোনও বিশেষ সংবাদ থাকলে তখন চেকপোস্ট বসানো হয়।’ ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণীর রাস্তায় ঢোকার মুখে বেশ চওড়া ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে।

সেখানে কোনও পুলিশ নেই। নভোথিয়েটারের সামনে একটি বেঞ্চে তিনজন পুলিশ বসা। প্রায় দশ মিনিট সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে ছবি তুলে চলে আসার মুহূর্তে তারা বেঞ্চ ছেড়ে উঠে এসে রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান। এখান থেকে চন্দ্রিমা উদ্যান হয়ে রোকেয়া সরণী ধরে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত পাঁচটি জায়গায় ব্যারিকেট থাকলেও কেবল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে দূরের বেঞ্চে পুলিশ বসে থাকতে দেখা যায়।

তাছাড়া কোনও ব্যারিকেডের সামনে পুলিশ ছিল না।


ধানমন্ডি দুইনম্বর রোড দিয়ে প্রবেশের মুখে কোথাও কোন চেকপোস্ট নেই- ব্যারিকেড সরানো এবিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিজি বিশ্বাস বলেন ‘আশেপাশেই ছিলেন কেউ না কেউ। আসলে রোজ চেকপোস্ট বসানো হয় না, কিন্তু ব্যারিকেড থাকে।’

বাংলামোটর পেরিয়ে ফার্মগেট-জাহাঙ্গীর গেট- মহাখালী- কাকলি হয়ে বনানীর কামাল আতাতুর্কে গিয়ে র‌্যাবের একটি চেকপোস্ট ও গুলশান-২ এ প্রবেশের সময় পুলিশের একটি চেকপোস্ট নজরে পড়ে। কিন্তু ১৫ মিনিটেও কাউকে দাঁড় করিয়ে চেক করতে দেখা গেল না দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের। বিজয় সরণীতে চেকপোস্ট আছে, চেকার নেই এর আগে রাত ১২.৪০ মিনিটে বনানী ১১ নম্বর সড়কে ঢুকতে নজরে পড়ে পুলিশের আরেকটি চেকপোস্ট। সেখানে তিন জন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। কথা বলতে চাইলে তারা জানান, আমাদের স্যার থানায় গেছেন। তিনি ছাড়া কথা বলা যাবে না।

আমরা এতক্ষণ আপনাদের ছবি তুললাম, এত রাতে আমরা কারা, সেটা জানতে চাইলেন না কেন, এ প্রশ্নে হেসে কোনও উত্তর দেননি। এবিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম ফরমান আলী বলেন, ‘জিজ্ঞেস করেনি কারণ পুলিশকে অতো বোকা ভাবার কিছু নেই। ওরা ঠিকই বুঝতে পেরেছে, বরং জিজ্ঞেস করলে আপনারা জানতে চাইতেন কেন জিজ্ঞেস করলো।

ওখানে সিসিটিভি আছে, আপনারা কি করেছেন সেটা দেখার ব্যবস্থাও আছে।’ কিন্তু পরে দেখে কী হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দরকার হলে দেখা হবে।’ উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন
ফটােনিউজ টােয়েন্টিফাের ডট কম/সাহেদ

<




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক: আবু সুফিয়ান
চেয়ারম্যান: মুসলিমা সুফিয়ান

কল: 01843-677188,01919-972103
নিউজ রুম :01613-601615
ইমেল: [email protected]

১২মধ্য বেগুনবাড়ি,তেজগাঁও শিল্প এলাকা,ঢাকা -১২০৮
ইমেল: [email protected]